পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


টিফিন বাস্কেটটি বেঞ্চের উপর তুলিয়া, খলিয়া বলিলাম, “মদনবাব –আপনি খাবার যা এনেছিলেন, তা ত গেল। আমার সঙ্গে কিছু খাবার রয়েছে। যদি আপত্তি না থাকে আপনার, তবে দ’জনে খাওয়া যায়!” মদনবাব আমার বাস্কেটের প্রতি ঔৎসুক্যপণে নেত্রপাত করিয়া বলিলেন, “কি আছে তোমার ওতে?" - আমি (আঙ্গল না গণিয়া) বলিলাম, “রটি আছে, ডিম আছে, দতিন রকম মাংস আছে মাখন-টাখন আছে।” “হিন্দু মাংস ? হোটেলের নয় ত ?” “মাংস হিন্দ । আমার বাড়ীর ব্রাহ্মণের পাক করা, শধ রটটি হোটেলের—নইলে আর সব জিনিস বিশুদ্ধ হিন্দমতে তৈরী।” মদনবাব বলিলেন, "তা হোক, হোটেলের রটিতে আপত্তি নেই। যখন কলকাতায় ছিলাম, ইংরেজি পড়তাম, তখন হোটেলের রীটি ঢের খেয়েছি। কত কি খেয়েছি । সে সব দিনে ছাত্রসমাজ ভারি উচ্ছৃংখল ছিল।”—বলিয়া তিনি হাস্য করিতে লাগিলেন। আমি আর বাক্যব্যয় না করিয়া, মাংসাদি বাহির করিয়া প্লেট সাজাইলাম। জিজ্ঞাসা “না ভাই, ওসব পোষাবে না। দাও হাতে করেই খাই।” খাইতে খাইতে মদনগোপালবাব হিন্দুধৰ্ম্ম-বিষয়ক এক বক্ততা আরম্ভ করিলেন। তাহার সার মত এই যে, মসলমানের হাতে খাইতে নাই এ কথা শাসে পাওয়াই যাইতে পারে না ; কারণ শাস্ত্র যখন তৈয়ারি হইয়াছিল তখন মুসলমান জন্মগ্রহণই করে নাই। তাহারা যখন আসিয়া আমাদের উপর অত্যাচার উৎপীড়ন আরম্ভ করিল, তখনই আমরা তাহাদের প্রতি বিদ্বেষবশতঃ এ প্রকার লোকাচারের প্রবত্ত না করিলাম । মাংস ফরাইলে মদনবাবকে বলিলাম, “রটি আরও রয়েছে। মাখন আছে, জ্যাম আছে, মামালেড় আছে, কি নেবেন ?” মদনগোপালবাব বললেন, “ম্যমালেড ? মামালেড ?—মামালেড় দাও একটা খেয়ে দেখি—কখনও খাইনি।” * দিলাম। আহারান্তে গেলাসে জল লইয়া জানালার বাহিরে তিনি হাত মুখ ধুইয় ফেলিলেন। আবার শালখানি উত্তমরূপে দেহে জড়াইয়া বেঞ্চের উপর পা তুলিয়া উপবেশন করিলেন। তাঁহাকে আর একটা চারটি দিতে চাহিলাম, কিন্তু তিনি বলিলেন—“নাঃ—তামাক সাজি । হাকো কলকের কাছে কেউ লাগে নারে দাদা।” তামাক সাজা হইলে আমি বলিলাম, “কই মদনবাব! সে মোলনাইয়ের গোল্লার গল্পটা বললেন না ?” x - তিনি বলিলেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ—ভুলে যাচ্ছিলাম। আমাদের আমলের কথা নয় এ-– আমরা গলপ শুনেছি।—গলপটা এই। বন্ধমানের মহারাজ মোলনাইয়ের গোল্লা খেয়ে ভারি খসী। তাই মহারাজ হুকুম করলেন—মোলনাইয়ের যে প্রধান মোদক, তাকে নিয়ে এস, বন্ধমানে বসে সে গোল্লা তৈরি করক। রাজার হকুম, কি করে, প্রধান মোদক চাট খন্তী নিয়ে বদ্ধমানে উপস্থিত হল। গোল্লা তৈরি করলে, কিন্তু সে রকম সবাদটি হল না। রাজা বললেন—মোদকের পো ! কই সে রকম ত হল না!" মোদক ষোড়হস্ত করে বললে (এই প্ৰথানে মদনগোপালবাব স্বয়ং ষোড়হাত করিলেন।–“মহারাজ ভয় ক’ব না নিভায় ক’ব ? মহারাজ বললেন—ভয় ছেড়ে নিভয় কও ; মোদক বললে— মহারাজ ! মোল নাই থেকে আমাকেই নিয়ে এসেছেন, মোল,নাইয়ের মাটিও আনতে পারেন নি, মোল নাইয়ের জলও আনতে পারেন নি। —বলিয়া মদনবাব অত্যন্ত হাসিতে ও কাসিতে লাগিলেন। তাঁহার হাসি ও কাসি থামিলেই বলিলেন, “মোল নাইয়ের গোল্লা না খেলে তার মক্ষম বুঝতে পারবে না। আচ্ছা আমি কাশী থেকে ফিরে আসি দাঁড়াও । షో