পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হাতে দিল । হিমানী দেখিল, তাহার হস্তাক্ষর। পড়িল—তাহারই মনের কথা বটে। মণিভূষণকে একটা কথা বলিতে যাইতেছিল—কিন্তু তখনি আত্মণলানি আসিয়া তাহার কন্ঠ চাপিয়া ধরিল। ভাবিল—“এ কি করিতেছি ! নবদ্গার মঙ্গলামঙ্গল আমার হাতে, কিন্তু আমি । যে তাহার সব্বনাশ করিবার উপক্ৰম করিতেছি। নিবান আগন আবার জবালিতে বসিয়াছি!” তখন জল ছাড়িয়াছে; আকাশও পরিৎকার ; হিমানী উঠিয়া দাঁড়াইল। বলিল—“মণি, অনেক বিলম্ব করিয়া ফেলিলাম। পাঁচটার গাড়ীতে আমাকে কৃষ্ণনগর ফিরিতেই হইবে। আমার হাতে ভিন্ন নবদ্যগা ঔষধ খায় না। তুমি কাল যাইবে ত ?” মণিভূষণ ভাবিয়া বলিল—“যাইব।” মনে মনে বলিল—“প্ৰাণেশবরী, তোমার দেখা পাইবার জন্য নরকেও যাইতে পারি।” হিমানী বলিল—“তবে আমি চলিলাম।” মণিভূষণ স্টেশন অবধি হিমানীকে রাখিয়া আসিতে চাহিল। হিমানী আপত্তি করিল, কিন্তু মণিভূষণ শুনিল না, সঙ্গে গেল। পথে হিমানী মণিভূষণকে সাবধান করিয়া দিল, .তোমার সঙ্গে সে আমি পববাবধি পরিচিত তাহা সেখানে প্রকাশ করিও না। তৃতীয় পরিচ্ছেদ পরদিন মণিভূষণ বশরোলয়ে যাত্রা করিল। গিয়া দেখিল, সন্ত্রীর পীড়া সাংঘাতিক অবস্থা অতিক্ৰম করিয়াছে, একট সুরাহা হইয়াছে। হিমানী স্বয়ং চিকিৎসা করিতেছে। তাহার শবশ্রাঠাকুরাণী আসিয়া কাঁদিতে লাগিলেন। বলিলেন—“বাবা, এতদিন পরে কি মনে পড়িল ! ও ছেলেমানযে, ওর কি বন্ধি আছে ? ওর কথা কি আর ধরিতে হয়!" মণিভূষণ অপ্রতিভের মত মাটির পানে চাহিয়া, বামহস্তে গল্ফেপ্রান্ত পাকাইতে লাগিল। কোনও উত্তর করিতে পারিল না। হিমানীকে সেখানে সবাই মেমডাক্তার বলিত। মণিভূষণ শুনিল, মেমডাক্তার দুই বৎসর যাবৎ নবদ্গার সহিত সখীত্ববন্ধনে বন্ধ। এই দুই বৎসরের প্রায় প্রতিদিনই তিনি আসিয়া নবদগণকে লেখাপড়া এবং নানাপ্রকার শিল্পকর্ম শিখাইয়াছেন। পীড়ার প্রারম্ভকাল হইতেই তিনি সবয়ং চিকিৎসা করিতেছেন। এখন ষে নবদগীর বাঁচিবার আশা হইয়াছে, তাহা কেবল মেমডাক্তারের সযত্ন শপ্রেষা এবং অশ্রান্ত চিকিৎসার গুণে ! শনিয়া মণিভূষণের অন্তরাত্মা পালকে পণ হইয়া উঠিল। ষে দেবীকে সে এতদিন হৃদয়মন্দিরে পজা করিয়া আসিতেছে, সে দেবীর দেবীত্ব সত্যকার—কল্পনার নহে। হিমানী ও মণিভূষণ দুইজনে রাত্রি জাগিয়া নবদুর্গার সেবা করিতে লাগিল। এইরুপে দুইদিন কাটিল। তৃতীয় দিনে হিমান তাহার চিকিৎসা-গ্রন্থগুলি একত্র করিয়া সমস্ত প্রভাতকাল অধ্যয়ন করিল। অধ্যয়ন সমাপ্ত হইলে পরিবারস্থ সকলকে লল—“যদিও রোগিণীর অবস্থা এখন সঙ্কটাপন্ন নহে বটে কিন্তু দলবলতা এত অধিক ষে হঠাৎ জীবন সংশয় হইতে পারে। এই দর্বেলতার আশ প্রতিকারের জন্য ইহার শরীরে কোনও রোগশন স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির রক্ত সঞ্চালন করিয়া দেওয়ার প্রয়োজন।” এ কথা শুনিয়া সকলেই চমকিয়া উঠিল। জীবিত ব্যক্তি কে রক্ত দিবে ? বাহার এত সাহস ? হিমানী বলিল—“কোনও চিন্তা নাই। আমি দিব।” কেহ কেহ বলিল—“তাও কি হয় । শেষে কি হইতে কি হইবে ?” . হিমানী বলিল—“তাহাতে কোন বিপদ সম্ভাবনা নাই। আমি সবল ও সস্থকায়, বয়সেও রোগিণীর সমান, আমার রক্তেই সবচেয়ে বেশী উপকার হইবে।” নবদগার দাদা বললেন—“ঐরাপ বয়সের কোন ছোটলোকের মেয়েকে টাকার লোভ 8 × - -