পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাতাস আসিতেছিল, সতরাং কপাট বন্ধ করিয়া দিতে হইল। এইবার বটিও আসিল; মাথার উপর টিনের ছাদে নববর্ষাজলপাতে বিচিত্র সঙ্গীত উৎপন্ন হইল। তখনও হিমানী নীরবে বসিয়া। মণিভূষণ ডাকিল—“হিমানী।” হিমানী কম্পিত্যবরে উত্তর করিল,—“কি, মণি ?” “একি সবগুন দেখিতেছি না সত্য ?” “সত্য। সবপন হইলে বেশ হইত।” "কেন বেশ হইত ? আমার ত শঙ্কা হইতেছে, পাছে ইহা স্বপন হইয়া যায়।” - “দুঃসংবাদ আনিয়াছি। তোমার সত্ৰী সাংঘাতিক পীড়ায় আক্রান্ত হইয়াছেন। তোমায় দেখিতে চাহিয়াছেন। তাই আমি তোমায় লইতে আসিয়াছি।” - “আমার স্ত্রী ! আমার সন্ত্রীর সংবাদ তুমি কেমন করিয়া জানিলে ?” “কৃষ্ণনগর –কৃষ্ণনগরে কি করিতে গিয়াছিলে ?” হিমানী তখন সংক্ষেপে পববকথা বলিল। বলিল—“তুমি কলিকাতা পরিত্যাগ করিলে তিন মাস পরে আমার পিতার অকস্মাৎ মৃত্যু হয়। শোকে সান্ত্বনা পাইবার জন্য আমার মা যীশুখন্টের কাযে নিযুক্ত হইয়াছেন। কৃষ্ণনগরে যে জেনানা-মিশন খলিয়ছে, তিনি তাহার কত্রী। আমিও তাঁহার কাছে থাকিয়া চিকিৎসা ব্যবসায় করি। এইরপ দুই বৎসর আমরা কৃষ্ণনগরে।” শনিয়া মণিভূষণ বলিল—“আমার স্ত্রীর পীড়ার সংবাদকে দুঃসংবাদ কেন বলিতেছ হিমা ? অামার সত্ৰী যতদিন বাঁচিয়া থাকিবে, ততদিন তাহারও জীবন দুঃখময়, আমারও হমানী বলিল,—“ছি মণি, ওকথা মুখে আনিও না। সবগে ঈশ্বর আছেন, তিনি ইহা শনিয়া কি মনে করবেন ? আমি তোমার কথায় লজিত হইতেছি।” । মণিভূষণ কিছুক্ষণ চপ করিয়া রহিল। পরে বলিল—“দটি প্রাণীকে চিরপিপাসায় দগ্ধ করা কি ঈশ্বরের মত কায ?" হিমানী বলিল—“ছি মণি, ওকথা বলিও না। ঈশ্বরের উপর বিচার করিবার অধিকার আমাদের নাই। তাহা ছাড়া, কেন তুমি ভুলিয়া যাও যে তুমি বিবাহিত ব্যক্তি এবং তোমার সত্ৰী বৰ্ত্তমান ?” মণিভূষণ বলিল—“সত্য বলিয়াছ হিমানী, আমার সন্ত্রী বক্তমান এবং তিনি এই ঘরেই দেখিবে ? তোমাকেও ঠিক আমার স্ত্রীর মত দেখিতে, তাই ভ্ৰম করিয়াছিলাম ।” হিমানী ভয় ও বিসময়ের সহিত মণিভূষণের মুখপানে চাহিল। তাহার উন্মাদব্যাধির কথা সে পকেবই শনিয়াছিল। ཅ༠ “ ། মণিভূষণ ছবি তিনখানি বাহির করিয়া হিমানীর হাতে দিল। হিমানী অনেকক্ষণ ধরিয়া সেই অলপ আলোকে ছবিগুলি দেখিল। ওদিকে মুখ ফিরাইয়া গোপনে দই ফেটিা আশ্রমোচন করিল। মনে মনে ভাবিল,—মানুষ-জন্ম অপেক্ষা ছবি-জন্ম অনেক ভাল। শেষে ছবিগুলি ফিরাইয়া দিয়া রলিল—“এ তুমি কোথায় পাইলে ?” মণিভূষণ উত্তর করিল—“তুমি দিয়াছিলে মনে নাই ? আমার বকের ভিতর রাখা ছিল, তিল তিল করিয়া বাহির করিয়াছি।” আর হিমানী পারিল না। ঝর ঝর করিয়া অশ্রদ্ধারা বহিয়া তাহার কপোল ভাসাইল । মণিও কাঁদিল। হিমানী একটা সদস্থ হইয়া বলিল—“মণি, এতদিন তবে কি করিলে ?” মণিভূষণ বলিল—“তুমিই বা কি করিলে ?” হিমানী বলিল—“আমি যে কি করিয়াছি তা ঈশ্বরই জানেন।” মণিভূষণ বলিল-“আমিও জানি, এই দেখ।” বলিয়া কবিতার খাতাখানি হিমানীর