পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বলিয়া অনেক লম্বফ ঝমফ করিয়াছিল, এখন রাজি হইয়াছে, তাই বোধ হয় ছেলের লডজা হইয়াছে। ভবতোষ রাত্রে কিছু আহার করিল না। বলিল, উহাদের বাড়ী অনেক খাইয়া আসিয়াছে, ক্ষধা নাই। তখন তাহার মন হইতে আত্মজয় ও প্রতিজ্ঞা-পরণ-জনিত উৎসাহ অনেকটা কমিয়া আসিয়াছে। রাত্রে শয়ন করিয়া জগদম্বার মুখখানি যতই সে ভাবিতে লাগিল, ততই তাহার ককের ভিতরটা যেন হিম হইয়া উঠিতে লাগিল। মনে হইতে লাগিল, যদি অত কুৎসিত না হইয়া, শ্যামবণের উপর মুখচোখগলা একটা মানানসই হইত তাহা হইলে মন্দ হইত না। সোমবারে উঠিয়া ভোরের ট্রেণে ভবতোষ কলিকাতা যাত্রা করিল। মা বলিয়া দিলেন, বিবাহের আর দশ দিন মাত্র বাকী আছে; দই দিন পর্বে ভবতোষ যেন বাড়ী আসে। বাসায় পৌছিলে সহপাঠীরা দেখিল, ভবতোষের মুখখানি যেন মেঘের মত অন্ধকার । ভবতোষ গিয়া নিজ কক্ষ মধ্যে উপবেশন করিল। “কি ভবতোষবাব, খবর কি ?”—বলিতে বলিতে রজনীবাব,শরংবাব, রাখালবাব, সতীশবাব, কুমন্দবাব, নপেনবাব, প্রভৃতি আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ভবতোষ বাড়ী যাইবার সময় ইহদের সকল কথাই বলিয়া গিয়াছিল। "খবর কি ভবতোষবাব?” ভবতোষ একট কাঠহাসি হাসিয়া বলিল, “খবর ভাল।” তাহার পর সকলে প্রশন করিয়া মেয়েটির রূপ, গণ, বয়স প্রভৃতির সমস্ত খবর জানিয়া লইল। শরৎবাব হঠাৎ জিজ্ঞাসা করিলেন—“মেয়েটির নাম কি ?” ভবতোষ নাম বলিল। তাহা শনিয়া সকলেরই মুখে একটা একটু হাসি দেখা দিল। কেবল নপেনবাব BBBBBB BBBB BBBBB BBBB BBBDSDSDSDSBBBBSDDSSSDD —হি—বেশ নামটি ত ” শরৎকাব্য রলিলেন, “নপেনবাবন, এটা এমনই কি হাসির কথা ? হাসছেন কেন ?” নপেনবাব বলিলেন, “না, হাসিনি। হি—হি– হি–হাসব কেন ? হা-হা-” রজনীবাবু বলিলেন, “না, নামটি মন্দ কি ? পৌরাণিক নাম । তামাদের আজকালকার জ্যোৎস্নময়ী, সরসীবালা, তড়িল্লতা, মণিমালিনী-এই সব নাটকে নামই বঝি ভাল ?" ভবতোষ ইহা শনিয়া গম্ভীরভাবে মাথাটি নাড়িতে লাগিল। এ সকল বিষয়ে তাহার পবে উত্তেজনা আজি যেন আর নাই। বিবাহের আর নয়দিন বাকী আছে। এই নয় দিন যে ভবতোষের কি অবস্থায় কাটিল, তাহা সেই জানে। বাসার লোকেও কিছু কিছ জানিতে পারিয়াছিল। জগদম্বাকে ভবতোষ যতই মনের মধ্যে ভাবে, ততই তাহার বকের ভিতরটা অন্ধকারে ভরিয়া যায়। ভবতোষ কলেজে যায়, কিন্তু লেকচার কিছই শনিতে পায় না। ক্ষুধার জন্য বাসায় সে বিখ্যাত ছিল, এখন তাহার পাতের অন্নব্যঞ্জন অন্ধেকের বেশী পড়িয়া থাকে। ভবতোষ কাহারও সঙ্গে হাস্যালাপ করে না, সদাই অন্যমনসক থাকে। বাসার লোক তাহাকে বলিতে লাগিল, “ভবতোষবাব প্রেম-ব্যাধির সমস্ত লক্ষণগুলিই ক্ৰমে আপনার মধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে।” রাত্রে বিছানায় শুইয়া ভবতোষ আর সহজে নিদ্রা যায় না। কেবল এ-পাশ ও-পাশ করে। অতিকষ্টে যখন নিদ্রা আসে, তখন কেবল বিভীষিকাপণে স্বপন দেখে। একদিন স্বপন দেখিল, জগদম্বা যেন কালীমত্তি ধারণ করিয়াছে। তাহার অল্প পরিমাণ রসনা ভবতোষ যাহা দেখিয়াছিল, তাহা যেন অন্ধেক বাহির হইয়া পড়িয়াছে। তাহার যেন দুইটা নতন হস্ত উৎপন্ন হইয়াছে। তাহার এক হাতে যেন রক্তমাখা খড়া, অপরটাতে যেন ছিন্ন মডে দলিতেছে। মডেটা যেন ভবতোষের মত দেখিতে। আর একদিন স্বপন দেখিল, ভবতোষ যেন একটা কণ্টকময় জঙ্গলে পথ হারাইয়া ফেলিয়াছে। আকুল হইয়া পথ, খাজিয়া বেড়াইতেছে, এমন সময় একটা মহিষ যেন তাহাক তাড়া করিয়া আসিল । , ২১ •