পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বেচি মশাই ? পাঁচ টাকা ছেড়ে পঞ্চাশ টাকা দিলেও দিতাম না। সে বললে আমি সাপ মেরে ওষুধ তৈরি করব। হায় হায় হায়!” নাড়ী টিপিতে টিপিতে তাহার শখ কিন্তু ক্ৰমে প্রফুল্ল হইয়া উঠিল। বলিল, “কোন ভয় নেই, আপনাদের আশীব্বাদে আমার পণ্যির জোরে, তাকে দুটো বিষদাঁত ভাঙ্গা সাপ দিয়েছিলাম দেখছি। আঃ বাঁচলাম। নরহত্যার পাপ থেকে মুক্ত হলাম। বিষের কোনও লক্ষণই নেই—শুধু একটা রক্তপাত হয়েছে আর ভয়ে অবসন্ন হরে পড়েছেন। কোনও চিন্তা নেই।” দিদিমা বলিয়া উঠিলেন, “জয় মা দগা।" কত্তা বলিলেন, “নিশ্চয়ই জান, বিষ ছিল না ?” বেদিয়া রাগিয়া বলিল, “আমি আর জানিনে মশাই ? আমি হলাম গিয়ে সাপের রোঝা!” সে যাত্রা কত্তা রক্ষা পাইলেন। কিন্তু যতদিন বাঁচিয়া ছিলেন, খোট্টা চাকর আর বাড়ীর রিসীমানায় আসিতে দেন নাই। - বৈশাখ, ১৩o৯ ] ভুলশিক্ষার বিপদ বড়দিনের ছুটিটা মধ্যপরে গিয়া যাপন করিবার জন্য তাগাদার উপর তাগাদা পাইতৈছি; না গেলে আৱ চলে না। মধ্যপরে আমাদের একটি ছোট যাতগালা আছে । শীতকালে প্রায়ই আমাদের বাড়ীর কয়েকজন করিয়া সেখানে গিয়া অবস্থান করেন। এবার বড়দিদি নিজের পত্র কন্যাদের লইয়া সেখানে অবতীর্ণ; সরেন ভায়া এবার বি-এ পরীক্ষা দিবেন—তিনি সেখানে আপন পাঠ অভ্যাস এবং পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করিতেছেন। দিদির মেয়ে মিনি বা মেনকারাণী আমায় মারাত্মক রকম শাসাইয়াছে। লিখিয়াছে—এবার যদি তুমি না আসবে তবে আর তোমার মাথার একটিও পাকা চলে তুলে দেবো না—যাও । আর কি করিয়া থাকি ? সতরাং জিনিষপত্র গছাইয়া অপরাহ্ল তিন ঘটিকার সময় হাওড়া টেশনে উপনীত হইলাম। উঃ—সেদিন, কি ভীড় –কিন্তু একটা এই শুভগ্রহ, শুধু ভদ্রলোকের ভীড় । অধিকাংশই নব্যযবেক—উত্তম পরিচ্ছদে আবত সুগন্ধময়। সকলেরই মুখ প্রফুল্ল, হাস্য পরিহাসে প্রদীপ্ত। মনে হইল যেন কলিকাতার অধিকাংশ তরুণবিরহী যুক্তি করিয়া এই ট্রেণেই বশরালয় যাত্রা করিয়াছে। এরপ জনসংঘ ক্লান্তিজমক নহে—বরং তাহার বিপরীত। গাড়ী ছাড়িল। যবেকগণ উচ্চহাস্যে ও সিগারেটের ধ্যমে কক্ষবায় ভারাক্রান্ত করিয়া ব্যান্ডেল অবধি খুব ভীড় রহিল—তাহার পর হইতে একটা কমিতে আরম্ভ Fারল। পাণ্ডয়া স্টেশনে একটি পথািলকায় ভদ্রলোক আসিয়া আমাদের কামরায় প্রবেশ করিলেন। তাঁহার মাথায় একটি কালো কফটার পাগড়ীর আকারে জড়ান—চোখে রপার ফ্ৰেমযুক্ত চশমা, দেহটি একযোড়া সেকালের দৌড়দার হাঁসিয়াষাক্ত গঙ্গাজলী শালে আবত; পায়ে ফলমোজার উপর ইংরাজি জনতা। বয়স বোধ করি ষাটের কাছাকাছি হইবে। বাবটির সঙ্গে অনেক লোক আসিয়াছিল, জিনিসপত্রও বিস্তর। জিনিসপত্রে কামরা বোঝাই হইয়া গেল। নীচে হইতে একজন বলিল, “সব উঠেছে ত—একবার গণে নিন।’ শবণমাত্র বাবটি এক দই’ করিয়া উচ্চৈঃস্বরে জিনিস গণনা আরম্ভ করিলেন, গাড়ী ছাড়িবারও ঘণ্টা দিল । দুইবার গণনা করিয়া ৰাবটি বলিলেন, "ওরে ছ’টা কেন রে—কি ওঠেনি রে দাখন ५iror t” ~ eلام د `