পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তখন গাড়ী চলিতে আরম্ভ করিয়াছে। বাবটি হঠাৎ জানালা দিয়া মুখ বাহির করিয়া প্রাণপণে চীৎকার করিয়া উঠিলেন—“হাঁড়িটা—হাঁড়িটা-—” একজন গাড়ীর সঙ্গে সঙ্গে ছটিয়া আসিল, তাঁহার হাতে হাঁড়িটা দিতে গেল। কিন্তু তিনি ধরিতে পারলেন না; হাঁড়িটা পড়িয়া গেল। অমরা ভাঙ্গিয়া যাওয়ার শব্দটা শনিতে পাইলাম। ভদ্রলোকটি তখন ক্ৰোধে উন্মত্ত হইয়া সবেগে বেঞ্চের উপর বসিয়া পড়িলেন। উপস্থিত ব্যক্তিমণ্ডলীর মধ্যে আমাকেই একটা ‘মরবিব গোছ দেখিয়া বলিতে লাগিলেন —“দেখলেন মশাই ? একবার কাড়খানা দেখলেন ? দিলে হাঁড়িটে ফেলে ” আমি লোকটার এই নালিসে অত্যন্ত আমোদ অনুভব করিলাম। কন্টে হাসি চাপিয়া বলিলাম, “কি ছিল হাঁড়িতে ?” “মশাই-খাবার ছিল। এক হাঁড়ি খাবার ছিল—দটাকার মাল। গেল প্ল্যাটফর্মে পড়ে ধলো মাখমাখি হয়ে। ভোগে হল না। সেই বাড়ী থেকে পৈপৈ করে বলতে বলতে আসছি—ওরে দেখিস, যেন খাবারের হাঁড়িটুে ভুলে যাসনে—ওরে দেখিস, যেন খাবারের হাঁড়িটে ভুলে যাসনে —ত্য সেই খাবারের হাঁড়িটেই ভুলে গেল ? এক হাঁড়ি খাবার মশাই! ভোগে হল না। আমি আবার বাজারের খাবারগুলো খাইনে কিনা। 'ও তামার আদেী সহ্য হয় না। আমি যেখানে যাই, নিজের খাবার নিজে সঙ্গে করে নিয়ে যাই। আমার পিসিমা আজ ভোর পাঁচটার সময় উঠে লুচি ভাজতে বসেছেন। (এখানে বাবটি আঙুল গণিতে আরম্ভ করিলেন) লুচি ছিল, কচুরি ছিল, আলভাজা ছিল, বেগুনভাজা ছিল, মোহনভোগ ছিল মোলনাইয়ের গোল্লা ছিল আধসের-মোলনাইয়ের গোল্লা খেয়েছ কখন ?” বক্তৃতার আরম্ভ হইতে সহযাত্রী যবেকগণ মখ টিপিয়া হাসিতেছিল; এই প্রশ্নে হাহা করিয়া হাসিয়া ফেলিল। আমি যথোচিত গাভীয" সহকারে বলিলাম, “কই মনে ~ত পড়ে না।” বাবটি বলিলেন, “তা হলে খাওনি। খেলে মনে থাকত। সে ভোলবার জিনিস নয়।” আমি বললাম, “খবে সম্ভব।” “মোল নাইয়ের গোল্লার নামডাক শোলনি ?” “না-ও বিষয়ে বড় চচ্চ রাখিনে ৷” “কোথা থেকে আসছ ?” “কলকাতা ।” “নিবাস?” “কলকাতা।” “আঃ-নিতান্ত ক্যালকেশিয়ান তুমি! আচ্ছা মোলনাইয়ের গোল্লার একটা গল্প বলি শোন। দাঁড়াও তামাক একছিলিম সেজে নিই।” এই বলিয়া তিনি তামাক সাজিতে লাগিলেন। এতকাল রেলপথে যাতায়াত করিতেছি, এমন অদ্ভুত মনতুষ্যের সঙ্গে কখনও সাক্ষাৎ হয় নাই। হায় হায়, এমন বক্তা বঙ্গীয় রাজনীতিক্ষেত্রে পথান পাইল না ! মনে করিলাম, একটা বড় সুবিধা হইয়াছে। মধ্যপরে ট্রেণটা পৌছে অতি বিস্ত্রী সময়ে—ঠিক ঘমের সময়। ঘুমাইয়া পড়িলে মধ্যপর ছাড়িয়া যাওয়ার আশঙ্কা। এই বাগ্মীবরের কল্যাণে জাগিয়া থাকিতে পারিব; নিদ্রাদেবী দরে থাকিয়া নিজ মান রক্ষা করবেন। তামাক সাজিতে সাজিতে বন্ধ বলিলেন, “বাবর নাম ?” “মহানন্দ চট্টোপাধ্যায়।” “আমার নাম শ্ৰীমদনগোপাল দেবশমা মুখোপাধ্যায়। নিবাস মোল নাইয়ের নিকট ইলছোবা গ্রাম। জেলা বন্ধমান। যজ্ঞেশবর পণ্ডিতের সন্তান আমরা, নৈকষ্য কুলীন । যজ্ঞেশবর পণ্ডিতের সাত পত্র ছিলেন— సె8