পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সংকারের সমস্ত আয়োজন হইতে লাগিল। সেখানে সত্যচরণ নামে একটি যুবক দাঁড়াইয়া ছিল, সে নবকুমারের একজন বিশেষ বন্ধ। তাহার হাতটি ধরিয়া গগনচন্দ্র বলিলেন, “তুমি বাবা গিয়ে, নবীকে একখানি টেলিগ্রাম করে দাও; আমার আর হাত-পা সরছে না।” সত্যচরণ বলিল, “আচ্ছা, আমি আপিস যাবার সময় টেশন থেকে টেলিগ্রাম করে দেবো এখন।” সত্যচরণ কলিকাতায় চাকরি করে—রোজ নয়টার ট্রেণে আপিস যায়। ፬ × ክ সে দিনটি শোকের মধ্যে কাটিয়া গেল। সন্ধ্যা হইলে সকলে দগধাদি পান করিয়া সকালে সকালে শয়ন করিল। গগনচন্দ্র বিপত্নীক। তিনি একা একঘরে শয়ন করিয়া ছিলেন। অনেক রারি হইল–গহের কুত্ৰাপি আর কোন সাড়াশব্দ নাই—কেবল গগনচন্দ্র . তাঁহার শয্যায় এপাশ ওপাশ করিতেছেন। শোকটা যেন ইহারই সর্বাপেক্ষা অধিক লাগিয়াছে বুঝি ? ইহা শোক, না আতঙ্ক ?—দুইটি নিকটসাপকীয় বন্ধের মধ্যে একটি মারলে, অপরটির সহজেই একটা আতঙ্ক উপস্থিত হয়—তাহার মনে হয়, এইবার ত আমার পালা আসিল। যাহা হউক, ক্ৰমে রাত্রি গভীর হইল। গগনচন্দ্র তখন ধীরে ধীরে শয্যাত্যাগ কৃরিয়া উঠিলেন। অন্ধকারে অতি সন্তপণে, নিজের ঘরের খিলটি খালিয়া নগ্নপদে বাহিরে আসিয়া দন্ডায়মান হইলেন। জমাট "অন্ধকার—তাহার উপর আকাশে মেঘ করিয়াছে। মাঠের প্রান্তে শগাল একটা ডাকিয়া উঠিল। গগনচন্দ্র ক্ষণকাল নিস্তবধভাবে দাঁড়াইয়া থাকিয়া ধীরে ধীরে বড় ঘরের বারান্দার দিকে অগ্রসর হইলেন। যে ঘরে গতরত্রে বন্ধের মৃত্যু হইয়াছে—সে ঘরটি আজ তালাবন্ধ। গগনচন্দ্র নিঃশব্দে তালাটা খালিয়া সেই অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করিলেন। ভয়ে তাঁহার বািকটা দরদের করিয়া উঠিল। হায় ভ্রাতৃস্নেহ!—এতরাত্রে নিদ্রাহীনচক্ষে ভ্রাতা কঝি ভ্রাতার মৃত্যুশয্যাটি একবার দেখিবার জন্য ও অশ্রুপাত করিবার জন্য আসিয়াছেন। গগনচন্দ্র পবিবৎ সাবধানতার সহিত ঘরের দয়ারটি প্রথমে বন্ধ করিয়া দিয়া, একটি দিয়াশালই জালিলেন। প্রদীপটি জালিয়া, প্ৰবকথিত লোহার সিন্দকটির নিকট অগ্রসর হইলেন। সিন্দকটির উপর হইতে একটি ভাঙ্গা কাঠের হাতবাক্স, একখানি ছিন্ন মহাভারত ও কয়েকটি খালি ঔষধের শিশি নামাইয়া সিন্দকটি খালিয়া ফেলিলেন। কয়েকটি কাপড়ের পাটলি তাহা নামাইবার পর, নীচের দিক হইতে পরোক্তন লাল চেলী বাঁধা একটি ছোট পট্টলি বাহির হইল। সেইটি খালিয়া দেখিলেন, তাহার মধ্যে তাড়াবন্দী অনেক নোট রহিয়াছে। তাহা দেখিবামাত্র, সেই ক্ষীণালোকে সেই মৃত্যুকক্ষে গগন蠶 মসীকৃষ্ণ মখমণ্ডলে শত্র দন্তপংক্তির, ছটা ক্ষণকালের জন্য উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল। ত্বরিতহস্তে অন্য পটলিগুলি যথাস্থানে পনঃসন্নিবিষ্ট করিয়া গগনচন্দ্র সিন্দকটি বন্ধ করিয়া ফেলিলেন। মহাভারত ও ভাঙ্গা বাক্স ও ঔষধের শিশিগুলি তাহার উপর পরববৎ সাজাইয়া রাখিয়া, প্রদীপ নিভাইয়া দয়ারে তালা বন্ধ করিয়া, নিজ শয্যাগহে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। দয়ারটি বন্ধ করিয়া, প্রদীপ জালিয়া, গগনচন্দ্র শয্যার উপর উপবেশন করিলেন । বালিশের নিম্নে তাঁহার চশমার খোলটি ছিল। চশমাটি চক্ষে লাগাইয়া, নোটের তাড়াগলি নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন।—কেবল দশ টাকার নোট—একখানিও নম্বরওয়ারি নোট তাহাতে ছিল না। একটি তাড়া খলিয়া নোটগুলি সাবধানে গণনা করিয়া দেখিলেন;একশভখানি আছে-হাজার টাকা প্রত্যেক তাড়াটি খলিয়া একে একে গণনা করিলেন— প্রত্যেকটিতেই হাজার টাকা করিয়া। এরপ দশটি তাড়া ছিল—দশ হাজার টাকা। きかS