পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সখী হব না; আমায় না পেলে তুমিও সুখী হবে না। তোমাকে আমার ধৰ্ম্মপত্নী করব, লোকের কথার জন্যে ভয় করব না। পথিবী কি যথেষ্ট বহৎ নয় ? আমরা এমন কোথাও যাব যেখানে লোকগঞ্জনা আমাদের অনুসরণ করতে পারবে না। কি খাব ? পরিশ্রম করব;--অবশ্যক হয় দুজনে পরিশ্রম করব। দুবেলা না জোটে, একবেলা থেয়ে থাকব। তাতেও আমরা সুখে থাকব ।--” অন্ধকার হইয়া আসিতেছিল। ঝি আলো আনিল। সরেনের সম্মুখে নলিনীর অনুবাদের খাতা ছিল, তাহা সংশোধনের জন্য দক্ষিণ হস্তে সে কলম ধরিয়াছিল। কিন্তু তাহার বাম হস্ত নলিনীর হস্তে সংযুক্ত ছিল । যখন ঝির পদধ্বনি শনা গেল, তখন দুইজনই ত হইয়া হত সবাইয়া লইল, ইহার পর চারটি সপ্তাহ সরেন ও নলিনী পরপরের নেশায় ভরপর মাতিয়া রহিল । সোমবার বৈকালে পড়াইতে গিয়া সরেন শুনিল, নলিনী নাই—সে তাহার মাসীর বাড়ী গিয়াছে। আমেদিনী আসিয়া বলিল—নলিনী এখন মাসকতক সেখানে থাকিবে, কলিকাতার জলবায় তাহার সহ্য হইতেছিল না। আবার যখন আসিবে, যদি প্রয়োজন হয় তবে আবার আমোদিনী সুরেন্দ্রকে সংবাদ পঠাইবে । এই বলিয়া সরেনের প্রাপ্য আমোদিনী চুকাইয়া দিল। সরেন চলিয়া গেল, কিন্তু বাসায় গেল না। গড়ের মাঠে গিয়া একটি নিভৃত স্থান BBBB BBBS L BB BBB S BBD BB BBB BB BBBBB BBB নলিনীর কাছে বিদায় লইয়াছে, তখন নলিনী কিছুই জানিত নয় জানিলে অবশ্যই সরেনকে বলিত। সহসা এ কি হইল ? গিয়াছে, তাহাও দই চারি দিনের জন্য নয়। কয়মাস থাকিবে তাহারও অবধি স্থিরতা নাই। কলিকাতার জলবায় সহ্য হইতেছিল মা ! বাজে কথা। আজ দুইমাস প্রতিদিন তাহাকে দেখিতেছে, একদিনও ত সেরূপ মনে হয় নাই। অন্ধকার হইল; আকাশে নক্ষত্র, অদরে গ্যাস জলিয়া উঠিতে লাগিল। ক্রমে রাত্রি হইল । নলিনী একদিন তাহকে বলিয়াছিল, তাহার সম্মুখে অনেক বিপদ। সরেনের এখন মনে হইতে লাগিল, সেই কথার সঙ্গে এ ঘটনার কোথাও সংযোগ আছে। হয়ত তাহার মাতা তাহার উপর কোনও জলম করিতেছে। নলিনী এখন কি অবস্থায় কোথায় আছে, মনে করিতে সরেনের চক্ষ দিয়া টসটস করিয়া জল পড়িতে লাগিল। এই একমাসে কত ঘটনা, কত সুখ, কত হাসি, কত মিত্ট কথা মনে পড়িতে লাগিল । কত সবগ্ন দেখা—সেই সবনের জাগ্ৰং অনাকরণ, কত মানাভিমান মনে পড়িতে লাগিল । যত সনে পড়ে, তত যেন বক ফাটিয়া যায়। আর দেখা হইবে না। ক্ৰমে ঘাসের উপর সরেন শয়ন করিল। রাত্রি দশটা অবধি বালকের মত কাঁদিল । দশটা বাজিলে, উঠিয়া ধীরে ধীরে বাসায় আসিল । সপ্তাহ কাটিল; সপ্তাহ পরে শোক অনেকটা লম্ব হইল। তখন মনে হইল—উঃ খব বাঁচিয়া গিয়াছি! কোথায় ভাসিয়া যাইতেছিলাম ? কি সববনাশটাই হইতে বসিয়াছিল ! কি মোহেই পড়িয়াছিলাম! ভগবান এ জাল কাটিয়া দলেন-—এ পরম সৌভাগ্য। নিজে কাটিতে পারিতাম না। কোথায় গিয়া দাঁড়াইতাম কে জানে! যদি শনিতাম তাহার মাতা তাহার প্রতি অত্যাচার করিতেছে, তাহা হইলে হয়ত তাহাকে লইয়া কোথাও চলিয়া যাইতাম । তাহা হইলে জন্মের মত যাইতাম আর কি ! এ জীবনে সে ভাংগা আর যোড়া লাগিত না । দুই সপ্তাহ পরে সরেন সম্পণে সপেথ হইয়া উঠিল। পাজার ছটির আর দুই সপ্তাহ বাকী। কিনলে সনে বাসর ছাদে বেড়াইতে >v