পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“এসেছে। তার ছটিও ফরিয়ে এল—আবার কলকাতায় আসবে গিয়ে।” উপেন্দ্রবাবর একটি সন্দেরী ত্রয়োদশবৰ্ষীয়া কন্যা আছে, তাহার নাম পলিনা। মেয়েটি অবিবাহিতা। উপেন্দ্রবাবর সন্ত্রী বলিলেন, “দেখ দিদি, আমার পলিনার সঙ্গে তোমার ভবতোষের যদি বিয়ে দাও, তা হলে বেশ হয়।” ভকতোষের মা বলিলেন, "আমারও তাই ত অনেক দিন থেকে ইচ্ছে বোন-ছেলে যে বিয়ে করতে চায় না, কি করি। কত সম্মবন্ধ এসে ফিরে ফিরে গেল।” “আচ্ছা, একবার বলে দেখ না। তোমার বড় ছেলেটি, একটি বউ আসবে, তোমার কত আহমাদ হবে, কেন বিয়ে করে না ?” ভবতোষের মা বললেন, আচ্ছা বলিয়া দেখিবেন। ছেলে যদি রাজি হয়, তাহা হইলে এমন কি এই অগ্রহায়ণ মাসেই বিবাহ হইতে পারে। মা যখন গহে ফিরিলেন, ভবতোষ তখন বৈঠকখানায় বসিয়া, বঙ্গবাসীর উপহার পরাশর-সংহিতার একখানি তত্তজমা মন দিয়া পাঠ করিতেছিল। মা আসিয়া বলিলেন, "বাবা বাড়ীর ভিতর এস, একটা কথা আছে।” ভবতোষ বাঁহ রাখিয়া ধীরে ধীরে মাতার অনুগমন করিল। নিজের কক্ষে লইয়া গিয়া মা পত্রকে বলিলেন, “বাবা, এইবার একটা বিয়ে থাওয়া করে ফেল। তুমি আমার বড় ছেলে, বউয়ের মুখ দেখব আমার কতদিনের সাধ, সে সাধ পণ কর।” বলিয়াছি, পর্বে ভবতোষ বিবাহ করিতে অত্যন্ত অসমত ছিল। পঠদ্দশায় বিবাহ করা উচিত নয়,—কিবা উপাত্তজনক্ষম না হইলে বিবাহ করা উচিত নয়,—এরাপ কোনও বিলাতী আপত্তি ভবতোষের ছিল না। তাহার আপত্তিটা অন্যরপ এবং শাস্ত্রসঙ্গতও বটে। সে শনিয়াছে (এবং সংবাদপত্রেও পাঠ করিয়াছে) যে আজিকালিকার নবাদীরা আর যথার্থ হিন্দ গহলক্ষী-স্বরপ আবিভূতা হন না। তাঁহারা অত্যন্ত বিলাসিনী ও না, পরন্তু স্বামীর সহিত সখ্য ব্যবহার করিতে উদ্যত। আরও নানা প্রকার অভিযোগ সে শুনিয়াছে। কিন্তু বিধবা মাতার একান্ত অনুরোধ—বেচারি কি করে ? মাতৃ-আজ্ঞা অবহেলা করিবার পাপও সে সঞ্চয় করিতে ইচ্ছা করে না। সুতরাং অলপদিন হইতে সিথর করিয়াছে, মা এবার অনুরোধ করিলেই বিবাহ করিবে, কিন্তু সে নিজের আদশর্ণনাযায়ী একটি মেয়ে বিবাহ করবে। এখন, এ সম্বন্ধে ভবতোষের সবাধীনচিন্তা-প্রসত অনেকগুলি মতাদি ছিল, তাহা তাহার বাসার সহপাঠীরা সকলেই বিলক্ষণ অবগত আছে। রাত্রে আহারের পর ছাদের উপর যখন বাসার ছেলেদের একটি দন্ডায়মানসভা সমবেত হইত, যখন অনেকগুলি সিগারেটাগ্র যুগপৎ প্রদীপ্ত হইয়া উঠিত, তখন অনেক সময় এই বিষয়ের আলোচনা হইত। অকপথলে ভবতোষ কতবার বলিয়াছে—“যদি আমি কখনও বিয়ে করি, যদি করি তবে একটি কালো কুৎসিত মেয়ে বিয়ে করব। কারণ সন্দের মেয়ে প্রায়ই দেমাকে হয়। শ্বশর শাশ্লড়ীকে ভক্তি শ্রদ্ধা করে না, সবামীকে গরজ্ঞোন করে না, সহধৰ্ম্মিমণী না হয়ে সহবিলাসিনী হয়ে ওঠে। তা ছাড়া, তারা অত্যন্ত বাবা হয়। একটা রপে আছে বলে সে . রাপকে ভাল করে সাজিয়ে প্রকাশ করবার জন্যে ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকে। সাবান চাই সুগন্ধি চাই, পাউডার চাই, ভাল ভাল শাড়ী চাই, সেমিজ চাই—স্বামী বেচারীর প্রাণও ওঠাগত৷ —দ্বিতীয়তঃ, লেখাপড়া জানা মেয়েও বিয়ে করব না। তারা খালি নভেল পড়ে (কেউ কেউ নভেল লেখেও) আর তাস খেলে, স্বামীকে কবিতা করে চিঠি লিখতেই দিন যায়, গহকাষ" হয় না, ব্রত নিয়মাদির ত সময়ই নেই—ছেলে মাটীতে পড়ে কাঁদে "-ইত্যাদি। এইরুপ ওজস্বিনী বস্তৃতা শুনিয়া ছেলেরা কেহ কেহ বলিত, ”আচ্ছা ভবতোষবাব,