পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বঝিস নিজের মনে যথেষ্ট বল নেই, চরিত্র ঠিক রাখতে পারবিনে, তাহলে অবিশ্যি নেওয়া উচিত নয়। সেইটে বেশ করে বঝে দেখ নিজের মনে।” নিজের চরিত্রের বলের প্রতি সরেনের অগাধ বিশ্বাস ছিল। এ কথায় তাহার আত্মাভিমান আঘাতপ্রাপ্ত হইল। সগবে রলিল, “সে জন্যে ভেব না।” রজনী বলিল, “তবে নে। টাকা নিয়ে কথা রে ভাই। যে টাকা দেবে তাৰ কাষ করব। আমনি ত আর টাকা নিচ্চিনে ৷” সরেন ভাবিয়া বলিল, “বাড়ীর লোক যদি শোনে ত কি বলবে ?” রজনী বলিল, “অতি গদ্যভ তুই বাড়ীর লোক জানবে কি করে ? এ কলকাতা সঁহর সমন্দির ! কে কার খবর রাখে—তুইও যেমন,!” গাড়ী এই সময় থিয়েটারে পৌঁছিল। রজনী বলিল, “তা হলে, কি বলিস ? অাজ আমোদিনীর সঙ্গে দেখা হবে আমার---কি বলব ?” সরেন একবার মনে করল বলি-না। আবার ভাবিল, এত তাড়াতাড়ি কি-না হয় দুদিন পরে বলব।’ বলিল, "রজনাঁদা, ভেবে তোমায় দুই একদিন পরে বলব।” বলিয়া বিদায় চাহিল। রজনী বলিল, “আচ্ছা, তা যে রকম হয় আমায় লিখিস, কিন্তু ঐ কথা রে ভাই। যদি বুঝিস নিজে ঠিক থাকতে পারবি, নিজের মনে এক চলে এদিক ওদিক হবে না— তবেই নিস। আমরা ত বয়ে গেছিই। তোরা এখন ছেলেমানষে আছিস-গোড়া থেকে সাবধান হওয়া ভাল।”-বলিয়া রজনী থিয়েটারে প্রবেশ করিল। সরেনও ধীরপদে ভাবিতে ভারিতে বাসায় আসিল। Ι: ο η সে রাত্রি সরেনের ভাল নিদ্র হইল না। অনেক ভাবিল। পরদিনও সারাদিন ভাবিল। তাহার মনে হইতে লাগিল, যদি কাযটা অস্বীকার করি তবে রজনীদাদা ভাবিবে, নিজের চরিত্রবলের প্রতি যথেস্ট বিশ্ববাস নাই বলিয়াই অগ্রসর হইল না। এই ভাবের সহিত—অথকৃচ্ছতাও মনে প্রবলয়পে আধিপতা করিতে লাগিল। পাঁচশ টাকা। দশ টাকা আর প’চিশ টাকা—পয়ত্রিশ টাকা। যদি মাসে কুড়ি টাকা করিয়া খরচ করি, তাহা হইলে পনেরো টাকা করিয়া জমিবে । তিন বৎসর যদি মাসে পনেরো টাকা কলিয়া জমে, তাহা হইলে পাঁচশত টাকারও উপর হাতে হইবে ; ওকালতী পাস করিয়া, তাহা লইয়া ব্যবসায় আরম্ভ করিতে পারব। তাকার ভাবিল, তিন বৎসর ধরিয়া যদি আমি ঐ বেশ্যার মেয়েটাকে পড়াই, তাহা হইলে কি জানাজানি হইতে বাকী থাকিবে ? ছি ছি ছি—সে বড় কেলেংকারি হইবে । অবশেষে স্থির করিল, এক কায করা যাউক। এখন কাযটা লই। এ দিকে অন্য প্রাইভেট টিউসন জটাইবার জন্য চে-টাও করিতে থাকি। আর একটা সুবিধামত জুটিলেই ওটা ছাড়িয়া দেওয়া যাইবে। রজনীদাদা যাহা বলিয়াছে ঠিকই বটে—পরিশ্রম করিব, টাকা লইক—কিরাপ লোকের টাকা অত আমার হিসাব করিবার দরকার কি ? জানাজানির ভয়টা যখনই মনে উদিত হইতে লাগিল, তখনই কিন্তু তাহার উৎসাহ ভারি কমিয়া যাইতে লাগিল। কিন্তু তাহারও ঔষধ রজনী দিয়া গিয়াছে। কলকাতা সহর সমন্দির—কে ‘কার খবর রাখে ? ভাবিয়া চিন্তিয়া রজনীদাদাকে চিঠি লিখিতে বসিল। চিঠি শেষ করিয়া, খামে ভরিয়া সতক সরেন্দ্রনাথ ভাবিল—কাগজে কলমে এর সাক্ষী সাবাদ রাখি কেন ? যাই, মখেই গিয়া রজনীদাদাকে বলিয়া আসি। চিঠি ছিড়িয়া, আগন জালিয়া পোড়াইয়া ফেলিল। বাহির হইয়া বউবাজারে রজনীদাদার বাড়ী গিয়া উপস্থিত হইল। দেখিল, বন্ধগণ সমভিব্যাহারে রজনী পাশা খেলি Sve