পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আড়ি করবে। বউদিদি তখন বলিলেন, “ঐ যে বললাম শোবার ঘরে খাবার ঢাকা দিয়ে রাখার কথা, এঐ থেকে একটা পরাণো কথা মনে পড়ল। কারকে না বল ত বলি।” বিনোদ বলিল, “কারকে বলব না।” বউদিদি বলিলেন, “আমাদের তখন নতুন নতুন বিয়ে হয়েছিল। তোমার দাদা হুগলি গিয়েছিলেন সেখানে কি দরকার ছিল। অনেক রাতে ফেরবার কথা ছিল। শোবার ঘরে তাঁর খাবার ঢেকে রাখা হয়েছিল। আমি ঘামিয়ে পড়েছিলাম। তোমার দাদা এসে, আমাকে উঠিয়ে, আমাকে সমৃদ্ধ সেই পাতে একসঙ্গে খেতে বাধ্য করলেন।” বিনোদ শুনিয়া ভারি আমোদ অনুভব করিল। বলিল, “আমার দাদার এত বিদ্যে ! আমি ভাবি উনি চিরকালই বুঝি চশমা চোখে দিয়ে ভাগবত পড়েন।” সিথর হইল, আগামী কল্য ভোর রাত্রে বিনোদ কলিকাতা যাত্রা করবে। দেখিতে দেখিতে সন্ধ্যা হইল—আহারাদি হইল, শয়নের সময় উপস্থিত হইল। খোলা জানালার কাছে পালঙ্ক টানিয়া নববধর সহিত বিনোদ শয়ন করিল। বাহিরে বাগান, দিব্য জ্যোৎসনা উঠিয়াছে, মিষ্ট বাতাস বহিতেছে। বিনোদ অন্য দিনের অপেক্ষা আজ নীরব। শরৎকুমারী বলিল, “কি ভাবছ ?” বিনোদ বলিল, “অনেক দুঃখের কথা।” কি দুঃখ, শনিবার জন্য এই চতুদশবষীয়া বালিকা ব্যাকুল হইয়া উঠিল। বিনোদ বলিল, “আমি যদি বলি, তা হলে তুমি আর আমাকে ভক্তি করবে না।” শরৎ বলিল, “স্বামীকে নাকি আবার কেউ কখনও ভক্তি না করে ?” বিনোদ বধর মখের পানে চাহিয়া রহিল। দই চারি গুচ্ছ খলিত কুন্তল তাহার iসলাটে লটাইতেছিল। তাহার চক্ষম দিয়া সরলতা উছলিয়া পড়িতেছিল। বিনোদ বলিল, “আমি মহা পাষণ্ড । আমি তোমাদের সবাইকে ঠকিয়েছি।” বালিকা নীরবে বিনোদের পানে চাহিয়া রহিল। বিনোদ বলিতে লাগিল, “আমি মোতিহারিতে চাকরিও কারনে, আমার একশো কুড়ি টাকা মাইনেও নয়।” শরৎ বিস্থিত হইয়া বলিল, “তবে কোথায় চাকরি কর?” “কোথাও কারনে। এলাহাবাদে রেল অফিসে চাকরি করতাম, সে চাকরি গেছে। আর কোনও উপায় না দেখে, বিয়ে করে কিছু টাকা সংগ্রহ করব বলে এ ফন্দি করে এসেছি। জানতাম বড় চাকরি শনলে বিয়ে হতে এক দণ্ডও দেরী হবে না। তারপর টাকাকড়ি সব নিয়ে পালিয়ে যেতাম।” কিছ পাবে অগাধ সরলতায় ও প্রগাঢ় বিশ্বাসে বালিকা বলিয়াছিল, ‘স্বামীকে নাকি আবার কেউ কখনও ভক্তি না করে—কিন্তু সন্ধ্যাগমে দিবালোক যেমন দেখিতে দেখিতে কোথায় দ্রতপদে মিলাইয়া অদশ্য হইয়া যায়, স্বামীর প্রকৃত পরিচয়ে তার স্বামীভক্তিও কোথাও অন্তহিত হইতে লাগিল বালিকা ঠিকানা পাইল না। একটা দারণে আঘাতের বেদনায় নীরব হইয়া রহিল। বিনোদ বধরে সকল্ধে হাত দিয়া আবার বলিল, “বিয়ের আগে যখন বলেছিলাম, -কলকাতায় গিয়ে গহনা গড়াতে দেবো, তখন এই মৎলবেই বলেছিলাম। গহনা গড়াতে যাবার নাম করে এতদিন কোনকালে পালিয়ে যেতাম। তুমিই সব মাটী করে দিয়েছ।” শরৎ চট করিয়া, স্বামীর হস্তপশ হইতে কন্ধ সরাইয়া লইয়া বিছানায় উঠিয়া दजिल। दळ्ळि, “ज्ञाशि कि कहद्भछि ?” “তুমি সোণার শিকল হয়ে আমায় বেধে ফেলেছ—তোমায় ফেলে যেতে পারছিনে । অথচ থাকতেও পারিনে। থাকলে আজ বাদে কাল সব প্রকাশ হয়ে যাবে। লজ্জায় আর মাখ দেখাতে পারব না।” ক্ৰোধে ঘণায় লজায় বালিকার ক্ষম ব্যক ভরিয়া গিয়াছিল। তব জিজ্ঞাসা করিল, • ዓ» - سسمو .