পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আলোচনা করিলাম। নিন্মলা গৌরীকান্তকে একেবারে পজা করেন বলিলেই হয়। লোকটার উপর আমার কেমন একটা বিজাতীয় ক্লাধ জমিতে লাগিল। £ q íi সতীশ এখনও সেন-দম্পতীর নিকট নিম্মলার পাণিপ্রার্থনা করে নাই। করিলে মঞ্জর হইবার সম্ভাবনা । আমার ত দঢ় বিশ্বাস, সতীশ যেরপ ডাক্তার সেনের জামাতৃপদাকাঙ্ক্ষী, ডাক্তার সেনও সেইরূপ সতীশের শ্বশুরত্বের জন্য সমংেসকে। এ কয়দিনের ভাব-গতি দেখিয়া ইহাই সপটি অনমান হয়। কিন্তু ঐ গৌরীকান্ত বিভ্রাট আমায় দুশ্চিন্তাবিত করিয়াছে। সত্ৰী পুরুষের মধ্যে পরম বন্ধত্ব আমি মোটেই বুঝিতে পারি না। এখন ব্যাপারটা এইরুপ দাঁড়াইতেছে। সতীশ ও নিমালার বিবাহ হইল। নিমালা বাঙ্গালা সাহিত্যের প্রতি বিশেষ অনুরাগশালিনী। সতীশ বাংগালা সাহিত্যের নামে জৰলিয়া যায়। এদিকে গৌরীকান্ত একজন প্রতিভাশালী লেখক, সে পথিবীর সমস্ত নারীজাতির মধ্যে বাছিয়া নিমেলাকেই তাহার সাহিত্য-সঙ্গিনী করিয়া লইয়াছে। আর, নিমালার মনও গৌরীকান্তের প্রতি একটা ভাবাবেগে আকৃষ্ট হইয়া পড়িয়াছে। ইহা একটা অজ্ঞাত বীজমবরাপ –ইহা হইতে ভবিষ্যতে কি জাতীয় তর, উদগত হইতে পারে তাহা কে জানে ? আমি ইহা হইতে দিব না। আমি আমার বন্ধর দাম্পত্যজীবন নিকণ্টক করিব । নিশমলা গৌরীকালেতর প্রজার জন্য নিজের মনের মধ্যে যে ভক্তিমন্দিরের প্রতিষ্ঠা করিয়াছে, সে মন্দির আমি সমালোচনার বঞ্জ দিয়া ভস্মীভূত করিব। দেখাইব, গৌরীকান্ত অপেক্ষাও প্রতিভাবান লেখক নব্যবঙ্গে আছে। আমি গৌরীকান্তের ভাষার ভুল ধরিব, ব্যাকরণের ভুল ধরিব, নতন পুরাতন পাশ্চাত্য সাহিত্য তন্ন তন্ন করিয়া ঘাঁটিয়া কোথায় গৌরীকান্তের কোন ভাবের সাদশ আছে আবিকার করব; পাশাপাশি ই স্থান উদ্ধত করিয়া গৌরীকান্তকে চোর বলিয়া জগৎসমক্ষে ঘোষণা করিব। এইরুপ প্রতিনিয়ত অধ্যবসায়ে নিমালার মনে বিশ্ববাস জন্মাইয়া দিব ষে তাহার প্রজার দেবতা মাটীর পুতুল মাত্র, ভিতরে শধ্যে খড়। সতীশকে, নিৰ্ম্মলাকে রক্ষা করিব, সে আত্মরক্ষারই সমান। ঘরের টাকা দিয়া এতদিন বঙ্গপ্রভা চালাইয়া আসিয়াছি । র সমালোচনার রাজদণ্ড ছোট বড় সমসত লেখকেরই বিভীষিকা। এবার সে দণ্ডের সাহায্যে বন্ধৰ্ব্বত্য সাধন করিয়া লইব। একবার মনে সন্দেহ হইল, তাহাতে সম্পাদকীয় কত্তব্যের হানি হইবে না ত ; কিন্তু অনকেল যুক্তি উদভাবন করিয়া মনকে সহজেই অখি ঠারিলাম। এইরুপ স্থির করিয়া, প্রথমতঃ মন্দরাণীখানার একটা ভয়ঙ্কর তীব্র সমালোচনা লিখিলাম। কাত্তিক মাসের কাগজের জন্য সমালোচনা কলিকাতায় পাঠাইয়া দিলাম। যথাসময়ে অডার প্রফে আসিল। অর্ডারে স্থানে পথানে সমালোচনা আরও তাঁর করিয়া দিলাম। সেদিন বৈকালে সতীশ আসিল । আমার টেবিলে নন্দরাণী দেখিয়া বহিখন উঠাইয়া লইল। আমি ব্যস্ত হইয়া বলিলাম, “উহ উহ্য ছয়ো না, এটা লাঙ্গালা বই ।” সতীশ বলিল, “এই বইখানা নিয়ে কদিন থেকে এমনই মেতে আছ যে একহস্তা আমাদের ওদিকে যাওনি। যখনই আসি তখনই দেখি এই বইখানা নিয়ে লিখছ, তাই এটা কেড়ে নিতে এসেছি।” আমি বলিলাম, “বইখানা সমালোচনা করছিলাম। এখন কেড়ে নিতে পার, শেষ ইয়ে গেছে।” -- “সমালোচনা শেষ হয়ে গেছে ?” “হ্যাঁ—এই কতক্ষণ অর্ডার প্রফে ডাকে দিয়েছি।” Jbr)