পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিয়া মাংস হইত। সেদিন ম্যানেজার আমার জন্য পায়সের বন্দোবস্ত করিতেন। বাঁকীপরে একটি “মহাদেব স্থান" আছে—সেখানে প্রায়ই গিয়া ঘরিয়া বেড়াইতাম, —যদি কোন সাধমহাত্মার দশন পাই। “সাধ"র দশন মোটেই দলভ ছিল না, কিন্তু সাধমহাত্মার দশন কখনও ঘটে নাই। অধিকাংশ সাধাই নিরক্ষর-শাস্ত্ৰজ্ঞান আদেী নাই বলিলেই হয়—কেবল কতিপয় বাঁধা বলি মুখস্থ আছে; আর গঞ্জিকা ভস্ম করিতে নিতান্তই সনিপণ। তবু তাহদের কাছে গিয়া বসিয়া থাকিতাম, ধৰ্ম্মতত্ত্ববিষয়ে প্রশন, উত্থাপন করিতাম। তুলসীদাস বলিয়াছেন— সব সে বসিহো, সব সে রসিহো সব সে মিলিহে ধায় ক্যা জানে ক্যা ভেখ মে নারায়ণ মিল যায়। আমি তখন বি-এ ক্লাসে পড়ি, পরীক্ষার আর পাঁচদিন মাত্র বিলম্ব আছে। একজন আসিয়া সংবাদ দিল, গঙ্গাতীরে একজন যথার্থ সাধ আসিয়া উপস্থিত হইয়াছেন। শনিয়া আমি তৎক্ষণাৎ পস্তকাদি বন্ধ করিয়া বাহির হইলাম। একাকী গঙ্গাতীরাভিমখে প্রস্থান করিলাম। তখন বেলা তিনটা। গঙ্গাতীরে, সনানের ঘাটগুলি হইতে দরে, একখানি খড়ে বাঁধা ক্ষুদ্র কুটীর আছে। সেইখানে সাধুবাবা আশ্রম প্ৰথাপনা করিয়াছেন। আমি নগ্নপদে সেখানে গিয়া উপস্থিত হইলাম। দেখিলাম, তিন চারজন হিন্দপথানী ব্যক্তি সাধবাবার কাছে বসিয়া আছে। সধবাবা হিন্দিতে তাহাদের সঙ্গে আলাপ করিতেছেন। আমি একটি শালপাতার ঠোঙ্গায় করিয়া কিঞ্চিৎ মিস্টান্ন লইয়া গিয়াছিলাম। সেই মিষ্টান্ন এবং একটি সিকি সাধুবাবার পদপ্রান্তে রাখিয়া তাঁহাকে প্রণাম করিলাম । দেখিলাম, অন্যান্য ভক্তগণেরও উপহার সেখানে রক্ষিত রহিয়াছে। সাধুবাব্য হিন্দুস্থানী কয়েকটির সঙ্গে তুলসীদাসের রামায়ণ সম্বন্ধে আলাপ করিতে লাগিলেন। বলিতে লাগিলেন, “দেখ, আমি বাঙ্গালী,—আমাদের বাঙ্গালা রামায়ণ আছে; কিন্তু তুলসীদাস তাঁহার গ্রন্থে ভক্তিরসের ষেরপ ফোয়ারা তুলিয়াছেন—সেরুপ আমাদের রামায়ণে নাই ।”—বলিয়া তিনি তুলসীদাস হইতে নানাথান আকত্তি করিয়া যাইতে লাগিলেন। - এ ব্যাপারে আমার মনে যেন একটু খটকা লাগিল। কথাটা যেন এক্ট খোসা মোদের মত শনাইতেছে না ?--থরিন্দার খসী করার মত ? কায হাঁসিল করার মত ? আমাদের গ্রামে একটি বিধবা ছিলেন-পত্র লেখাইবার প্রয়োজন হইলে আমার কাছে আসিয়া বলিতেন—“আহা, রাজার হাতের নেকাগুলি যেন মক্তোর মত।—একখানি চিটি নিকে দেবে বাপধন ?" হিন্দুস্থানীরা প্রণাম করিয়া চলিয়া গেল। তখন সাধবাবা প্রণামীর পয়সাগুলি জড় করিয়া গণিয়া দেখিলেন। সিকি, দয়ানী ও পয়সা অনেকগুলি হইয়াছিল। গণিয়া বাবাজীর মখ উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। আমি তখন মনে ভাবিতেছি, ইনিও একটি ভণ্ডসাধ আমার সময় ও অথব্যয় কথা হইয়াছে –কিন্তু পরক্ষণেই সাধবোবা যে কথা বলিলেন, তাহাতে আমার পরেভাব তৎক্ষণাৎ তিরোহিত হইল, এবং মন ভক্তিতে পণে হইয়া উঠিল। সাধুবাবা বলিলেন, “আজ প্রণামীতে প্রায় একটাকা পাইয়াছি। এই টাকাটি দভিক্ষভাণ্ডারে যাইবে। ইহাতে ষোলজন লোকের একবেলার আহার সম্পন্ন হইবে।” আমি অনেক সাধর সঙ্গে বেড়াইয়াছি,-কোনও সাধর মথে ত কখন দভিক্ষ-ভাণ্ডার বা ক্ষুধাত্ত ব্যক্তির প্রতি মমতার কথা শুনি নাই । Jতুস কলম আপনি প্রমীতে বাহা পান সমস্তই কি ঐ করে সবার ২১৯