পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"উপায় আর কি ? কামার ডাকিয়ে সিন্দকে খোলাতে হবে।” কামার ডাকাইয়া সিন্দকে খোলান হইল। তাহা হইতে কেবল গটি ত্রিশেক নগদ টাকা আর নবকুমারের পরলোকগতা জননীর খানকয়েক সোণা রপোর পরাতন অলঙ্কার বাহির হইল । ইহা দেখিয়া নবকুমার ত মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িল। তাহারও বরাবর মনে ধারণা ছিল যে, তাহার পিতার সিন্দকে নগদ দশ হাজার টাকা আছে। তাহার মনে বিশ্ববাস হইল, খড়ামহাশয়ই সে টাকা সরাইয়াছেন। অথচ তাহার সাক্ষসাবদ কিছুই নাই। আসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কিছর পেলে ?” সিন্দক হইতে যাহা বাহির হইয়াছিল, নবকুমার তাহা দেখাইল। পরে জিজ্ঞাসা করিল, “দশ হাজার টাকা ছিল যে, কোথা গেল ?” গগনচন্দ্র আশচয" হইয়া বললেন, “কত টাকা ?” “দশ হাজার।” খড়া মহাশয়ের মখখানি বিবণ হইয়া গেল। একট কাঠহাসি হাসিয়া তিনি বললেন, দশ হাজার টাকা ? পাগল । কোথা পাবেন তিনি ?” - নবকুমার বলিল, "কেন, সকলেই ত বলত এই সিন্দকে তাঁর দশ হাজার টাকা আছে।” "সকলে ত সব জানে। কেন, দাদা ত সব্বদাই বলতেন, তাঁর এক পয়সাও নেই। তুমি পশ্চিম থেকে যা টাকাকড়ি পাঠাতে মাঝে মাঝে, তাই খরচপত্র করতেন, আর দ-পাঁচ টাকা জমিয়েছিলেন। হাঃি—দশ হাজার টাকা । দশ হাজার টাকা কি সোজা কথা রে বাবা ?” নবকুমার আর কি করিবে? নীরবে মনের সন্দেহ ও রাগ হজম করিয়া যথাসময়ে পিতৃশ্ৰাধ সম্পন্ন করিল। অলপদিন পরেই তাহার ছটি ফরাইল-ভগ্নহৃদয় লইয়াকর্মস্থানে ফরিয়া যাইতে হইবে। এতদিন তাহার পিতার সেবাশ্যশ্রষার জন্য স্মীকে বাটীতে রাখিয়াছিল। এবার সাবিত্রীকে সে পশ্চিমে লইয়া গিয়া নিজের কাছে রাখিবে। সত্রীকে বলিয়া গেল, পাজার ছটি হইতে আর বেশী বিলব নাই। ইতিমধ্যে একটা বাসা ঠিক করিয়া, পজার সময় আসিয়া তাহাকে লইয়া যাইবে। ll 8 ll নবকুমার কলিকাতায় আসিল । পুরাতন গহনাগুলি বিক্রয় করবে, কিছ কাপড় চোপড়ও কিনিবার প্রয়োজন আছে। সারাদিন বউবাজারে ও বড়বাজারে ঘুরিয়া আড়াইশত টাকায় গহনাগুলি বিক্ৰয় করিল। বড়বাজারে একটা কাপড়ের দোকানে বসিয়া কিছ কাপড় খরিদ করিল। তাহার পকেটবুকে নোট ছিল, টাকা দিবার জন্য পকেটবুক বাহির করিতে গিয়া দেখে, পকেটবুক নাই—গটিকাটায় কখন চরি করিয়াছে জানিতে পারে নাই ! বিপদের উপর বিপদ! সেই পকেটবুকে তাহার রিটাণ টিকিটখানি পৰ্যন্ত ছিল, আড়াইশত টাকার নোট ছিল—খানকতক পরাতন চিঠিপত্র ছিল। দোকানের কাপড় দোকানে রাখিয়া নবকুমার বাসায় ফিরিয়া আসিল। আজ পাঞ্জাব মেলে কম থানে ফিরিবে ভাবিয়াছিল—এমন টাকা নাই যে নতন টিকিট কিনিয়া ফিরিয়া যায়। ভাবিল, পরদিন সত্যচরণ আসিলে, আপিসে তাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়া কিছু টাকা ধার লইয়া যাইবে। দঃখে ম্রিয়মাণ হইয়া কোনও রকমে নবকুমার বাসায় রাত্রিযাপন করিল। প্রভাতে তখনও নবকুমার শয্যাত্যাগ করে নাই—বাসার একটি মোটা বাব একখানি সংবাদপত্র হাতে করিয়া আসিয়া বলিলেন, “নবকুমারবাক দেখন ঈশ্বর যা করেন, তা ভালর জন্যেই করেন। কাল ষে আপনার পকেটবুক চরি হয়েছিল, সেটা একটা খুব মঙ্গল বলতে হবে।” নাম আল ইল ল্যু ব্যাপারটা কি ?” &