পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সতীশ বলিল, “এখন যাই। কেমন ঘর পেয়েছ দেখতে এসেছিলাম। চায়ের সময় দেখা হবে। আসছ ত?” আমি বলিলাম, “চয়ে ? আজ আর না। মিসেস সেন ত আমায় নিমন্ত্রণ করেন নি।” সতীশ বলিল, “করেছেন বইকি! আমি নিজে শুনেছি।” - “কোথা করেছেন ? শুধ বলেছেন আসেন যদি ” “বিলক্ষণ! ঐ ত নিমন্ত্রণ হল। তবে কি তোমার দরজায় এসে গলার বস্ত্র দিয়ে যথাশাস্ত্র নিমন্ত্রণ করে যেতে হবে নাকি? আচ্ছা সেকেলে তুমি ত হে ”ি আমি বলিলাম, “বল কি ? কিন্তু আমি ত আজ যেতে পারছিনে। না গেলে কি ভয়ানক অভদ্রতা হবে ? কি জানি, তোমাদের সব বিলিতি এটিকেট ফেটিকেট জানিনে ভাই।” সতীশ গভীরভাবে বলিল, “ভয়ানক অভদ্রতা হবে।” শনিয়া আমি নিজের প্রতি ভারি বিরক্ত হইয়া উঠিলাম। সেই সময় মিসেস সেনকে অন্ততঃ এইটুকু বলিলেই হইত, না কাল আর আসতে পারব না, একটা কাষ আছে—তা না করিয়া, এটা রীতিমত নিমন্ত্রণ হইল কিনা সেই মানসিক তকে ব্যস্ত রহিলাম; এখন এই অবস্থা। সতীশ হাসিয়া বলিল, “না না, ভয়ানক অভদ্রতা হবে না, অত চিন্তিত হয়ো না। শধে আবার দেখা হলে ক্ষম্য প্রার্থনা করলেই চলবে। কিন্তু আসবে না কেন ? না a —q5 lo প্রকৃত কারণ সতীশকে একা বলিতে ততদর উৎসাহ হইল না। আমি বললাম, “ওহে আজ একটা বিশেষ—” সতীশ, বলিল, “বিশেষ কায কাল হবে, আজ ত এস। অন্ততঃ আসতে চেন্টা কোরো ”—বলিয়া সে অন্তদধান করিল। আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিলাম, “যাই বল য়াই কও, আর আমি যাচ্চিনে।” কিন্তু সময় যত অগ্রসর হইতে লাগিল, বড় এক অনুভব করিতে লাগিলাম। পাজার 'বঙ্গপ্রভাখানা নিমালার কেমন লাগিল জানিবার জন্য একটা ঔৎসক্যও জন্মিল। বিশেষতঃ আমার সবলিখিত সেই নারী-জীবনের আদশ” প্রবন্ধটা সম্বন্ধে।—নিম্মলার শ্রেণীর আজি কালিকার আলোক-প্রাপ্তা নারীগণের জন্যই সে প্রবন্ধটা লিখিয়াছি কিনা। সে প্রবন্ধ পাঠ করিয়া নিৰ্ম্মমালার মতামত কিরাপ হইল তাহা জানা আবশ্যক।--সতরাং যাওয়াই সিথর করিলাম। 愉 & ü গিয়া দেখিলাম, ড্রইং রমে কেহ নাই। কিয়ৎক্ষণ বসিয়া আছি, নিম্মলা আসিলেন, হাস্যমখে নমস্কার করিয়া বলিলেন, “কি সৌভাগ্য! আপনার আশা ত আমরা ছেড়েই দিয়েছিলাম। বাবা, মা, সতীশবাব বাগান দেখতে গিয়েছেন। সতীশবাব বললেন আপনি আজ আর আসবেন না—ভারি ব্যস্ত আছেন। কোনও নতন লেখায় বুঝি ন” আমি বলিলাম, “হ্যাঁ, না—একটা কায ছিল, তাই ভাবলাম—" নিন্মলা বলিল, ”আচ্ছা, বঙ্গপ্রভায় রোজ ক’ঘণ্টা করে আপনার সময় যায় ?” “আমার সমস্ত সময়ই প্রায় বঙ্গপ্রভায় যায়। আমি ত বঙ্গপ্রভা নিয়েই আছি।” “বেশ আছেন। আমারও ইচ্ছে করে, আমিও ঐ রকম সাহিত্যচচ্চা নিয়ে দিনরাত থাকি। কিন্তু আপনায় কাছে এ মত ব্যক্ত করা বোধ হয় খুব দুঃসাহসের কায ?” “আপনি নারীজীবনের আদশ প্রবন্ধে যে সব কথা লিখেছেন-আপনার মতে, সীলোকের প্রশস্ত কর্মক্ষেত্র গহ, নিজের బ్యో অমনোযোগী হয়ে পরসেবায় আত্ম