পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গাড়ীর বেগ কমিয়া আসিতে লাগিল। এইবার মধপর। বন্ধকে কি সালস্তনী দিব ? বলিলাম, “মদনগোপালবাব। —আপনি ব্যথা নিজেকে দোষী করেন। জন্ম মৃত্যু —এ সব ঈশবরাধীন ঘটনা মনষ্যের অধীন নয়। আপনি আমাদের শাস্ত্র বিশ্ববাস করেন না ?” মদনগোপালবাব নিরক্তর রহিলেন। তাঁহার চক্ষে জল। গাড়ী থামিল। নিদ্রাতুর খালাসীরা ক্ষীণ জড়িতকণ্ঠে বলিতে লাগিল, মধ্যপরে—- মধপর i আমি মদনগোপালবাবকে নমস্কার করিয়া নামিয়া গেলাম। জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৯ ] অযোধ্যার উপহার በ S በ অখিলবাবা কাছারি হইতে বাড়ী আসিবামাত্র গহিণী তাঁহাকে ভূত্য অযোধ্যার সকল গণের কথা বলিয়া দিলেন। অখিলবাব সেদিন একটা মোকদ্দমা হারিয়া আসিয়াছিলেন। বিপক্ষ উকীল তাঁহাকে একটা তীক্ষা বিদ্রুপে বিধিয়া দিয়াছিল। এই কারণে তাঁহার মেজাজটা অত্যন্ত বিগড়াইয়া ছিল। তাহার উপর বাড়ীতে আসিয়া দেখিলেন এই ব্যাপার! গহিণী চক্ষযুগল জবাবণ ও পক্ষারাজি জলসিক্ত করিয়া বসিয়া আছেন। অখিলবাব আগনের মত জনলিয়া উঠিলেন। আদরে একজন ঝি যাইতেছিল, অযোধ্যাকে তৎক্ষণাৎ পাঠাইয়া দিতে আদেশ করিলেন। এক মিনিট পরে অযোধ্যা আসিয়া দাঁড়াইল। আজ তাহার চক্ষ অন্যদিনের মত আনত নহে। গোঁফযোড়াটা সে উত্তমরূপে পাকাইয়া জন্মণ সম্রাটের ন্যায় উদ্ধৱদিকে উঠাইয়া দিয়াছে। তাহার মস্তকে পাগড়ী। বাড়ীতে সচরাচর অযোধ্যা পাগড়ী পরে না –কিন্তু কোনও কারণে তাহার মেজাজটা যখন অত্যন্ত খাপা হইয়া উঠে, তখনি সে তাড়াতাড়ি মাথায় পাগড়ী বাঁধিয়া লয়। মনে বীরত্বের ভাব জাগিয়া উঠিলে বাহিরে তাহার চিহ্ন-প্রকাশের ইচ্ছা স্বাভাবিক। অযোধ্যার আকার প্রকার দেখিয়া অখিলবাবর ক্ৰোধবহ্নি আরও প্রখরতা প্রাপ্ত হইল। কিন্তু তিনি আত্মস্থ হইয়া শান্তভাবে অথচ কঠোরস্বরে জজের রায় পড়ার মত ধীরে ধীরে বলিলেন— - “অযোধ্যা, তুই অনেক কালের চাকর। কিন্তু পরোনো হয়ে কোথায় ভাল হবি, মা যতই বড়ো হচ্ছিস, ততই তোর বহুজাতি বাড়ছে। মনিব বলে যে একটা সমীহ কি ভয় ডর তা তোর নেই। হাড় জবালাতন করে তুলেছিস । তুই পরোনো চাকর বলে দু: স্থি আ না। তুই যা। এই পয়লা তারিখ থেকে তোকে জবাব দলাম।” অযোধ্যা মাথা নাড়িয়া, উদ্ধতভাবে অবজ্ঞাপণ স্বরে উত্তর করিল, “যো হকুম মহারাজ, হম রাজিকা সাথ চলা যায়েঙ্গে। আপ জবাব নেহি দেতে তো খন্দ হম আজ ইস্তাফা দেনেকো তৈয়ার হয়া থা।” অযোধ্যার ওঠবয় কল্পিত হইতে লাগিল। কেহ না মনে করেন যে অযোধ্যা বাঙ্গালা কহিতে জানে না। সে এ বাড়ীতে আঠারো বৎসর চাকরি করিয়াছে—প্রায় বাঙ্গালীর মতই বাঙ্গালা কহিতে পারে। কিন্তু রাগিলে সে আর যাঙ্গালা কহিত না। বাঙ্গলাভাষাটা ভালমানষেীর ভাষা: তৃণাদপি সনীচ ও তরোরিব সহিষ্ণ জাতির ভাষা। অযোধ্যা কেন—অনেক বাঙ্গালীও প্রবল ক্ৰোধের সময় বাংগালা কহিতে পারেন না—হিন্দী বা ইংরাজী কহিয়া থাকেন। অযোধ্যার এ দাবিনীত উক্তিতেও অখিলবাব আত্মহারা হইলেন না। পবেবৎ ধীরভাবে বললেন, “বেশ। কিন্তু খবরদার আর যেন এসে জটিসনে। বার বার তিনবার ३० ०