পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“পালিয়ে কোথা যেতে ?” কিন্তু খাব লাভ।" - শরৎ সহসা বলিল, “আমি সঙ্গে যাব।” বিনোদও শয্যায় উঠিয়া বসিল ! আহসাদে বলিল, “তুমি যাবে শরৎ? পারবে ?” পারব। তুমি কি ভেবেছ তুমি চলে গেলে আমি এখানে বসে লোকের বাক্যযন্ত্রণা সইব? দেশসদ্ধ ঢী ঢৗ পড়ে যাবে—যার মথে যা আসবে সে তাই বলবে, আর আমি বসে বসে শািনব ?” বিনোদের আনন্দ মল্লান হইল। শরতের পলায়ন তবে আত্মসমপণ নহে—আত্মরক্ষা মাত্র। একটা পরে বলিল, “তবে দুজনে পালাই এস।” "কখন ?” "পরশ ভোরে আমার কলকাতা যাবার কথা। শোবার আগে হাতবাক্সে টাকা গুছিয়ে এই ঘরে এনে রেখে দেবো। - রাত একটা কি দুটোর সময় উঠে আমরা পালাব। কয়লার খনির কাছে একটা ছোট বাড়ী নিয়ে থাকব দুজনে। সম্পণে অজ্ঞাতবাস। জীবন নতুন বালিকা নববধর মনে রাগের ও দঃখের সঙ্গে সঙ্গে আর একটা কি ভাব বন্দ্ব করিতেছিল। মনের দয়ারে একটা কথা বারবার ধাক্কা দিতেছিল—তুমিই সব মাটী করে দিয়েছ। ভাবিতে মিন্ট লাগিতেছিল, তাহারই জন্য তাহার স্বামী পলায়ন করিতে পারে নাই—তাহাকে ফেলিয়া যাইতে পারে নাই। কাঁটাবনের মধ্যে যেন এই একটি মিন্ট ফল । সেই সখটকু মনের মধ্যে ওলটপালট করিতে করিতে সে রাত্রি সে ঘুমাইয়া পড়িল। পরদিন কাটিল। শয়নঘরে টাকার বাক্স লইয়া রাত্রে বিনোদ শয়ন করিল। ভোরে বউদিদি তাহাকে জাগাইয়া আসিতে দেখেন—কেহ নাই। শয্যায় তাঁহার সবামীর নামে এই পত্র পড়িয়া রহিয়াছে ৪— "শ্রীচরণেষ—েদাদা, আমি বউকে লইয়া পশ্চিম চলিলাম। আমি আপনাদের সকলকে ঠকাইয়াছি। আমি মোতিহারিতে চাকরি করি না। এলাহাবাদ রেল অফিসে একটি সামান্য চাকরি করতাম, মদ খাইয়া সেটি খোয়াইয়াছি। তখন নিরপোয় হইয়া জয়াচরি করিয়া বিবাহ করাই সিথর করি। অনুসন্ধানে পাছে ধরা পড়ি তাই ডিরেক্টারি খাজিয়া দেখিলাম, আমার নামের কেহ কোথাও ভাল চাকরি করে কিনা। দেখিলাম মোতিহারিতে একজন বিনোদবিহারী মিত্র ভাল চাকরি করে। তাহার বেতনের পরিমাণ মুখস্থ করিয়া বাড়ী আসিয়া বিবাহ করিলাম। “আমার এক পয়সাও নাই, আমার ক্যাশবাক্সে শােধ ভাঙ্গা কাঁচ বোঝাই করা আছে। বউদিদির পপহারও এখনও তৈরি হয় নাই! আমার বিবাহে যে হাজার টাকা পণ পাওয়া গিয়াছে তাহা হইতেই তাঁহার জন্য পাপহার গড়াইয়া দিবেন। গহনার হাজার টাকা সম্প্রবল করিয়া, ব্যবসায় করা সিথর করিয়াছি। যদি কোনও দিন নিজের স্বভাব ও অবস্থা সংশোধন করিতে পারি তবে আবার দেখা দিব। আপাততঃ প্রণামান্তে বিদায়। সেবকাধম। শ্ৰীবিনোদবিহারী মিত্র পত্র পড়িয়া বউদিদি সতভিত হইলেন। সত্য কথা বলিতে গেলে ঠাকুরপোর উপর ততটা রাগ হইল না। কিন্তু নিরপরাধা বৌয়ের স্বামীসঙ্গগ্রহণেই যেন বেশী খটকা লাগিল। মন আপনা হইতেই বলিতে লাগিল—কলি ! ঘোর কাঁল। আশিবন, ১৩০৮ } ~. ১৭১