পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


খাইয়া ফেলিয়াছে। গোটাকতক ইন্দর ও আরসালা হঠাৎ আলো দেখিয়া খড়খড় শব্দে পুলাইয়া গেল। - অযোধ্যা দীঘনিশবাস ফেলিয়া, চাবি আবার বন্ধ করিয়া, একজন প্রতিবেশীর বাড়ীতে আশ্রয় লইল। কম গিয়াছে, এ কথা তাহাদিগকে প্রাণ ধরিয়া বলিতে পারিল না:—বলিল ছুটি লইয়া আসিয়াছি। তাহারা অযোধ্যাকে অভ্যর্থনা করিয়া তামাক দিল। সে তামাক দই টান টানিয়াই, খকখক করিয়া কাসিয়া, অযোধ্যা হকো নামাইয়া রাখিল। বাবর বাড়ী অমবরী তামাক খাইয়া খাইয়া তাহার পরকাল গিয়াছে। -- করাইল। লোকে বলিল অযোধ্যা চাকরি করিয়া আমীর হইয়া আসিয়াছে, নহিলে, যাহার পর্বেপরাষগণ নিজেরা মজরী করিয়া দেহপাত করিয়াছিল, সে কখনও দিনে দই আনা হিসাবে মজার নিযুক্ত করে! : নিজের বাড়ীতে সন্ধ্যাবেলা বসিয়া অযোধ্যা অন্নপক করিল। আহারান্তে ঘরে প্রবেশ করিয়া, রেড়ীর তেলে প্রদীপ জবালাইল । সে মলান আলোক দেখিয়া, কেবলই তাহার প্রভুগহের বিদ্যুৎ-আলোক মনে পড়িতে লাগিল। দিনের পর দিন গেল—মাস কাটিল। পাড়ার লোকে ক্ৰমাগত তহিকে জিজ্ঞাসা করে, কতদিনের ছয়টি, আবার কবে কলিকাতা যাইতে হইবে ? সে বলে, এই যাইব এবার দিনকতক পরে। অযোধ্যা একাকী থাকে—কাহারও সঙ্গে মেশে না। তাহার জ্ঞাতিবন্ধ প্রতিবেশিগণকে ছোটলোক বলিয়া মনে হয়। তাহাদের সহিত হাস্যামোদ করিতে অযোধ্যার প্রবত্তিই হয় না। সে নিজের ঘরে নীরবে বসিয়া থাকে—আর কেবল ভাবে । অখিলবাবরে ছেলেমেয়েগুলিকে সে সবহন্তে মানুষ করিয়াছিল—তাহার মনটি অট প্রহর কলিকাতার সেই প্রিয় গহখানিতে পড়িয়া থাকে। এইরপে দুই মাস কাটিলে অযোধ্যা স্থির করিল-দাদাবাবকে একটা চিঠি লিখিয়া সকলের সংবাদ আনাইতে হইবে। ইংরাজিতে চিঠি লেখাইতে হইবে ! গ্রামে কেহ ইংরাজি জানিত না। এ অঞ্চলে ইংরাজি জানিত কেবল খড়কপরের পোটমাটার। গ্রাম হইতে কিঞ্চিৎ উত্তম গব্যঘাত সংগ্ৰহ করিয়া, দই ক্লোশ দরে খড়কপরে গিয়া, পোটমাটরকে উহা উপঢৌকন দিয়া, অযোধ্যা কলিকাতায় চিঠি লেখাইয়া আসিল । সপ্তাহ পরে দাদাবাবরে নিকট হইতে উত্তর আসিল। যে পেয়াদ এ চিঠি আনিয়া অযোধ্যাকে দিল, অযোধ্যা তাহাকে মাচা হইতে একটা বিলাতী কুমড়া পাড়িয়া বখশিস্য করিয়া ফেলিল। তৎক্ষণাৎ পাগড়ী বাঁধিয়া, খড়কপরে গিয়া পোস্টমাস্টারের দ্বারা চিঠি দাদীবাব তাহার পত্র পড়িয়া অত্যন্ত খসী হইয়াছেন। বাড়ীর সকলে খাসী হইয়াছেন। ৫ই বৈশাখ খকেীর বিবাহ। অযোধ্যার জন্য খকেীর ভারি মন কেমন করে। চক্ষের জল মছিয়া অযোধ্যা বাড়ী ফিরিয়া আসিল। ভাবিল, দশটা টাকা মনিঅৰ্ডার করিয়া সে দাদাবাবকে পাঠাইবে—দাদাবাব যেন অযোধ্যার হইয়া খাকীর বিবাহে তাহাকে একখানি রঙীন-শাড়ী কিনিয়া দেন। টাকা বাহির করিবার জন্য অযোধ্যা বাক্স খলিল। এ বাক্স সে বাড়ী আসিয়া অবধি একদিনও খালে নাই। বাক্স খলিয়া দেখিল, সোণার বালা ! - দেখিয়া প্রথমটা সে অবাক হইয়া গেল। চিরণীখানা হাতে তুলিয়া দেখিল, তাহাতে খাকীর দইগাছি ল’বা চল লাগিয়া রহিয়াছে। তখন সমস্ত বঝিতে পারিল। কৰ্ত্তব্য স্থির করিতে তাহার পাঁচ মিনিটের অধিক বিলম্ব হইল না। পরদিন সে ঘরেদয়ারে চাবি বন্ধ করিয়া কলিকাতা যাত্রা করিল। বড়বাজারে তাহার এক পরিচিত মহাজন ছিল। তাহার আড়তে গিয়া অযোধ্যা কয়েক দিবস রহিল। কিছ সোণা কিনিয়া, খাকীর বালাযোড়াটা ভাঙ্গিয়া ভাল করিয়া বড় করিয়া २०8