পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সী জীবিত ছিল। এখন সে বহন রৎসর ধরিয়া বিপত্নীক। খাকী জিজ্ঞাসা করিল, “সত্য এবার বিয়ে করব অবাধা ?” “সত্যি না ত কি ঝটে বলছি ?” “ক হাজার টাকা পাবি ?” অযোধ্যা হা হা করিয়া হাসিয়া উঠিল। বলিল “টাকা মিলবে কি আউর দেনে পড়ি রাক্কসি। এ কি যাঙ্গালীর সাদি?” “গহনাও দিতে হবে ?” “গহনাভ দেনে পড়ি না ত কি। বহৎ রাপিয়া খরচ রে দিদি—বহৎ রাপিয়া খরচ।” বলিয়া অযোধ্যা পনরায় নিদ্রার চেষ্টা করিতে লাগিল। খাকী কিয়ৎক্ষণ ভাবিল। তাহার পর আগ্রহের সবরে বলিল, “অযাধা তোর বউকে আমি একটা গহনা দেবো।” - অযোধ্যা হাই তুলিয়া বলিল, “কি গহনা দিবি ভাই ?” থকী বলিল, “কেন ? আমার পরানো বালা রয়েছে সাড়ে তিন ভরির, সে ত আর আমার হাতে হয় না, সেই বালা তোর বউয়ুের জন্যে দেবো এখন নিয়ে যাস।” অযোধ্যা হাসিল। বলিল, “আগে কনিয়া ঠিক হোক—তখন বালা দিস, তাবিজ দিস, মল দিস—সব দিস !” খাকী বলিল, “না তুই বালাষোড়াটি আমার নিয়ে যা।”—বলিয়া তাড়াতাড়ি খাকী উঠিয়া গেল। কিয়ৎক্ষণ পরে বালা দাইটি আনিয়া বলিল, “রেখে দে এই বেলা। মা উঠলে জানতে পারলে হয়ত দিতে দেবে না।” অযোধ্যা বলিল, "বালা কোথা থেকে নিয়ে এলি রাক্কসি ?” “কেন, বালা কোথায় থাকে আমি জানিনে বঝি ?” “যা যা বালা যেখানে ছিল রেখে আয়।”—বলিয়া অযোধ্যা হাই তুলিয়া পাশ ফিরল। খাকী বালা দুইটি বাজাইয়া গান গন স্বরে গান করিতে লাগিল। অযোধ্যা বলিল, “যা রেখে আয় বলছি, হারিয়ে ফেলবি ত মসিকল হবে।” খাকী কোন কথা না বলিয়া উঠিয়া গেল। অযোধ্যা শেষবার একবার নিদ্রা যাইবার চেষ্টটা দেখিল। ከዜ © በ খকেী তাহার মার ঘরে গিয়া দেখিল, মা তখনও নিদ্রিত। পালঙ্কের উপর হইতে খাকী তাহার পর পাজার ঘরে গিয়া, কোশা হইতে একটা গঙ্গাজল লইয়া চরণামত পান করিল। পান করিয়া, ঘাড়টি বাঁকাইয়া, চক্ষ বজিয়া বলিল—“আঃ।” ঘরের কোণে বিড়ালটা বসিয়া নিদ্রা যাইতেছিল। খাকী পাজার ফলে এক মঠা লইয়া আস্তে আস্তে বিড়ালটার কাছে গিয়া নমো নমো বলিয়া তাহার মাথায় একটি একটি করিয়া ফল নিক্ষেপ করিতে লাগিল। বিড়াল মস্তকে শীতলপশ অনুভব করিয়া চক্ষরমীলন করিল। কাতরতাসচক একটি “মেও” শব্দ করিয়া ছটিয়া পলাইয়া গেল। পজো ভঙ্গ হইল দেখিয়া ভক্ত খাকী বিড়ালের পশ্চাৎ পশ্চাৎ কিয়ৎক্ষণ ধাবিত হইল। রান্নাঘরের কাছে আসিয়া দেখিল, কবাটে শিকল দেওয়া রহিয়াছে। কোথা হইতে একটা টল বকে করিয়া আনিয়া, দয়ারের কাছে রাখিল। টলের উপর উঠিয়া শিকল টানাটানি করিল কিন্তু কিছতেই খলিতে পারিল না। তখন নামিয়া ইতস্ততঃ কি যেন খুজিয়া খুজিয়া বেড়াইতে লাগিল। এক টুকরা কয়লা কুড়াইয়া পাইবামাত্র, তাহার মুখে হৰ্ষচিহ্ন দেখা দিল। কয়লাট লইয়া খাকী নানের ঘরে প্রবেশ করিল। সনানের স্থানে অনেকক্ষণ জল পড়ে নাই—বেশ শকাইয়া ছিল। সেই শাক থানে কয়লাটি দিয়া খাকী কয়েকটা ঘর আকিল এবং প্রত্যেক ঘরে একটা করিয়া ‘ক’ লিখিয়া দিল। তাহার পর টব হইতে १० ९