পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সতীশ বাংগালা সাহিত্যের খবর লইতেছে দেখিয়া ভাবলাম, হইল কি ? সতীশ আমার মুখ পানে চাহিয়া হাসিতে লাগিল। বলিলাম, "ব্যাপার কি হে ?” সতীশ বলিল, "এবার আমার জীবনের একটা গোপন কথা তোমায় বলি। শুধ নন্দরাণীর সমালোচনা তোমার কাগজে বেরবার অপেক্ষায় ছিলাম।” আমি অত্যন্ত বিস্মিত হইয়া বলিলাম, “নন্দরাণীর সমালোচনা! নন্দরাণীর সমালোচনার সঙ্গে তোমার জীবনের গোপন কথার যোগ কোথায় ?” বলিল, “বিশেষ যোগ আছে। আমিই গৌরীকান্ত রায়।” আমি আকাশ হইতে পড়িলাম। বলিলাম, “তুমি?" “আমি। দেখছ না—সতী মানে গৌরী, আর ইশ মানে কান্ত।” আমি বলিলাম, “তুমি ?” বলিবার সঙ্গে সঙ্গে চাকরকে ডাকবার জন্য ঘণ্টা বাজাইলাম। চাকর আসিলে টেলিগ্ৰাম করিবার কাগজ আনিতে বলিয়া দিলাম। সতীশ বালল—বিলাতে থাকিতে ব্রিটিশ মিউজিয়মে বসিয়া সমস্ত ভাল বাঙ্গালা বাঁহ মনোযোগের সহিত সে পাঠ করিয়াছিল। পরে লেখা অভ্যাস করিয়াছে। তাহার প্রথম উপন্যাস 'নন্দরাণী'র সমালোচনা রংগপ্রভায় বাহির হওয়া অবধি অপেক্ষা করিতে ছিল, তাহার কারণ, আগে জানিলে পাছে আমি তাহাকে অন্যায় প্রশংসায় বাড়াইয়া তুলি । চাকর টেলিগ্রামের ফম আনিল। ম্যানেজারকে সংবাদ পাঠাইলাম-নন্দরাণী সমালোচনার অডার প্রফে ডাকে দিয়াছি-কিন্তু উহা যেন ছাপা না হয়। তাহার পথানে অন্য একটা প্রবন্ধ দিতে বলিয়া দিলাম। সচ্চরিত্র በ S በ যে বধবারে গেজেটে খবর বাহির হইল সুরেন্দ্রনাথ সম্মানের সহিত বি-এ পরীক্ষায় উত্তীণ হইয়াছে, তাহার পরের বধবারেই ভাগলপরে হইতে তাহার কাকার মৃত্যুসংবাদ আসিল । সমরেন্দ্রনাথ বাল্যকালেই পিতৃহীন হয়। তাহাকে ও তাহার দই দাদাকে এই কাকাই ভাগলপরে রাখিয়া মানুষ করিয়াছিলেন, লেখাপড়া শিখাইয়াছিলেন;–সতরাং কাকার মৃত্যুতে সুরেন্দ্র দ্বিতীয়বার পিতৃহীন হইল। কাকা ভাগলপুরের একজন বড় উকীল ছিলেন ; সুরেনের দাদারা ভাল করিয়া লেখাপড়া শিখে নাই—তাহদের তিনি সামান্য চাকুরী জটাইয়া দিয়াছিলেন। তাঁহার ইচ্ছা ছিল, আইন পাস করিয়া সরেন ওকালতী করে;—স রেনও নিজের জীবনের গতি ঐ পথেই আঁকিয়া রাখিয়াছিল। হঠাৎ দেখিল, আইন পড়ার খরচা যোগাইবার আর কেহ নাই । * - সরেনের মাকে সকলে পরামর্শ দিলেন ছেলের বিয়ে দাও—*বশ্যর পড়ার খরচ ষোগাবে। কিন্তু সরেল বলিল, “কৃতী না হয়ে বিয়ে করব না।” আইন পড়িয়া উকীল হইবার মৎলবও সরেন ছাড়িতে পারিল না । মাকে বলিল, “কলকাতায় যাই, ছেলে পড়িয়ে কিছু উপাত্তজন করব, তাইতে আমার বাসা-খরচ চলে যাবে।” বিধবা মাতার সামান্য পাঁজি ভাঙ্গিয়া কয়েকটি টাকা লইয়া সুরেন্দ্র কলিকাতায় উপনীত হইল। আইন ক্লাসে নাম লেখাইল। কয়েক দিনের চেষ্টায়, দশটাকা বেতনের একটি প্রাইভেট টিউসনও জটিল; আর দশটি টাকা জটিলেই কোনও রকমে বাসা খরচের সংস্থানটা হইয়া যায়। কিন্তু এই দশটি টাকা জটিতে বড় বিলম্ব হইতে লাগিল। বাড়ী হইতে টাকা যাহা ४४२ -