পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মণিভূষণ তাঁহার বাটীতে সব্বদাই যাতায়াত করত। অনেকবার চা পান করিবার জন্য নমন্ত্রিত হইয়া, রাত্রি দশটা পৰ্যন্ত সে গর্গহে অতিবাহিত করিয়া গিয়াছে। অধ্যাপকের পরিবারস্থ সকল স্ত্রী-পুরুষের সহিত সে অবাধে মিশিতে পাইত। মণিভূষণ সকণ্ঠ গায়ক, চিত্রবিদানিপণে, চমৎকার করিয়া ইংরাজি ও বাঙ্গালা কবিতা আবৰ্ত্তি করিতে পারে, –এই সমস্ত গণের জন্য সে সকলেরই স্নেহভাজন হইয়া উঠিয়াছিল। কিন্তু সে যে সৰ্ব্বনাশ করিয়া বসিয়াছে! আপনার পায়ে আপনি কুঠার মারিয়াছে—এবং অন্যের পায়েও মারিয়াছে। দিনে দিনে অলেপ আলেপ সে অধ্যাপকের কুমারী কন্যা হিমানীর হৃদয় অধিকার করিয়াছে এবং নিজেও হিমানীকে ভালবাসিয়া মরিয়াছে ! মণিভূষণ হিন্দ– তাহার পিতা মাতা, আত্মীয় সবজন, সকলেই গোঁড়া হিন্দ । তাহাতে আবার সে বিবাহিত । থষ্টধৰ্ম্ম অবলম্বন করিয়া যে হিমানীর পাণিগ্রহণ করবে, সে পথও বন্ধ। সে ষে বিবাহিত, তাহা এই পরিবারে কাহারও অবিদিত ছিল না—হিমানীও তাহ প্রথমাবাঁধই জানিত । তাহাদের পরিণয় অসম্ভব জানিয়াও কেন তাহারা যে পরস্পরকে প্রথমে ভালবসিতে আরম্ভ করিল,—কেন যে সেই ভালবাসা অণ্ডকুরে বিনাশ না করিয়া মনোমধ্যে , দেহবারিসিঞ্চনে পরিপন্ট, পল্পবিত মঞ্জরিত করিয়া তুলিল, আমি তাহার কি সদাত্তর দিব ? উভয়ের মনোভাব যখন ক্লমে বিপজ্ঞজনক অবস্থায় পরিণত হইল, যখন জনাজানি হইল, তখন সেই প্রবীণ অধ্যাপক ও তাঁহার পত্নী, কি উপায় হইবে, এই পরামর্শ সিথর করিতে বসিলেন। ইহাদিগকে চিরদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন করিয়া দেওয়া ছাড়া আর অন্য উপায় দেখা গেল না। অধ্যাপক মিত্রের অন্তঃকরণটি বড়ই কোমল ছিল;-তিনি সাশ্রননয়নে মণিভূষণকে পরামশের কথা জানাইলেন। মণিভূষণ বন্ধিমান—রলিবামারই সন্মত হইল। কিন্তু বলিল—“যাহা হইবার, তাহা ত হইয়াই গিয়াছে, একবার হিমানীর নিকট জীবনের শেষ বিদায় গ্রহণ করিবার অনুমতি দিন৷” তাহার ভিক্ষামিনতিপণে সকাতর চক্ষ দুইটি দেখিয়া অধ্যাপক প্রত্যাখ্যান করিতে পারিলেন না--সন্মত হইতে হুইল । তাই আজ সন্ধ্যার পকেবা মণিভূষণ আসিয়া, সযত্নরক্ষিত হিমানীর ফোটোগ্রাফখানি, তাহার হাতের খান চারি পাঁচ পত—এই সাধারণ নিমন্ত্রণ পত্ৰ—হিমানীর উপহার একটি অতি শৰক পল্পগুচ্ছ এবং একখানি কবিতাপসেতক, এই সমসত প্রাণাপেক্ষা প্রিয়তর দ্রব্যগলি হিমানীর পিতার হস্তে সমপণ করিয়া হিমানীর সঙ্গে শেষ দেখা করিতে চলিল। আজ সমন্সত দিন হিমানী একাকিনী নিজকক্ষে অবস্থান করিয়াছে । কিয়ন্দরে টেবিলে তাহার ভোজনসামগ্রী অভুক্ত পড়িয়া। শরীর অতিশয় উষ্ণ। চক্ষু দাইটি রক্তকমলের মত বর্ণ ধারণ করিয়াছে। গণ্ডস্থলে অশ্রদ্ধারা একটিবার শুকাইবার অবসর পায় নাই। মণিভূষণ অতি সঙ্কুচিত পদক্ষেপে তাঁহার কক্ষে প্রবেশ করিল। জানালার কাছে টেবলের নিকট একখানি সোফায় হিমানী মাথায় হাত দিয়া বসিয়া ছিল, মণিভূষণ গিয়া সেই সোফায় উপবেশন করিল। ইতিপবে আর সে কখনও হিমানীর সহিত একাসনে বসিবার সােথ উপভোগ করে নাই। হিমানীর একখানি সুকোমল তপ্ত হস্ত লইয়া মণিভূষণ নিজ হস্তযুগলের মধ্যে রক্ষা করিল। কথা যাহাঁ যাহা বলিবে মনে করিয়া আসিয়াছিল, তাহার একটিও বলিতে পারিল না। সন্ধ্যা দশটার মেলে মণিভূষণ দেশে খাইবে। ধ্রুমে তাহার বিদায়গ্রহণের নিষ্ঠর মহন্ত নিকট হইতে, নিকটতর হইতে লাগিল । অনেক কটে আশ্ররোধ করিয়া গদগদ বরে দই চারি কথা বলিভে পারিল মাত্র। হিমানী ভাহার উত্তর দিতে চেষ্টা করিল, কিন্তু পারল না। তখন সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনাইয়া আসিয়াছে। ইহজগৎকে কেন জানি না মণিভূষণের পরজগৎ বলিয়া মনে হইতে লাগিল। হিমানীর অশ্বপ্নেীত ক্ষুদ্র সন্দর মুখখানি হাতে করিয়া তুলিয়া সেই বপালোকে নিরীক্ষণ করিল। আত্মবিসমতির মোহে সে সমাজ ভুলিল, নীতি ভুলিল, পাপপণ্য ভুলিল, BBBBBB BBBBB BBS SBBB BBBB BBBBB BBBBB BBBBB BB wుళ్