পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“সমস্ত। একটি কপদকও আমি রাখি না ।” “তবে আপনার চলে কি করিয়া ?” তিনি আমার প্রদত্ত ও অন্য কয়েকটি মিস্টান্নের ঠোঙ্গা দেখাইয়া বলিলেন, “এই দেখ । আমার কি ক্ষুধায় মরিবার উপায় আছে ?” আমি বলিলাম, "আপনি সন্ন্যাসী মানুষ-লানাস্থানে পাহাড়ে জঙ্গলে ঘুরিয়া বেড়ান, —এমন ত অনেক দিন হইতে পারে যে ভক্তের উপহার আসিয়া পেছিল না। সেদিন কি করেন ?” সাধুবাবা বলিলেন, "একটা ভুল করিয়াছ । ইহা ভক্তের উপহার নহে-ভগবানেরই মনে হইল, লোকটি ভস্তির উপযুক্ত বটে। কিয়ৎক্ষণ পরে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “তোমার নাম কি ?” “রাজীবলোচন ঘোষাল।” আমার অন্যান্য পরিচয়ও তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন। সমস্তই বলিলাম। সব শনিয়া তিমি বলিলেন, “তোমার পরীক্ষার আর পাঁচ দিন মাত্র বিলম্ব আছে—আর তুমি পাঠে অবহেলা করিয়া ঘরিয়া বেড়াইতেছ?” আমি বললাম, “অর্থকরী বিদ্যায় আমার চিত্ত নাই। সাধ মহাত্মাগণের সঙ্গই আমার পক্ষে আনন্দপ্রদ ।” সাধুবাবা কিয়ৎক্ষণ নীরব থাকিয়া বললেন “দেখ, পথ অনেক আছে। ষে যে পথ অবলম্বন করিয়াছে, তাহার পক্ষে সেই পথ ধরিয়া চলাই কত্তব্য। এক পথে দাঁড়াইয়া, অপর পথের পানে প্রলব্ধ দণ্টিপাত করিলে, অপর পথেও তুমি পে’ছিলে না, অথচ যে পথে আছ সে পথেও অগ্রসর হইতে পরিলে না। যে পথে থাক, আশে পাশে তাকাইবে না, সম্মুখে সিধা তাকাইবে। এই জন্যই ত ঘোড়ার চোখে দুইটা ঠলি বধিয়া দেয় ; ঘোড়া কেবল সম্মুখের পথই দেখিতে পায়, সমখে ছটিয়া চলে।" এখন হইলে এ যুক্তির মধ্যে ছিদ্র ধরিতে পরিতাম; কিন্তু তখন ইহা শুনিয়া মোহিত হইয়া গেলাম। মনে হইল, হাঁ—এইবার একটি প্রকৃত সাধর দর্শন পাইয়াছি বটে। তাঁহার নিকট ধক্ষেমাপদেশ শ্রবণ করিতে আমার একান্ত আকাঙ্ক্ষা দেখিয়া বলিলেন, “আগে আরবধকায্য সমাপ্ত কর। পরীক্ষা হইয়া যাউক, তাহার পর আমার কাছে আসিও ” আমি বলিলাম, “আপনার আদেশ শিরোধাযা। কিন্তু ইতিমধ্যে অন্ততঃ আর একবার মাত্র আপনার শ্রীচরণদশন করিতে আজ্ঞা করন " ”তোমার পরীক্ষা কবে ?” “এই সোমবার দিন।” “আচ্ছা, সোমবার প্রভাতে একবার আমার কাছে আসিও । আমার শ্রীচরণদর্শন’ করিবার জন্য নহে,—তোমার পরীক্ষা সম্বন্ধে তোমায় কোনও আবশ্যক কথা বলিব ।” - কিয়ৎক্ষণ কথোপকথনের পরে, আমি উঠিবার সংকল্প করিতেছি, সাধবাবা বলিলেন, “সাধ্যসেবা করিবার তোমার বড়ই আকাঙ্ক্ষা-একটা কায কর দেখি।" আমি যেন নিজেকে ধন্য মানিয়া বলিলাম, “আজ্ঞা করন।” বাবা বলিলেন, “ঐখানে কমণ্ডলটা আছে, গংগা হইতে জল ভরিয়া লইয়া আইস ।” আমি জল আনিয়া রাখলাম। সাধবাবা অন্যদিকে চাহিয়া, অন্যমনে বলিলেন— “Thanks. - সাধ সন্ন্যাসীর মুখে “Thanks"ও এই প্রথম শুনিলাম। তাঁহাকে প্রণাম করিয়া বিস্ময় ও আনন্দপ,ণ হািদয়ে ধাসায় ফিরিয়া আসিলাম। ২২ •