পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মিলিত করিল। হিমানীর চক্ষ মাদ্রিত ছিল : সে চমকিল, কিন্তু মুখ সরাইল না। সহসা যেন মণিভূষণের হৃদয়ে অশান্তির তুফান কিয়ং পরিমাণে প্রশমিত হইল। সে উঠিয়া হিমানীকে বলিল—“তবে যাই।”—“তবে আসি” কথাটাই মুখে আসিয়াছিল, কিন্তু সংশোধন করিয়া বলিল, “তবে যাই।” বলিয়া ঠিক মাতালের মত টলিতে টলিতে সেই গহ হইতে নিম্প্রান্ত হইয়া গেল। হিমানী সেই সোফায় মাখ লাকাইয়া লাটাইয়া পড়িল। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ উল্লিখিত ঘটনার পর তিনটি বৎসর অতীত হইয়া গিয়াছে। এই সময়ের মধ্যে আমাদের মণিভূষণের জীবনে প্রভূত পরিবত্তন ঘটিয়াছে। সামন্তপুর গ্রামের উত্তর সীমা হইতে কিছদরে সরস্বতী নামে একটি ক্ষুদ্র নদী প্রবাহিত। প্রস্থে চারি পাঁচ হাতের বেশী হইবে না। বৎসরের অধিকাংশ সময়ই হটিয়া পার হওয়া চলে। দুই তীরে আমবাগান, বশিঝাড়, ঝাউবন প্রভৃতি শাখাবিস্তার করিয়া দাঁড়াইরা সঘাতপ হইতে এই ক্ষীণতোয়া নদীটিকে রক্ষা করিতেছে। এই নদীর তীরে মণিভূষণের নবনিমিত আবাস গ্রহ। বাংলো ধরণের একটি ক্ষুদ্র বাড়ী। চারিপাশেব দেশী বিলাতী নানাজাতীয় ফল ফল ও পাতাব গাছ। বাগান ঘিরিয়া সবুজ রং করা লোহার রেলিং। এই গহে মণিভূষণ একাকী বাস করে। এখন তাহার বিস্তৃত ইষ্টকের ব্যবসায়। সরস্বতীর উভয়তীরে যতগুলি পাঁজা দেখা যাইতেছে, সমস্তই তাহার। যখন কলেজে মত্তিকার রাসায়নিক পরীক্ষা করিয়া সে জানিয়াছে, এই পথানের মত্তিকাই ইন্টক নিন্মাণের পক্ষে সববাপেক্ষা উপযোগী। বিলাত হইতে এই ব্যবসায় সমবন্ধীয় রাশি রাশি পনসত্তক আনাইয়া সে পাঠ করিয়াছে। এক বৎসরকাল ক্ৰমাগত টেস্টটদ্যুব ভাঙ্গিয়া এবং স্পিরিট পোড়াইয়া একটি চণ আবিকার করিতে সমর্থ হইয়াছে, যাহা কাদায় মিশাইলে ইন্টক বেশ লাল আর খুব শক্ত হয়। এই উৎকষের জন্যই মণিভূষণের ইষ্টকের অনেকদর পয্যন্ত এত অাদর । - এই গহে একটি অনতিপ্রশস্ত সসজিত কক্ষ আছে, সেটি মণিভূষণের আফিস। . খাতা ও পুস্তকভরা কাচের আলমারি, টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি সমস্ত আসবাবই সাহেবী কেতায় সজিত;—এমন কি চরাটের ছাই ঝাড়িবার পাত্রটি পয্যন্ত যথাসথানে রক্ষিত আছে। আজ বৈশাখের মধ্যাহ্নে মণিভূষণ আপনার নতজন আফিসগহে উপবিট হইয়া ইস্টকের হিসাব করিতেছিল না-কবিতা লিখিতেছিল। তাহার পরিচ্ছদও সাহেবী;-- খস্টানদের সঙ্গে মেলামেশা করার দরুণ পববাবধিই তাহার আদব কায়দা সমস্ত সাহেবী হইয়া গিয়াছিল। - মণিভূষণের সম্মখে যে একখানি সুন্দর বিলাতী বাঁধাইকরা খাতা রহিয়াছে সেখানি প্রেমের কবিতা পরিপর্ণ। এক একবার সে খাতাখনির এখানে ওখানে খলিয়া পড়িতেছিল,—আবার বন্ধ করিয়া রাখিতেছিল। কবিতাগুলি সমস্তই সন্ত্রীলোকের উক্তি । আবরণে লেখা, শ্ৰীমতী হিমানী দেবী বিরচিত। কিয়ৎক্ষণ কবিতা লেখার পর দেরাজ হইতে মণিভূষণ তিনখানি চিত্র বাহির করিল; —তিনখানিতেই হিমানী। প্রথমখানিতে হিমানীর কুমারী-বেশ; সন্দর ঢল ঢল মুখখানি; চক্ষা দিয়া সরলতা উছলিয়া পড়িতেছে; যেন কাহার নিকট কি শুনিয়া, ঈষৎ বিস্ময়ের হাসি হাসিতেছে। দ্বিতীয়খানিতে হিমানী বিবাহসাজে সজিতা;— মখে সলজ সরক্তিম হাসির আভা ফুটিয়া উঠিতেছে। চক্ষ আনত। হিমানী ধেন vరిక