পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইল। কলেজে পাঠকালে সে চলনসই রকম ছবি আঁকিতে জানত ; হিমানীর একখানি ছবির জন্য সেই বিদ্যার শরণাপন্ন হইল। প্রথম প্রথম কিছুই মিলিল না; ক্ৰমে একটা আধট সাদশোর ছায়া আসিতে লাগিল। চক্ষ দুইটির ভাব যেন কিছু কিছু মিলিল । ক্লমে ওঠয়গলের ভাবও আসিল। দুই মাস পরিশ্রমের পর হিমানীর একখানি অতি সন্দের ছবি সমাপ্ত হইল। সে দিন মণিভূষণের কি আনন্দের দিন। কত অাদরে সে প্ৰহস্তাঙ্কিত প্রিয়াম,ত্তিতে চাবন করিল ; এখনি হিমানীর কুমারীবেশের ছবি। ছবি শেষ হইলে মণিভূষণ ভাবিল, এখানি বাঁধাইয়া না রাখিলে নষ্ট হইয়া যাইব । অন্য কাহারও হস্তে কলিকাতায় পাঠাইতে বিশ্ববাস হুইল না। সবয়ং কলিকাতায় অসিয়া দোকানে বসিয়া থাকিয়া ছবি বাঁধাইল। কিন্তু যে দিন ছবি বাঁধাইল, সেই দিনই রাত্রে তাহার কাচ ভাঙ্গিয়া ফেলিল। ছবিখানি বক্ষে চাপিলে আর পণ মিলন হইল না, মাঝমানে কাচের ব্যবধান রহিয়া গেল। ইহা কি সহ্য হয় ? বিদ্যাপতির রাধিকাও ত ঐ কারণে গলায় হার পরিতেন না। তাহার পর হিমানীর হইয়া সে নিজে কবিতা রচনা করিতে লাগিল। সংস্কৃত কবিরা লিখিয়াছিলেন, প্রেমিকা নায়িক বিরহ-বিকারে নিজেকে নায়ক ভ্ৰম করিয়া নিজের প্রতি প্রেম সম্ভাষণ করিয়া থাকেন। মণিও তাহাই করিল। সে শধ্যে হিমানীর হইয় কবিতা লিখিয়াই ক্ষান্ত রহিল না, হিমানীর হসন্তাক্ষর পর্যন্ত অনুকরণ করিল ! সে চিত্রবিদ্যায় নিপুণ, তাহার পক্ষে ইহা বিশেষ কঠিন নহে। হিমানীর হস্তক্ষরে কণিতা হিমানীর কবিতাবলী খাতায় তুলিতে লাগিল। হিমানীর ছবিখানি বাক্সের গায়ে দড়ি করাইয়া কলপনা করিত যেন হিমানী তাহার কবিতাগুলি একে একে আবত্তি করিয়া যাইতেছে। যেখানে ভাবের উন্মাদ গভীরতা আসিত, সেখানেই ছবিখানি লইয়া চমবন করিত। ক্লমে তাহার স্বরচিত হিমানীকে বিবাহের বেশে সাজাইয়া ছবিতে তাহাকে বিবাহ করল। পাগল আর কাহাকে বলে ? এইরুপ করিয়া তিন বৎসর কাটিয়াছে। আজ সে তাহার নিজন সাফিসগহে বসিয়া কবিতা লিখিতেছিল। বেলা একটা হইতে আকাশে মেঘ করিল। কিছুক্ষণ পরে ধলায় চারিদিক আচ্ছন্ন করিয়া ঝড় উঠিল। খুব বড়। মণিভূষণের গাহের উপরিসিথত টিনের ছাদ পযর্ন্ত কাঁপিতেছে। সে একবার বাহির হইয়া আকাশের পানে চাহিল । জল আসিতে বিলম্ব নাই। تي ফিরিয়া চেয়ারে আসিয়া বসিল। মধ্যাহ্নের মেঘাচ্ছন্ন আলোক ঠিক সন্ধ্যালোকের মত দেখাইতেছিল। জানালার কাচের মধ্য দিয়া মণিভূষণ প্রকৃতির উন্মাদনত দেখিতে লাগিল। সহসা দেখিল, তাহার কমপাউন্ডের ভিতর, বাগানে, একটি সত্ৰী-মাত্তি। চিনিতে মহন্তেও বিলম্ব হইল না—হিমানী। হিমানীর বসত্ৰাদি বাতাসে উড়িতেছে; বাগানের গোলাপফলের পাপড়ি খসিয়া আসিয়া তাহার চারিদিকে পড়িতেছে। হিমানী দাঁড়াইয়া চকিত হরিণীর মত ইতস্ততঃ দটি করিতেছে। মণিভূষণ কলের পতুলের মত আসন ছাড়িয়া উঠিয়া গেল ! বাগানে গিয়া হিমানীর মুখপানে চাহিল। তাহার পর হাতখানি ধরিয়া বলিল—“এস।” হিমানী মণিভূষণের সঙ্গে সঙ্গে চলিল। তাহার পরিধানে একখানি মেঘলা রঙের দেশী শাড়ী, সেই কাপড়েরই জ্যাকেট; শাড়ীখান অলপ তুলিয়া মাথায় দেওয়া, এদিকে ওদিকে একটি আধটি ব্লোচ দিয়া আটকানোyনহাতে মাথা হইতে সরিয়া না যায়। বাম কন্ধের একটু নিম্নভাগে হরতনের আকারে একটি ছোট কালো ঘড়ি, অলঙ্কার এবং আবশ্যকতা দই সম্পাদন করিতেছে। বেশে কোনও আড়ম্বর নাই, কিন্তু পারিপাট্য-গণে নয়নাকর্ষক। ঘরে প্রবেশ করিয়া মণিভূষণ হিমানীকে একখানি চেয়ারে বসাইল। হম হম করিয়া \る。