পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিয়োগই যথার্থই নারীধৰ্ম্মম।” “আপনি তা হলে প্রবন্ধটা পড়েছেন ?” “পড়েছি বইকি; সব পড়ে ফেলেছি। কাল রাত্রে বিছানায় শয়ে পড়তে পড়তে ঘামিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভেঙ্গে দেখি—মোমবাতিটা শেষ অবধি পড়ে দাউ দাউ করে আমি বললাম, “ওঃ—ভাগ্যে কিছর ধরে-টরে যায়নি।” সিমতমখে নিমালা বলিলেন, “আপনার বঙ্গপ্রভা পড়তে গিয়ে যদি আমার মশারিতে আগন ধরে যেত, আমি পড়ে যেতাম, তবে এই দর্ঘটনা কাগজে কাগজে ছাপা হ’লে আপনার বঙ্গপ্রভার খুব একচোট বিজ্ঞাপন হয়ে যেত।" ইহার উত্তরে প্রথমটা আমার কথা যোগাইল না—শুধু একটা উপমা মাথার ভিতর ঘুরিতে লাগিল। যে মোমবাতি জলার কথা বলিতেছেন, এই সশিক্ষিতা নারীটি তাহারই মত কি সকোমল, অথচ তাহারই শিখার মত কি দীপ্তিমতী ? আমি একটা অর্থশন্য হাসি হাসিলাম, শেষে বলিলাম, "বাঙ্গলা সাহিত্যে আপনার এত ভক্তি বাঙ্গলা লেখেন না কেন ?” “আমি লিখলে কে পড়বে ? প্রথমতঃ, কে ছাপবে ?” আমার খুব সন্দেহ হইল, নিমালা গোপনে গোপনে লিখিয়া থাকেন। কিন্তু পাট জিজ্ঞাসা করিবার সাহস হইল মা। সম্পাদকীয় প্রসঙ্গে ছোট গল্পের কথা উঠিল। আমি বলিলাম—প্রতিমাসে একটা করিয়া ছোট গলপ দেওয়ার যে রীতি হইয়াছে, তাহাতে সময়ে সময়ে ভাল গলপাভাবে সম্পাদককে মাসিকলে পড়িতে হয়। - নিমালা বলিলেন, “আমার একটি বন্ধ ছোট গল্প লেখেন। আমার কাছে একটা রয়েছে। আপনি দেখবেন ?” এ বিপদের সম্ভাবনা জানিলে ছোট গল্পের প্রসঙ্গই উত্থাপন করিতাম না। সম্পাদকীয় ঘানি টানিতে টানিতে শিক্ষানবীসের অনেক গল্প আমাদিগকে পড়িতে হয়। কিন্তু এ একমাস আমি ছটি লইয়া পাহাড়ে বেড়াইতে আসিয়াছি।—তথাপি নির্যপায়। সতরাং নিৰ্ম্মলাকে বললাম, “তা দেবেন, দেখব।” ”দেখে আপনার যথার্থ মতামত আমায় বলতে হবে।” “তা বলব।” "আমার বন্ধ বলে কিছু ঢেকে বলবেন না ?” “আপনি যদি যথার্থ মতই শোনবার জন্যে উৎসক হন, তা হলে আমি যথার্থ মতই বলব।" নিৰ্ম্মলা তৎক্ষণাৎ উঠিয়া গেলেন। কয়েক মিনিট পরে, রল টানা ফলসক্যপে হাফ মাজিনে সন্দের সাবধান হসন্তাক্ষরে লেখা, লাল রেশমে কোণ গাঁথা একটি পাণ্ডুলিপি আনিয়া আমার হাতে দিলেন। প্রথম পৃষ্ঠায় চক্ষ রাখিয়া আমি বলিলাম, “নতন লেখক ?" নিমালা বলিলেন, “হ্যাঁ, কি করে জানলেন ?” “নতন লেখকেরা প্রায়ই বেশ ধরে ধরে যত্ন করে পাণ্ডুলিপি লিখে থাকেন। পরোনো লেখকদের হস্তাক্ষর প্রায়ই আপস্ট হয়।” এই কথা বলিয়া, সম্পাদকীয় অভ্যাসবশতঃ শেষ পৃষ্ঠা উলটাইয়া নাম খ:জিলাম। নাম নাই। শেষ পাঠায় চোখ বলাইয়া দেখিলাম, নায়ক বা নায়িকা বিষপান করিয়াছে কিনা। মতল লেখকের নায়ক নায়িকা শেষটায় প্রায়ই বাঁচে না। দেখিলাম নায়ক নায়িকা পাঁচিয়াই আছে--অনেকটা ভরসা হইল। সন্দেহ হইল, এ লেখা হয়ত বা নিৰ্ম্মলার নিজেরই। অনেক লাজক লেখক, প্রথম এক দল লিখে মােকসু কলাবাল বাল। సి