পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাৰ্য্যকালে কি করেন দেখা যাবে। ও রকম বলে অনেকে। বলায় করায় ঢের তফাৎ। এই সন্দেহবাদে ভবতোষ আগমে হইয়া বলিত, "আচ্ছা দেখবেন মশায়, দেখে নেবেন। আমার যে কথা সেই কায ।” মা যখন বার বার অনুরোধ করিতে লাগিলেন, তখন ভবতোষ সম্মত হইল। বলিল, “আচ্ছা মা, আমি বিয়ে করব, কিন্তু নিজে দেখেশানে বিয়ে করতে চাই।” শনিয়া মা অত্যন্ত খসী হইলেন। বলিলেন, “দেখেশুনে বিয়ে করতে চাও? তা বেশ ত একটি খাসা সুন্দর মেয়ে আছে, তেরো বছরের।” মা সোৎসাহে বলিলেন—“খব সন্দর। মুখখানি যেন একবারে প্রতিমের মত। যেমন নাক, তেমনি চোখ, তেমনি কপালের ভুর। রঙটি যেন একবারে গোলাপফলের মত।” ভবতোষ ধীরে ধীরে গম্ভীরস্বরে বলিল, “সে ত আমি বিয়ে করব না মা।” মা শনিয়া আশ্চৰ্য্য হইলেন। বলিলেন, “কেন, কি হয়েছে ?” “সন্দের মেয়ে আমি বিয়ে করব না।” “তবে কি রকম মেয়ে বিয়ে করবি ?” “আমি একটি কালো কুৎসিত মেয়ে বিয়ে করব।--ভবতোষের সবর বজ্রের মত দঢ়।. মা শনিয়া অধিকতর আশ্চৰ্য্য হইয়া গেলেন। বলিলেন "পাগল ছেলে! সকলেই ত সন্দর মেয়ে বিয়ে করতে চায়। লোকে পায় না।” "সকলে করকে; আমি একটু অন্য রকম করব।”—বলিতে বলিতে ভবতোষের মুখমণ্ডল আত্মগৌরবে প্রদীপ্ত হইয়া উঠিল। সে কি সকলের মধ্যে একজন ? সে কি সকলের মত বিলাসের জন্য বিবাহ করিতেছে ? মাকে একট দঃখিত দেখিয়া ভবতোষ সমস্ত কথা তাঁহাকে খালিয়া বলিল। সন্দেরী মেয়ে যে আদশ হিন্দ-গহলক্ষয়ী কেন হইতে পারে না, তাহা তাঁহাকে ভাল করিয়া বাঝাইয়া দিল। শেষে বলিল—তাহার প্রতিজ্ঞা সিথর—অটল—অচল। সেদিন আর জননী অধিক পীড়াপীড়ি করিলেন না। ভবতোষেরও ছয়টি ফরাইল, t \o রল ] ংস কলিকাতা যাত্রা করিল দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ উপরিউক্ত ঘটনার কয়েক দিন পরে, একদিন পালকী করিয়া উপেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের স" ভবতোষের মাতার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিলেন। প্রথম অভ্যর্থনার কুশলপ্রশ্নদির পর উপেনবাবর দী জিজ্ঞাসা করিলেন, “দিদি, ভবতোষ রাজি হল ?” ভবতোষের মাতা বলিলেন, “বিয়ে করতে ত রাজি হয়েছে—কিন্তু তার আবার এক আজগবি মত।” “কি রকম ?” “প্রথমে বলল আমি দেখেশুনে বিয়ে করব। আমি বললাম তা বেশ ত, একটি খাসা সন্দেরী মেয়ে আছে, দেখে এস। সে. বলে, আমি সন্দরী মেয়ে বিয়ে করব না, একটি কালো কুৎসিত মেয়ে বিয়ে করতে চাই।” উপেন্দ্রবাবর সত্ৰী শনিয়া বিস্মিত হইলেন। বলিলেন, “এমন অনাসটি আবদারও ত কখন শুনিনি! এ রকম আবদার কেন তা কিছু বললে ?” ভবতোষের মাতা তখন, পত্রের নিকট যেমন শনিয়াছিলেন, সেইরাপ বললেন। উপেন্দ্রবাব সত্ৰী বসিয়া ভাবিতে লাগিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে বললেন, “দেখ, তুমি এক কায কর দিকিন দিদি। ভবতোষকে এই শনিবারে আসতে লেখ। লেখ যে, তোমার যে রকম মেয়ে বিয়ে করা মত, সেই রকম মেয়ে একটি পিথর করেছি, তাকে দেখবে এস! তারপর, এলে, রবিবার দিন বিকেলে আমার ওখানে পাঠিয়ে দিও। আৰু কি করবে।"