পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মদনগোপালবাব আবার মুখ ভেগাইয়া বলিলেন, “মশাই কি আগে আমায় সে কথা বলেছিলেন । তুমি কেন সেই সময়ে বল্পে না যে ওতে কমলানেব আছে ?” লোকটার ব্যবহার দেখিয়া রাগে আমার সববৃশরীর জনলিতে লাগিল। আমি বলিলাম, “আপনি ভদ্রতার সীমা লঙ্ঘন করছেন।” “যাও যাও ঢ়ের দেখেছি তোমার মত কলকাতার বাব । ‘সীমা লঙ্ঘন করছেন!" ভদ্রতা শিক্ষা দিতে এসেছেন! ছরেী কাঁটা দিয়ে মাংস খেতে জানলেই ভদ্রলোক হয় না। একজন নিরীহ ব্যক্তি যা খায় না, তাকে তাই খাইয়ে দেওয়া খুব ভদ্রতা " আমি বললাম, "ক্ষিধেয় মরছিলেন–নিজের খাবার থেকে খেতে দিলাম, বেশ প্রতিফুল তার !” "ক্ষিধেয় মরছিলেন বইকি ! তোমার কাছে কোঁদে পড়েছিলাম খাবার জন্যে!" বিরক্ত হইয়া বললাম, “যা ইচ্ছে হয় বলন।”—বলিয়া আমি কবল মুড়ি দিয়া বেঞ্চে শ্যইয়া পড়িলাম। বাবটি অনগ'ল বকিয়া যাইতে লাগিলেন। কমে তাঁহার সবর নরম হইয়া আসিতে লাগিল। পণ্ডিয়া স্টেশনে খাবারের হাঁড়ি লোকসানের শোক নতন করিয়া উথলিয়া উঠিল। বলিতে লগিলেন, খাবারের হাঁড়িটে যদি সঙ্গে থাকত, তা হলে ত আর এ বিপত্তি হত না P ইত্যাদি, ইত্যাদি। ভাবিলাম লোকটা দেখিতেছি বন্ধ পাগল। অনেক বকিয়া বকিয়া বোধ হয় শ্রান্তি বোধ হইল; তখন তামাক সাজিতে বাঁসলেন, শব্দে জানিতে পারলাম। তাহার পর ধুমপান করিতে লাগিলেন। আমি কবলে মুখ ঢাকিয়া নিদ্রার চেষ্টা করিতেছিলাম, কিন্তু নিদ্রা আসিল না। মদনব্যর অনেকক্ষণ ধরিয়া তামাক খাইলেন। ক্লমে গাড়ী আসিয়া আসানসোলে থামিল। মদনবাব জানালা দিয়া গলা বাহির করিয়া বলিলেন, "চাপরাশি-ও চাপরাশি।” কে একজন জানালার কাছে আসিল। তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “বাপু ক’টা বেজেছে বলতে পার ?” সে বলিল, “সাড়ে এগারোটা বেজেছে। . - “মধ্যপরে কখন গাড়ী পৌছবে ?" বারোটা।” ভাবলাম আমার উপর লোকটার এতই ক্ৰোধ হইয়াছে যে আমি না নামিয়া গেলে— পাপ না বিদায় হইলে—আর সস্থির হইতে পারিতেছেন না। গাড়ী ছাড়িল । কিয়ৎক্ষণ পরে আমার কবলের উপর হস্তপশা অনুভব করিলাম। "সদানন্দবাবা-ওঠ।” আমার নাম সদানন্দ নয় সতরাং আমি উত্তর করিলাম না। “ভায়া-ওঠ। মধ্যপরে এল বলে। ওঠপ” আমি মুখ হইতে কবল খলিলাম। “ভায়া, রাগ করেছ?” আমি উঠিয়া বসিলাম । শকিভাবে বললিাম, "কেন, সব রাগ কি আপনারই একমেটে নাকি ?” ধীরে ধীরে আমার পিঠ চাপড়াইয়া বদ্ধ বলিলেন, “না না রাগ কোরো না। বড়ো মানুষ, যদি দটো কথা বলেই থাকি, তাতে কি আর রাগ করতে হয় ? হঠাৎ মেজাজটা গরম হয়ে উঠেছিল। সব দোষটাই তোমার বলে মনে হয়েছিল। আমায় মাফ কর।” ভাবলাম মনুষ্যচরিত্র এই রকমই বটে ; এখনও বলিতেছেন সব দোষটাই তোমার বলে মনে হয়েছিল। অথাৎ এখনও মনে এই বিশ্ববাস রহিয়াছে যে, সবটা না হোক, অন্ততঃ কিছটা দোষ আমার তাহাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু বন্ধের সবর এমন কোমল ও কারণ্যপণ যে তাঁহার প্রতি পাব বিরাগ তখন আমি মন হইতে বিদারিত করিয়া ফেললাম। సిk;