পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আঘাতটা লাগিল। আমি সত্রশিক্ষার খবে পক্ষপাতী কিন্তু স্মীস্বাধীনতা জিনিষটা আচরণ কিছুই নতন নহে, তথাপি সতীশের ভাবাঁ বধ ভাব বঙ্গ বলিয়াই নতন করিয়া দীচক্ষে দেখিতে পারি না। আমার কাগজে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটা প্রবন্ধ লিখিয়াছি। ভবিষ্যতে আরও লিখিবার উপকরণ তখনই মাথার ভিতর গঙ্গাইতে লাগিল। খুব কড়াকড়া চোখা-চোখা বাক্যাবলী মস্তিকের ভিতর শ্রেণীবদ্ধ হইতে লাগিল। কিন্তু অলপক্ষণেই তাহদের ছত্রভঙ্গ হইয়া পড়িতে হইল। গাড়ী হইতে নামিয়াই সতীশ আমাকে সকলের কাছে ইট্রোডিয়স করিয়া দিল। এরূপ অকথায় কি করা উচিত না জানা থাকায়, আমি থতমত খাইয়া কোনও কথা বলিতে না পারিয়া মঢ়ের মত দন্তবিকাশ করিয়া নীরবে দাঁড়াইয়া রহিলাম। সতীশটার লজা সরম কিছুই নাই, নিমালার ভাইকে লগেজের সন্ধানে প্রেরণ করিয়া, নিন্মলার সঙ্গ জোঁকের মত ধরিয়া রহিল। নিশমলা একটা পরেই আমার সমীপবৰ্ত্তিনী হইয়া হাস্যমখে আমায় বলিল, “মন্মথবাবু, আমি আপনার কাগজের একজন নিয়মিত পাঠিকা।”—আরও যেন কি বলিতে বাইতেছিল, বলিল না। নিন্মলার মা বলিলেন, “পজোর “বৃঙ্গপ্রভা কবে বেরবে মন্মথবাব ?” আমি বলিলাম, “পজোর বঙ্গপ্রভা ? সে ত বেরিয়ে গেছে।” মিসেস সেন কন্যার প্রতি চাহিয়া বলিলেন, “পেয়েছিস ?” নিৰ্ম্মলা বলিল, “কই না।” আমি বলিলাম, “না না, মাফ করবেন। এখনও আপনাদের পাবার সময় হয়নি। এই কাল মোটে বেরিয়েছে। বিস্তর গ্রাহক, মফসবলে সব ডেসপ্যাচ একদিনে হয়ে ওঠে না कना !” - নিশমলা বলিল, “ওঃ—আমার বঙ্গপ্রভা প্রথমে ঢাকায় যাবে, তারপর ঠিকানা কেটে এখানে আসবে, তবে আমি পাব! আপনার কাছে একখানা নেই মন্মথবাব ?” বঙ্গপ্রভার প্রতি নিৰ্ম্মলার টান দেখিয়া আমার সম্পাদক-প্রাণ পালকিত হইয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া বলিলাম, “হ্যাঁ, আছে বইকি। আপনাকে কালই এক কপি পাঠিয়ে দেব।" নিশমলা বলিল, “বেশী কট করবেন না, সবিধে মত পাঠিয়ে দেবেন।” নিন্মলার মা বলিলেন, “মন্মথবাব, কাল বিকেলে আমাদের বাড়ী চায়ে আপনার নিমন্ত্রণ রইল, আসবেন।”—বলিয়া সাঁসমত অভিবাদনান্তর তাঁহারা চলিয়া গেলেন। আমি স্যানিটোরিয়ম অভিমুখে যাত্রা করিলাম। ভাবিলাম, শিক্ষা ও সংসগের এমনই গণে, বাঙ্গালীর মেয়েও কথাবাত্তায় এমন নিঃসঙ্কোচ হইতে পারে । রাত্রে বিছানায় ক্লান্তদেহ রাখিয়া সমাজতত্ত্বের অনেক কথা চিন্তা করিতে লাগিলাম। এই যে নতন শিক্ষার সঙ্গে নতন আচার ব্যবহার আমরা ইউরোপ হইতে আমদানি করিতেছি, ইহার ভাবী ফল কিরুপ দাঁড়াইবে ?—চিন্তা অধিক দর অগ্রসর হইবার পবেই নিদ্রিত হইয়া পড়িলাম। 11 W) ti পরদিন প্রভাতে উঠিয়া চা পান করিতে করিতে পাবদিনের ঘটনাগলি আলোচনা করিতে লাগিলাম। সমাজে সাণী পরষের অবাধ মেলামেশা আমি সামাজিক নীতির পক্ষে নিরাপদ মনে করি না। তাই ভাবিলাম চায়ের নিমন্ত্রণে যাইব না; নিজের বিশ্বাসবিরাধ কায করিব কেন ? বঙ্গপ্রভাখানা চাকর দিয়া পাঠাইয়া দিলেও চলিতে পারে। কিন্তু সতীশটা এমনই গদ্যভ—আসিল না। বোধ হয় নিম্নমালাকে ছাড়িয়া আসিতে পারিল না। মনে মনে উহাদের প্রেমলীলা ෆ්‍ර করিয়া কৌতুক অনুভব করিতে