পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গড়াইয়া লইল । নিজের জন্যও বসন্ত্ৰাদি খরিদ করিল। একখানি ধতি হরিদ্রায় রঞ্জিত করিল। গোলাপী রঙের একটি পাগড়ী তৈয়ারী করিল। উৎসব-বেশ পরিধান করিয়া; পাতলা নীল কাগজে মড়িয়া বালা দগাছি লইয়া, অযোধ্যা ৫ই বৈশাখ অপরায় সময়ে অখিলবাবর বাটীতে উপস্থিত হইল। বাটীর সকলেই তাহাকে দেখিয়া অত্যন্ত খসেী হইলেন। খুকী বালা পরিয়া আমোদে আটখানা। অখিলবাব আসিয়া বলিলেন, “অষধো তুই আমার চিঠি পেয়েছিস!” অযোধ্যা আশ্চৰ্য্য হুইয়া বলিল, “দাদাবাবর চিঠি ?” “দাদাবাবর কেন? আমার চিঠি। খকীর বিয়েতে আমি তোকে এক সপ্তাহ হল নেমন্তন করে রেজেন্টারি চিঠি লিখেছি-গাড়ীভাড়ার জন্যে দশ টাকার নোট পাঠিয়ে দিয়েছি—তুই পাসনি ?” গহিণী বলিলেন, “ও কি দেশে ছিল নাকি ? ও এই কলকাতায় ছিল, খাকীর জন্যে বালা গড়াচ্ছিল।” বালার কথা শুনিয়া বাব রাগ করিতে লাগিলেন। বললেন, “তুই গরীব মানুষ খেতে পাসনে, অত টকা খরচ করতে গেলি কেন ? এ দাবৃদ্ধি কেন তোর ?” আয়োধ্যা ৩খন হাসিয়া হাসিয়া বালার ইতিহাস বলিল । গহিণী বলিলেন, “বটে। তাই বলি খাকীর পুরাণো বালাযোড়াটা গেল কোথা ? আলমারিতেই রেখেছিলাম, না সিন্দকেই ছিল ঠিক করতে পারিনে।” অখিলবাব বলিলেন, “তা বেশ। খাকীরই জিৎ।”—বলিয়া হাসিতে হাসিতে কাযf্যান্তরে প্রস্থান করিলেন। অযোধ্যা নিজের রঙীন পাগড়িটি খালিয়া সন্তপণে উঠাইয়া রাখিয়া বিবাহ বাড়ীর কায্যে মাতিয়া গেল। বৈশাখ, ১৩১o ] প্রতিজ্ঞা-পরণ প্রথম পরিচ্ছেদ ভবতোষ কলেজে ইংরাজি পড়িতেছে বটে, কিন্তু সে নিতান্ত অনিচ্ছার সহিত। . ইংরাজি বিদ্যার প্রতি তাহার তিলমাত্র শ্রদ্ধা নাই। ইংরাজি পড়িয়া পড়িয়াই দেশটা উৎসন্ন গেল ইহাই তাহার মত। দেশে ‘আৰ্যভাব ক্রমশঃই হাস পাইতেছে, সে কালের সে শুভদিন ভারতে ফিরিবার আর উপায় থাকিতেছে না, এই বলিয়া ভবতোষ প্রায়ই আক্ষেপ করিত। আত্মীয়-স্বজনের তাড়নায় তাহাকে বাধ্য হইয়া ইংরাজি পড়িতে হয়, নাহলে তাহার ইচ্ছা নবদ্বীপ বা ভট্টপল্লীতে গিয়া কোনও টোলে প্রবেশ করে। যাহা হউক, ইংরাজি পড়া স্বত্ত্বেও ভবতোষ যেরপে নিজের আচার ব্যবহার ও চিন্তাপ্রণালী অক্ষশ্ন রাখিতে সমর্থ হইয়াছে, আজিকালিকার দিনে সেরাপ দেখা যায় না। ভবতোষ কলিকাতায় মেসের বাসায় , থাকিয়া লেখাপড়া করিতেছিল, হঠাৎ একদিন পূজার ছয়টি হইল। ভবতোষ বাড়ীর জন্য নতন বসন্ত্ৰাদি খরিদ করিয়া, বাক্স পটলৈী বধিয়া, গহযাত্রা করিল। তাহদের গ্রামটি কলিকাতা হইতে অধিক দরে নহে। পজা হইয়া গেল, পণিমা আসিল । সেদিন ভোরে ভবতোষের বিধবা মাতা গঙ্গা--- সনান করিতে গিয়াছিলেন। গঙ্গার ঘাট গ্রাম হইতে কিঞ্চিৎ দরে। ঘাটে বহুসংখ্যক পর্যন্ত্রীর সমাগম হইয়াছে। নানান্তে ঘাটে উঠিয়াছেন, এমন সময় ভবতোষের মাতা দেখিলেন, তাঁহার একটি বাল্যসখী—উপেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সী। “কি দিদি, ভাল আছ ত?”—বলিয়া উপেন্দ্রবাবর সী ভবতোষের মাতার কাছে আসিলেন। দুই সখীতে কুশল প্রশনাদির পর, উপেন্দ্রবাবর মন্ত্রী বললেন, “ভবতোষ বাড়ী এসেছে ?” - ९० t - -