পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভবতোষের মাতা সম্মত হইলেন। ভাবিলেন, হয়ত উপেন্দুবাবর সন্ত্রী মনে করিয়াছেন ভবতোষ পলিনাকে দেখিলে আর বিবাহে অসম্মত হইতে পারবে না। বাস্তবিক তাহা আশ্চৰ্য্য নয়, কারণ মেয়েটি খুবই সন্দেরী বটে। তৃতীয় পরিচ্ছেদ ভবতোষ শনিবার বাটী আসিল । পরদিন বৈকালে একখানি ঘোড়ার গাড়ী করিয়া, চল উস্কোখসেকা করিয়া (কারণ সেকালে মুনি ঋষির্য চল অচিড়াইতেন না) গ্রামান্তরে উপেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাটীতে গিয়া উপস্থিত হইল। গিয়া শুনিল সেদিন উপেন্দ্রবাব বাড়ী নাই, কাৰ্য্য উপলক্ষে স্থানান্তরে গিয়াছেন। একটি যবেক মহা সমাদরে তাহাকে নামাইয়া লইল এবং বৈঠকখানায় বসাইল। যবেকটি উপেন্দ্রবাবরই ভ্রাতুলপত্র। কিয়ৎক্ষণ পরে ঝি আসিয়া সংবাদ দিল, অন্দরে যাইতে হইবে। ঝি ভবতোষের মখের পানে চাহিয়া একটা ফিক করিয়া হাসিয়া গেল। যুবকটির সঙ্গে ভবতোষ অন্তঃপরে প্রবেশ করিল। তাহার মনে হইল, চাকর-বাকর সকলেই যেন হাসি লুকাইবার চেষ্টা করিতেছে। ভবতোষ একটি কক্ষে নীত হইল। কক্ষটি উত্তমরপে সাজানো। মধ্যস্থলে একখানি আসন পাতা রহিয়াছে। আসনের সম্মখে রেকবীতে ফল ও মিস্টান্ন সজিত। অলপ দরে আর একখানি আসন পাতা রহিয়াছে। অনুরোধক্ৰমে ভবতোষ মিস্টানের থালার সম্মুখে বসিল। এমন সময়ে বাহিরে মলের ঝুম ঝুম শব্দ উঠিল। ঝি মেয়েটিকে লইয়া প্রবেশ করিল । মেয়েটি অপর আসনখানিতে বসিয়া, ঘরের চতুদিকে কৌতুহলপণ দটিপাত করিতে লাগিল। লজায় ভবতোষের মস্তক অবনত। একটু একটা করিয়া ফল খাইতেছে এবং আড়চোখে আড়চোখে মেয়েটির পানে চাহিতেছে। মেয়েটির পরিধানে বেগনে রঙের বোবাই শাড়ী। মাথাটি খোলা। চলগুলি তেলে যেন চবচব করিতেছে। মেয়েটির রঙ মসনিন্দিত। চক্ষ দইটি ছোট ছোট, কোটরান্তগত। সে দটি আবার অবিশ্রান্ত ঘুরিতেছে। কপালটি উচ্চ। নাকটি চেপ্টা। চিবকে নাই বলিলেই হয়। সম্মুখের দাঁতগশিকঞ্চিৎ দেখা যাইতেছে। ভবতোষের মনে হইল, রপে সবন্ধে মেয়েটি তাহার আদশের অনুযায়ী বটে। একটা গলা ঝাড়িয়া, সাহস সংগ্ৰহ করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “তোমার নাম কি ?” মেয়েটি হঠাৎ ভবতোষের পানে চাহিয়া, কিঞ্চিৎ জিহৰা বাহির করিয়া বলিল—“অ্যাঁ ?” “তোমার নাম কি ?” “আমার নাম জগদমবা.।” 3 - এমন সময় যুবকটি ও সেই ঝি তাহার পানে সরোষ কটাক্ষপাত করিল। মেয়েটি তৎক্ষণাৎ বলিল, “জগদম্বা নয়,—আমার নাম পলিনা।” যুবকটি বলিল, “আগে ওর’ নাম ছিল জগদম্বা, এখন বদলে পলিনা রাখা হয়েছে।” ভবতোষ ভাবিল, পরিবত্তনটা ভাল হয় নাই। পলিনা।—গা জলিয়া যায়। তাহার অপেক্ষা জগদম্ববা ঢের ভাল। পৌরাণিক নাম, ঠাকুর দেবতার নাম। বিবাহ করিয়া সে জগদম্বা নামই বহাল রাখবে। ভবতোষ জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি কি পড়?” বালিকা পৰ্ব্ববৎ জিহৰা দেখাইয়া বলিল, “আ?ি” “তুমি কি পড় ?” “কিছ পড়িনে। আমার দাদা পাঠশালে—” ঝি ও সেই যবেক তাহার প্রতি পনরায় সরোষ কটাক্ষপাত করায় বালিকা থামিয়া গেল। २०’