পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ক্ষমাসচক একটু হাস্য করলাম। মদনবাব বললেন, "কমলানেব আমি কেন খাইনে, তা যদি তোমায় খলে বলি, ত তুমি বুঝতে পারবে।” মদনবাবর মুখ চক্ষ যেন কালিমাময়। একট কাসিয়া বলিলেন, “শনবে ?”— তাহার স্বর অত্যন্ত নীচ। তিনি আরম্ভ করিলেন, “সে বিশ বছরের কথা, আমি একটা মানুষ খন করেছিলাম।” আমি শিহরিয়া উঠিলাম। বলিলাম, “মানুষ খনে ?” “খন বইকি! সে খনই বলতে হবে। শোন। দোসরা মাঘ আমার বড় মেয়ের বিয়ে দেবো বলে পৌষের শেষে কলকাতায় গিয়েছিলাম বাজার করতে। একটা মেসের বাসায় গিয়ে উঠেছিলাম, সেখানে সব কলেজের ছেলেরা থাকত। কোনও ঘরে জায়গা ছিল না, শধ্যে একটি ঘরে একটু জায়গা ছিল, সে ঘরে একজন জররোগী পড়ে ছিল, আর তার শালাও সেই ঘরে থাকত। ভগ্নীপতির নাম কেদার, শালার নাম প্রবোধ । ভগ্নীপতিটি বাঙ্গাল—বয়স কুড়ি বাইশ হবে। প্রবোধ তার চেয়ে দ্য তিন বছরের ছোট ছিল। প্রবোধ কলেজ কামাই করে ভগ্নীপতির খুব সেবাটা করত। ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওষুধ খাওয়ান, তাপ নেওয়া, মাথায় হাত বালানো, পায়ে হাত বদলানো, রাত্রে দরবার তিনবার করে উঠত। কদিন ছোকরা খাব লাটোপটি খেয়ে, একদিন কতকটা সন্থ হল। জরটা অনেক কম দেখা গেল ! আমি সেইদিন সন্ধ্যেবেলা বাড়ী যাব। সকালে মাধববাবর বাজার থেকে ভাল দেখে একশোটা কমলানের কিনে আনলাম। প্রবোধকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাগী মানুষ—এ ঘরে নেবাগলো— প্রবোধ বললে—‘পাগল হয়েছেন ! তা কোনও চিন্তা নেই, সবচ্ছদে রাখুন। রেখে আমি আবার বাজার করতে বেরলাম, প্রবোধ ভগ্নীপতি একটু ভাল আছে দেখে ক'দিনের পর কলেজে গেল। সন্ধ্যেবেলা বাসায় এসে দেখি, সববনাশ হয়েছে আর কি! একা ঘরে লোভ না সামলাতে পেরে কেদার সতেরোটা নেব খেয়ে ফেলেছে, জর একেবারে বিকারে দাঁড়িয়েছে। বাড়ী যাওয়া ঘরে গেল : রোগীর সেবা করতে বসলাম। মেয়ের বিয়ের টাকা ভেঙ্গে ভাল ভাল ডাক্তার অানালাম . কলকাতা সহরে যতদুর যা হতে পারে কিছর ক্রটি করলাম না। অনাহারে অনিদ্রায় বসে তিনদিন শুশ্ৰুষা করলাম, কিন্তু কিছুতেই বাঁচাতে পারলাম না।” বলিয়া বন্ধ চাপ করিলেন। আমি মন্ত্রমধেবৎ বসিয়া এই শোককাহিনী শুনিতেছিলাম। বাহিরে মহা অন্ধকার; গাড়ী দ্রুতবেগে ছটিতেছে। ছাদের উপর লন্ঠনটির আলো ম্ৰিয়মাণ, পলিতায় গল জমিয়াছে। গভীর রাত্রে একটি কামরায় আমরা দুইটি প্রাণী বসিয়া। আমি একটি দীঘনিশবাস ফেলিয়া বলিলাম—“তাতে আপনার অপরাধ কি ? আপনি ত আর জেনে শমনে করেন নি । বিশেষতঃ তার শালা যখন ঐ কথা বললে ।” “শালা ছেলেমানষে। আমি তার বাপের বয়সী । সে যে ভুল করলে, আমার সে ভুল করবার কি অধিকার ছিল ?” আমি বলিলাম, "ব্যাপারটা খুব শোচনীয় সন্দেহ নেই। তব, আপনি নিজেকে এর জন্যে যতটা দোষী স্থির করেছেন, সেটা নিতান্ত অনুচিত। পাপের পরিমাণ ত কায্যের ফলে নয়, কাৰ্য্য-প্রণোদক ইচ্ছায়।” মদনগোপালবাব ক্ষীণ স্বরে বলিলেন, “সে কথা বললে মন বোঝে না। আমিই এর জন্যে দায়ী। প্রবোধের কানাটা যদি দেখতে! সে বললে তারা পাঁচ ভাই এক বোন —ঐ একমাত্র বোন—কত আদরের বোন—তেরো বছর মোটে বয়স--তার এই সব্বনাশ হল ! —আমারও মেয়ে তখন তেরো বছরের। বাড়ী গিয়ে মেয়ের বিয়ে দিলাম। আমি আমার মেয়ের পানে চাইতে পারিনে। মেয়েকে দেখলে, সেই যে মেয়েকে দেখিনি যার স্বনাশ করেছি—তারই কথা খালি মনে *'ss