পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিভাবক আমার সহিত আসিয়া সাক্ষাৎ করবেন। লালা মরলীধর লাল মহাদেও মিশ্রের বাটী, কেদারঘাট, বেনারস সিটি ; প্লাম অওতার বিজ্ঞাপনটি দইবার পাঠ করিল। পাঠান্তে তাহার মাথে কিঞ্চিৎ হাসি দেখা দিল। বারান্দায় ফিরিয়া গিয়া, চেয়ারে বসিয়া, সিদ্ধি পান করিতে করিতে সে মানা প্রকার ভাবিতে লাগিল। ভাবিল, ইহা ত বড় মজার বিজ্ঞাপন ! তাহার ষে বাল্যকালেই বিবাহ হইয়া গিয়াছে; —নহিলে এই একটা বেশ সুযোগ উপস্থিত হইয়াছিল। সপ্তদশবর্ষীয়া সন্দরী কন্য— না জানি দেখিতে কি রকম ? “প্রাথ’নাসমাজী’র কন্যা। বাংগাল। দেশে যে “বরমসমাজীরা আছে—“প্রার্থনাসমাজীরাও সেইরাপ, তাহা রাম অওতার শুনিয়াছে। এতদিন অবধি যখন সে কন্যা অবিবাহিতা আছে, তখন নিশ্চয়ই শিক্ষিতা এবং গাহিতে বাজাইতে জানে। এই প্রকার মহিলাগণের সম্বন্ধে রাম অওস্তারের মনে বহুদিন হইতে অনন্ত কৌতুহল সঞ্চিত ছিল। সিদ্ধিপান শেষ হইলে গেলাসটি নামাইয়া রাখিয়া রাম অওতার ভাবিল, "একটা কায করা যাউক। উহাদিগকে পত্র লিখিয়া, গিয়া দেখা করি। কিছুদিন উহাদের বাড়ী যাতায়াত করিয়া, মজাটাই দেখা যাউক না কেন । তাহার পর সর্টকাইলেই হইবে।” সিদ্ধির নেশায়, এই মজার মংলব মনে অটিতে অটিতে রাম অওতারের অত্যন্ত হাসি পাইতে লাগিল। তাহার বিবাহ যে হইয়াছে, তাহা উহারা জানিবে কেমন করিয়া ? কিছুদিন কোটশিপ করিয়া তাহার পর চম্পট রাম অওতার হা হা করিয়া হাসিতে লাগিল । ভাবিল আর বিলাব করা নয়। চিঠিটা এখনি লিখিতে হইবে। রাম অওতার উঠিয়া বৈঠকখানায় প্রবেশ করিল। তক্তপোষে বসিয়া বাক্স সম্মখে লইয়া চিঠি লিখিতে আরম্ভ করিল। অভ্যাসমত প্রথমে লিখিল—“শ্ৰীশ্ৰীগণেশায় নমঃ ” তাহার পর মনে হইল, ইহারা , "প্রাথ’নাসমাজের লোক, হিন্দ দেবদেবীর নাম শুনিলে ত চটিয়া যাইতে পারে! তাহাকে ত নিতান্ত অসভ্য পৌত্তলিক মনে করিতে পারে! সুতরাং আর একখানা কাগজে “শ্ৰীশ্ৰীঈশ্বরো জয়তি” রলিয়া আরম্ভ করিল। প্রবেশিকায় ফেল শুনিলে পাছে তাহারা যথেষ্ট শিক্ষিত বলিয়া মনে না করে, তাই লিখিয়া দিল সে বি-এ পরীক্ষায় ফেল করিয়াছে। নিজের সচ্চরিত্রতার কথা লিখিবার সময় তাহার মুখে হাসি দেখা দিল। কলম রাখিয়া, কিছুক্ষণ ধরিয়া হাসিল। পরে লিখিল, সে জাতিভেদ মানে না, বিলাত যাইতে কিছুমাত্র কুমারীর একখানি ফোটোগ্রাফ যদি থাকে, তাহা প্রার্থনা করিয়া পত্র শেষু ଶର୍ବ ! - সেদিন রাত্রে রাম অওতারের ভাল করিয়া নিদ্রা হইল না। ভবিষ্যৎ ঘটনা সম্বন্ধে যতই সে কল্পনা করে, ততই তাহার হাস্য সবরণ করা কঠিন হইয়া উঠে। কাশীর কেদারঘাটের নিকট, একটি ক্ষুদ্র গলির মধ্যে একটি ত্রিতল অট্টালিকা। বেলা বিপ্রহরের সময় তাহার একটি কক্ষে, মেঝেতে শতরঞ্জ বিছাইয়া, দই ব্যক্তি বসিয়া দাবা খেলিতেছিল। একজনের শরীর দঢ় ও বলিষ্ঠ, কিছ স্থল, গৌরবণ পর্ষ। অপরটির দেহ ক্ষীণ হইলেও শারীরিক বলের পরিচয় তাহার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দশ্যমান। এই দুই ব্যক্তি কাশীর দুইজন প্রসিদ্ধ গণ্ডা। প্রথম বণিত ব্যক্তির নাম মহাদেও মিশ্র—সে এই বাড়ীর অধিকারী। দ্বিতীয় ব্যক্তির নাম কাহ্নাইয়ালে—সে মহাদেও মিশ্রের একজন প্রিয় সাকিরদ। ২৩০ -