পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অলপ আরও নানাদেশের গল্প, নানা বিষয়ের গল্প। গল্পের আধিক্যবশতঃ এক একদিন পড়ার কামাই হইয়া যাইত; সে অপব্যয়টুকু পরাইয়া দিবার জন্য মেদিন সরেন দুই ঘণ্টার একটা অতিরিক্তও থাকিত। দ্বিতীয় সপ্তাহাতে যে রবিবার আসিল, সেটা নিতান্তই নীরস মনে হইতে লাগিল । সেদিন নলিনীর কথা ভাবিতে ভাবিতে সে মনে করিল—আহা! মেয়েটির অদলেট কি আছে ? এখনও অনাঘ্ৰাত কুসমের মত নিৰ্ম্মল, বিধাতার সবহস্তনিমিত একটি শত্র আত্মা। এও কি পাপে পঙ্কিল হইবে —ইহাই ধ্রুব বিধান ? ইহার বিশুদ্ধতা রক্ষার কোন উপায় কি নাই ? সে রাত্রে সরেন স্বপন দেখিল, যেন নদীর ধারে একটা শালবন, সেই শালবনে যেন নলিনীর সঙ্গে সে বেড়াইতেছে। পরদিন পড়াইতে পড়াইতে বনের গল্পটা নলিনীকে সরেন বলিল। নলিনী বলিল, “কি করে স্বপ্ন দেখে বলন দেখি ?” সরেন বলিল, “এ সম্বন্ধে অনেক মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেন দিনের বেলা আমরা যা চিন্তা করি রাত্রে তাই স্বপন দেখি।” নলিনী বলিল, “না তা নয়। আমাদের আত্মা আছে কিনা। একজনকার আত্মা, যদি আর একজনকার আত্মার কাছে যায়, তাহলে দু'জনেই স্বপন দেখে। কিন্তু ঘাম ভাঙ্গলে শধ্যে একজনকার মনে থাকে, একজন ভুলে যায়।” সরেন বলিল, “বাঃ বেশ ত!” মাটারবাব আসিলে ঝি রোজ ঢোবলের উপর কয়েক খিলি পাণ রাখিয়া যাইত। একদিন সরেন বলিল, “আজকের পাণটা খুব ভাল হয়েছে অন্য দিনের চেয়ে।” নলিনী বালিকাসলভ গবে বলিল, “ভাল হয়েছে আজ ?—আমি সেজেছি আজ মাস্টার মশায় !” সরেন বলিল, “বটে । তুমি এমন পাণ সাজতে পার? আমাদের বাসায় যে পাণ সাজে, রাম রাম I” পরদিন পাঠান্তে বিদায় লইবার সময় নলিনী সুরেনকে বলিল, “আপনাদের বাসায় পাণ ভাল হয় না বলছিলেন, গোটাকতক পাণ তৈরি করেছি নিয়ে যাবেন ?” সরেন পাণ লইয়া সিনগধকণ্ঠে বলিল, “ভারি লক্ষয়ী তুমি ” নলিনীকে তাহার মাতা একটা স্বতন্ত্র রকমে পালন করিয়াছিল। তথাপি সরেনের কাছে নলিনী যে জগতের সংবাদ পাইত, সে জগৎ নলিনীর কাছে সম্পণে নতন; তাহার জগৎ, যে জগৎ আবাল্য তাহাকে ঘিরিয়া আছে সে জগতে এ জগতে কত প্রভেদ সরেন তাহার মার গল্প, কাকীমার গল্প, কাকার মেয়েদের বিবাহের গল্প যখন করিত, কি একটা অনিদিষ্ট আকাঙ্ক্ষায় নলিনীর হদয় ভরিয়া উঠিত। সবেনের জগতের সংবাদ নলিনীর কাছে পিপাসার শীতল জলের মত লাগত। সরেনের প্রতি নলিনী একটা অপর্বে আকষণ অনুভব করিতে লাগিল। নলিনীর কন্ঠস্বরের মধরতায়, যৌবনের নবীনতায় ও অন্তরের সরসতায় সরেনও যেন একটা নতন জগৎ অবিকার করিল। কিছু দিনে সে নিজের মানসিক পরিবত্তন লক্ষ্য করিল; কিন্তু কোনও প্রতিকার-চেষ্টা করিল না। বঝিল, মন তাহার বশের অতীত হইয়া গিয়াছে। ক্লমে ক্ৰমে সরেনের মনের অবস্থা এমন হইল যে নলিনীকে তাহার মন্দসংসগ হইতে উদ্ধার করাই সে তাহার একমাত্র পরিষোথ সিথর করিল। ইহাতেই তাহার মানব জন্মের সফলতা জ্ঞান কবিল। প্রেমের নিদ্দেশে কক্তব্যের পথ অতি সরল বোধ হইল। নলিনীর কাছে মনোভাব ব্যক্ত করিতেও বিলম্ব হইল না। তাহাকে শ্রদ্ধায়, আশায় ও সুখে পলপি ও উজ্জসিত কয় বাল-তু তো মম তো না গেল আদি