পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তেছে ও মদ খাইতেছে। সরেন খানিক বসিয়া খেলা দেখিল। একটা বাজি শেষ হইলে রজনী তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, “কিরে, খবর কি ?” সরেন বলিল, “খবর ভাল। একটা কথা বলতে এসেছিলাম।” রজনী বলিল, “ওঃ, আচ্ছা দড়িা।”—বলিয়া তাহার গেলাসের মদটকু নিঃশেষ করিয়া বলিল, “অায়।” দুইজনে একাকী হইলে রজনী বলিল, “কি ঠিক করাঁল ?” সমরেন বলিল, “নেওয়াই ঠিক করলাম ?” রজনী বলিল “তা বেশ; কিন্তু খুব সাবধান রে ভাই! ধাঁর মাছ না ছাই পানি, বুঝেছিস ত! তোকে জানি ছেলেবেলা থেকে তুই অতি সৎ ছোকরা, তাই সাহস করে তোকে এ কাষে যেতে দিচ্চি। আমি আমোদিনীকে গব্ব করে বলেছি যে তুই অতি সচ্চরিত্র, কোনও রকম খেলাপ হবে না।” সুরেন বলিল, “কেন রজনীদাদা, সচ্চরিত্রতা নিয়ে এত মারামারি কেন এসব লোকের ?” রজনী বলিল, “আঃ—এইটুকু বঝতে পারলিনে, বি-এ পাস করেছিস! অতি গন্দভ তুই। কেন, বলি শোন। আমোদিনী একজন মস্ত অ্যাকট্রেস। ওর ইচ্ছে, ওর মেয়েও একদিন একটা মস্ত অ্যাকট্রেস হয়। সেইজন্যে ভাল রকম লেখাপড়া শেখাচ্চে। ওরা প্রথম প্রথম মেয়ে পড়াবার জন্যে বড়োগোছ পণ্ডিত-টণ্ডিত রাখত; কিন্তু বড়ো হলে হবে কি—বড়োদের প্রাণে আবার বেশী সখ! পড়ায় না—খালি ইয়াকি দেয়। কেউ কেউ মেয়ে নিয়ে চম্পটও দিয়েছে। তাই ওরা এখন ভাল লোক চায়। কলেজের সচ্চরিত্র দেখে লোক রাখলে কোনও ভয় থাকে না—এই জন্যে আর কি—বঝেছিস ?" সরেন বলিল, “ওঃ—তা বটে।” ভাবিতে তাহার মনে বেশ একট, গব্ব হইতে লাগিল যে, সে একজন কলেজের ভাল সচ্চরিত্র শ্রেণীর লোক—নিজে যাহারা পাপ-পতেক নিমগন, তাহারাও এ বিশুদ্ধতার মাল্য বুঝে। রজনী বলিল, “তবে ঠিকানা দিচ্চি। কাল কি পরশ একদিন যাস—গিয়ে সব ঠিকঠাক করে নিস।” সুরেন বলিল, “না রজনীদাদা, আমি একলা যেতে পারব না।" “কেন ? মসজিদবাড়ী ট্রীট চিনিসনে ?” “তা চিনি, কিন্তু একলা যেতে পারব না রজনীদাদ।” “অতি গদ্যভ তুই ! আচ্ছা আসিস কাল বিকেলে, নিয়ে যাব এখন সঙ্গে করে।” পরদিন রজনী সরেনকে লইয়। গিয়া সমস্ত ঠিকঠাক করিয়া দিল। সরেনের ছাত্রীর নাম নলিনী। পড়ে মেঘনাদবধ, সীতার বনবাস, আর রয়্যাল রীডার খ্রী। মেয়েটি বেশ বৃদ্ধিমতী। আয় এমন শান্ত ও শিংট—যেন গহস্থঘরের মেয়ে। ইংরাজী কি পড়ে জিজ্ঞাসা করায় প্রথমে নলিনী বলিয়াছিল, রয়্যাল রীডার নম্বর থাড। সরেন সংশোধন করিয়া দিল, নম্বর থ্রী বলিবে, থার্ড হয় না। তখনই বিনীতভাবে ‘নম্বর থ্রী বলিয়া নিজেকে বালিকা সংশোধন করিল। শনিবার অবধি নিয়মিতভাবে সরেন তাহাকে পড়াইল। তাহাব মা আসিয়া মাঝে মাঝে পড়া শনিয়া যাইত। রবিবার ছটি—রবিবারে আর পড়াইতে যাইতে হইবে না। সমরেন মনে মনে বলিল, ‘আঃ বাঁচা গেল, আজ আর বেরতে হবে না।’ যতটা খসি হইবার কথা, মন কিন্তু ততটা খসি হইতে রাজি হইল না। বলিতে ভুলিয়া গিয়াছি, মেয়েটি পরমা,সন্দরী। পরের সপ্তাহে—পাঠের মাঝে মাঝে সরেন একটু আধট গল্প করিল। ভাগলপরের >ッや -