পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একবার গণিয়া তৃপ্তি হইল না—গগনচন্দ্র নোটগুলি বারংযায় গণিয়া গণিয়া দেখিতে লাগিলেন। এরাপ করিতে করিতে ভোর হইয়া পড়িল। তখন তিনি পটলিটি নিজের সিন্দকে বন্ধ করিয়া, প্রদীপ নিভাইয়া, ঘরের বাহির আসিলেন। দই একটা কাক ডাকিতে আরম্ভ করিয়াছে—অলপ অলপ আলো হইয়াছে। গাড়ীটি হাতে করিয়া, বাটীর বাহির হইয়া আমবাগানের ভিতর দিয়া গগনচন্দ্ৰ পঙ্করিণীর তীরে উপস্থিত হইলেন। তখনও কোথাও জনমনষ্যের দেখা নাই। প্রথমেই গগনচন্দ্র, দাদার লোহার সিন্দকের চাবিটি ছড়িয়া পাকরিণীর মধ্যস্থানে নিক্ষেপ করিলেন। তাহার পর হস্ত মাখ প্রক্ষালন করিয়া গাড়তে জল ভরিয়া, ধীরে ধীরে বাড়ী ফিরিয়া আসিলেন। や l এই দিন বেলা নয়টার সময় প্রবাস হইতে সদ্যপিতৃহীন নবকুমার বাটী আসিয়া পেপছিল। সে ইতিমধ্যেই নিজের সাধারণ বেশ পরিত্যাগ করিয়া, কাচা পরিয়াছে, পদ নগ্ন করিয়া আসিয়াছে। নবকুমারের বাড়ী পেপছিবার সঙ্গে সঙ্গে আর একবার ক্লন্দনের ধবনি উঠিল। তাহা শনিয়া প্রতিবেশীরা আসিয়া সান্ত্বনা দিতে লাগিল। সকলে বলিল—“নব, কে’দ না বাবা, চাপ কর। বাপ মা কি আর কার চিরদিন থাকে ? এই তোমার খড়োমশায় রয়েছেন, ইনিই এখন তোমার বাপ হলেন। চাপ কর বাবা।” প্রতিবেশীরা গহ ত্যাগ করিবার সময় পরস্পরের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিল, "আহা-গগন চক্লবত্তী বড়োর চেহারাটা কি হয়ে গেছে দেখেছ, একদিনে ? চোখ-টোক সব একেবারে বসে গেছে।” একজন বলিল, “আহা, ভাইয়ের শোকটা বড় লেগেছে বামনের।”–চক্ষ বসার আসল কারণ যে সারারাত্রি জাগরণ ও মনের অঙ্গনে শয়তানের তাণ্ডব নৃত্য, তাহা কেহই অনমান করিতে পারিল না। যথাসময়ে নবকুমার খড়মহাশয়ের সহিত বসিয়া হবিষ্যান্ন ভোজন করিল। ভোজনন্তে গগনচন্দ্র মাদর পাতিয়া বসিয়া তামাক খাইতে লাগিলেন, নবকুমার তাঁহার কাছে বসিয়া ছিল। খড়মহাশয় বলিলেন, “শ্রাধশক্তির ত আয়োজন এই বেলা থেকে করতে হবে! টাকাকড়ি কিছল এনেছ ?” নবকুমার বলিল, “টাকাকড়ি আমি কোথায় পাব ? বাবার সিন্দক থেকে কিছু বেরতে পারে বোধ হয়।” “তা দেখ—যদি কিছয় থাকে।” “চাবিটা ?” “চাবি ? চাবি কোথায় তা ত বলতে পারিনে। হয়ত বউমাকে দিয়ে গেছেন । জিজ্ঞাসা কর দেখি।” নবকুমার গিয়া সাবিত্রীকে জিজ্ঞাসা করিল। সাবিত্রী বলিল, “আমাকে ত দিয়ে যাননি। শেষ পৰ্য্যন্ত তাঁর কোমরের ঘনসিতে ছিল দেখেছি। খড়োমশায় হয়ত খলে নিয়ে থাকবেন।” “না-উনি ত বললেন-চাবি কোথায়, কিছুই জানেন না।” নবকুমার ফিরিয়া আসিয়া খড়ামহাশয়কে এই কথা বলিল। তিনি বলিলেন, “তাঁর কোমরে ছিল ? তা ত লক্ষ্য করিনি। তবে হয়ত তাঁর চিতায় উঠেছে।” নবকুমার একটা বিরক্তির সঙ্গে বলিল, “ওটা আপনি লক্ষ্য করলেন না ?” খড়ামহাশয় হকো নামাইয়া কাঁদকাঁদ স্বরে বললেন, “আরে বাবা, সে সময় কি আমার, চাবি সিন্দকে টাকাকড়ি ভাববার মত মনের অবস্থা ছিল ? সে সব তোমরা পার।” নবকুমার কিয়ৎক্ষণ নীরব রহিল। খড়ামহাশয় ধর্মপান করিয়া যাইতে লাগিলেন। শেষে নবকুমার বলিল, “তবে এখন উপায় ?” R y 8