পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঘটি করিয়া জল লইয়া, ধীরে ধীরে স্বরচিত চিত্রের উপর ঢালিতে লাগিল। অন্ততঃ বিশ ঘটি জল ঢালিবার পর নিরক্ত হইল। একটা শীতও করতে লাগিল। তখন খাকী বাহির হইয়া বারান্দায় গেল। গিয়া দখিল অযোধ্যা দিব্য নাসিকাধনি করিতেছে। খাকী আস্তে আস্তে অযোধ্যার বিছানায় বসিল। তাহার কোমরে একটি চাবি বাঁধা ছিল, সাবধানে সেটি খালিয়া লইল। অযোধ্যার দেবদার কাঠের বাক্সটি কোথায় থাকত তাহা খাকী জানিত। বাক্সটি খলিয়া বালা দুইটি আস্তে আতে সব জিনিসের নীচে লুকাইয়া রাখল। অন্যান্য নানা দ্রব্যের মধ্যে সে বাক্সে টিনে বাঁধানো—পষ্ঠদেশে গণেশের মত্তি অঙ্কিত একখানি আসি ও একটি কাঠের চিরণী ছিল। খাকী নিজের চলটা একটু আঁচড়াইয়া লইল। শেষে বাক্স বন্ধ করিয়া চাবিটি আবার পর্বেমত অযোধ্যার কোমরে বধিয়া রাখিল। በ S \\ পরদিন প্রভাতে সকাল সকাল আহার কুরিয়া, গৃহিণীকে প্রণাম করিয়া, বাবকে প্রণাম করিয়া, দাদাবাব ও খকেীর নিকট সাশ্রনেত্রে বিদায় লইয়া অযোধ্যা যাত্রা করিল। খাকী হাউ হাউ করিয়া কাঁদিতে লাগিল—গহিণীও বারমবার বসত্ৰাঞ্চলে চক্ষাজল মছিলেন। অযোধ্যার গ্রাম মঙ্গের স্টেশন হইতে দশ ক্লোশ পথ। মঙ্গের হইতে একখানি গোরীর গাড়ী করিয়া অযোধ্যা বাড়ী গেল। এই মঙ্গেরে সে প্রথম অখিলবাবর কমে নিযুক্ত হয়। সে কি আজিকার কথা ? অখিলবাব তখন নতন আইন পাস করিয়া ব্যবসায় আরম্ভ করিয়াছেন। মঙ্গেরে তাঁহার উত্তমরূপ পশার জমিলে তিনি হাইকোটে আসিলেন। যাত্রার দিন এই মঙ্গের টেশনে গাড়ী চড়িবার গোলমালে অখিলবাবর পত্র সতীশ হারাইয়া যায়। কেল্লার ফটকের নিকট অশবত্থ গাছের নিম্নে দাঁড়াইয়া সতীশ কাঁদিতেছিল, অযোধ্যাই তাহাকে খুজিয়া বাহির করে। বাব খসি হইয়া তাহকে নিজের নতন'বিলাতী জতাযোড়াটা বখশিশ দিয়াছিলেন। সে সকল কথা মনে পড়িল । তাহার পর সেই সতীশ কলিকাতায় জনরবিকারে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। সমানে রাত্রি জাগিয়া একুশ দিন অযোধ্যা সতীশের শাশ্রষা করিয়াছিল। শবদাহ করিয়া আসিয়া অখিলবাব অযোধ্যার গলা জড়াইয়া কাঁদিয়া বলিয়াছিলেন --অযন্ধা—একবার তুই আমার হারা ছেলে খুজে দিয়েছিলি--এবার খুজে নিয়ে আয়।’ —সুখে, দুঃখে, বিপদে, সম্পদে অচটাদশ বৎসর ষাহাদের সহিত কাটিয়াছে, তাহাদের সহিত বন্ধন এবার চিরদিনের তরে ছিন্ন হইল। অযোধ্যার গাড়ী অনেক দর অবধি গঙ্গার ধার দিয়া গেল। পথ যখন বাঁকিল, গঙ্গা দটিপথের অন্তরাল হইলেন—তখন অযোধ্যা যোড়হতে গঙ্গাদেবীকে প্রণাম করিয়া মনের একটা কামনা নিবেদন করিল। বাড়ী হইতে অনেক মাস অযোধ্যা কোনও পত্রাদি পায় নাই। বাড়ীতে তার এক বন্ধ চাচী ছিল, আর কেহ ছিল না। এতদিন সে চাচী বাঁচিয়া আছে কি মরিয়াই গিয়াছে, মনে এইরুপ আন্দোলন করিতে করিতে গ্রামের ভিতর প্রবেশ করিল। বাড়ী পেপছিয়া দেখিল, দরজায় তালা বন্ধ। প্রতিবেশীগহে সন্ধান করিতে গেল। শুনিল তাহার চাচী ছয়মাস হইল দেহত্যাগ করিয়াছে । পাড়ার বিজ্ঞলোকেরা পরামর্শ করিয়া, অযোধ্যা মাহাতো, মোকাম কলকত্তা’ এই ঠিকানা দিয়া, দামড়িলালের দ্বারা তাহাকে : (বেয়ারিং) পরও লেখাইয়াছিল--কিন্তু সে পত্র মাস দুই পরে ফিরিয়া আসে এবং বেচারা দমডুিলালের এক আনা পয়সা জরিমানা দিতে হয়। অযোধ্যাকে তাহারা পরামর্শ দিল, দামড়িলালের সঙ্গে সাক্ষাৎ হইলে অযোধ্যা যেন তাহার এক আনা পয়সার ক্ষতিপরণ করিয়া দেয় । চাবি লইয়া অযোধ্যা বাড়ী আসিল। দরজা খালিয়া দেখিল, উঠান জগলে ভরিয়া গিয়াছে। ছোট বড় নানাজাতীয় আগাছা জন্মিয়াছে। ঘর খলিল—বহুকাল বন্ধ থাকায় ঘরের মেঝে অত্যন্ত সাংসে’তে হইয়া গিয়াছে । থাটিয়ার একটা পায়ার আধখান উইপোকায়

  • G =