পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাহা হয়—গহিণীর মতই বজায় রহিয়া গেল—কত্তাকে পরাস্ত মানিতে হইল। কলিকাতায় গিয়া বিবাহ হইবে শনিয়া কিন্তু প্রভা ও রজনী একটি অভিনব পরামর্শ করিয়া বসিয়াছে। তাহা যেমন অদ্ভুত তেমনই বিপজ্জনক। তাহারা পরামর্শ করিয়াছে ঐ দিন প্রভাতে অন্যান্য সকলের সঙ্গে রেলে কলিকাতায় না গিয়া—দইজনে একাকী বাইসিক্লে যাত্রা করবে। কিন্তু অভিভাবকেরা এ কথা শুনিয়া অবাক হইয়া গেলেন। প্রভা ও রজনীর উপস্থিতিকালে পারিবারিক সভায় এ বিষয়ের একদিন আলোচনা হইল। বাধাপ্রাপ্ত হইয়া প্রভার চক্ষ দুইটি জলপািণ হইয়া আসিল। তখন সকলে রজনীকে বলিল, “আচ্ছা প্রভা না হয় ছেলেমানষে, তুমি কি বল ?” । হায়, প্রেমটা এমনি জিনিস—তাহাতে পড়িলে কলেজের অধ্যাপকেরও বধিভ্রংশ হইয়া যায়। রজনী একটা হাসিয়া বলিল, “আপনারা যে রকম বিপদ আশঙ্কা করছেন, তার কোনও কারণ নেই। গঙ্গার ধার দিয়ে বরাবর ভাল রাস্তা আছে। শীতের সকালবেলা রোন্দরের প্রভাবে কোনও কট হবার ভয় নেই।” প্রভার মা বললেন, “আচ্ছা কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই যেন, কিন্তু তোমরা কি ঠিক সময় পৌছতে পারবে? কখখনো পারবে না। এখান থেকে দধিমংগল করে বেরতে হবে। কলকাতায় গিয়ে গায়ে-হলদের বন্দোবস্ত। নটা দশটার মধ্যে কলকাতায় পৌছতে পারবে? কখখনো পারবে না। ও সব মৎলব ছেড়ে দাও।” বলিয়া রাখি, যদিও ই-হারা নব্যতন্ত্রের লোক তথাপি বিবাহের আপত্তিবিহীন সনাতন আচারগুলি রক্ষা করিতে সমংেসকে , দধিমঙ্গলে শাঁখ বাজাইবার জন্য কলিকাতা হইতে প্রভার দিদি নলিনী সংপ্রতি এখানে আসিয়াছেন। রজনী বলিল, “কলিকাতা এখান থেকে চব্বিশ মাইল বই ত নয়—নটা দশটার অনেক আগে আমরা পৌঁছতে পারব।” নলিনী বলিলেন, “গর্জনের কথা না শোন কাণে—শেষকালে অনুতাপ করতে হবে দেখো ৷” তাহার চক্ষে যদি সংপ্ৰতি জলের পরিবত্তে অগ্নি থাকিত তবে দিদি অবিলম্বেব ভস্মসাৎ হইয়া যাইতেন সন্দেহ নাই। যাহা হউক, ক্ৰমে সকলের মত হইয়া গেল। প্রভারও সজলচক্ষে আবার হাসি দেখা দিল । tl & in আজ নববষ—আজ প্রভা ও রজনীর বিবাহ। ভোরবেলা চৌধুরী পরিবারের সকলে জাগিয়া উঠিয়াছেন। এখনি দধিমঙ্গল হইবে। প্রথমে অনেক আপত্তিসত্ত্বেও, রজনীও আসিয়া এইখানে প্রভার সহিত দধিমঙ্গল খাইতে স্বীকৃত হইয়াছে। সমস্ত প্রস্তুত। রজনী আসিলেই হয়। ক্ৰমে বাহিরের অন্ধকার হইতে চক্রের শব্দ এবং ঘন্টার ঠংঠংে ধ্বনি আসিল। মহত্ত পরেই রজনী আসিয়া প্রবেশ করিল। সে তাহার জিনিসপত্র ভূত্যহতে রেলে কলিকাতায় পাঠাইয়া দিয়াছে। যাত্রার জন্য প্রস্তুত হইয়া আসিয়াছে। নলিনী পরিহাস করিয়া বললেন, “আগে বরকনের দধিমঙ্গল আলাদা আদালা হত।" প্রভার মা বলিলেন, “তুই ত জিদ করে বেচারিকে আনালি। এখন আবার ঠাট্টা করছিস কেন ?” রজনী বলিল, “দেখন ত একবার অন্যায়। উনি আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে শললেন—আমার বিয়ের সময় আমাকে একলা দধিমঙ্গল খেতে হয়েছিল, সে দুঃখ আমার এখনও মনে আছে। আমার ত দিদি ছিল না। প্রভাকে দিয়ে আমার সে সাধ পণ t, Iণ I' এখন এই কথা বলছেন!” कँ ২২৩