পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভূতা আসিয়া তামাক দিল। তাহার পর নিজ মেরজাইয়ের পকেট হইতে একখানি পত্র বাহির করিয়া বলিল, “চিঠি আসিয়াছে।” - কাহাইয়ালাল চিঠি লইয়া ঠিকানা পড়িল—“লালা মুরলীধর লাল, মহাদেও মিশ্রের বাটি, কেদারঘাট, বেনারস সিটি।” পড়িয়া কাহাইয়ালাল বলিল, “লালা,মরলীধর ! তোমার ! ভাড়াটিয়া লালা মরলীধর ত দুই তিন বৎসর হইল এ বাড়ী ছাড়িয়া গিয়াছে " মহাদেও ধুমপান করিতে করিতে বলিল, “লালা মরলীধর ত নকলোঁ বদলি হইয়া গিয়াছে। চিঠি খোল, দেখ কি সমাচার।" কাহাইয়া বলিল, “মুরলীধরকে ঠিকানা কাটিয়া পাঠাইবে না?” মহাদেও বলিল, “আরে,-কি সমাচার সে ত আগে দেখিতে হইবে: খেল—পড় ।” কাহাইয়ালাল গরজীর আদেশমত পত্র খলিয়া পাঠ করিল। মহাশয়, সংবাদপত্রে আপনার কন্যাবিবাহের বিজ্ঞাপন পাঠ করিয়াছি। আমি একজন সবংশীয় কায়স্থ যবেক। আমার বয়স বাইশ বৎসর মাত্র। আমি এলাহাবাদ কলেজে বি-এ শ্রেণী অবধি অধ্যয়ন করিয়াছিলাম কিন্তু পরীক্ষার পর্বে পীড়াক্কান্ত হওয়ায় পাস করিতে পারি নাই। আমি জাতিভেদ মানি না। বিলাত যাইবার জন্য আমার বাল্যকাল হইতেই বাসনা। যদি মহাশয় আমাকে আপনার কন্যার যোগ্যপার বিবেচনা করেন, তবে আমি বিবাহ করতে প্রস্তুত আছি। আমি বাল্যবিবাহের বিরোধী; একারণে অদ্যপি বিবাহ করি নাই। আমি সচ্চরিত্র এবং সত্যরদী। আজ্ঞা পাইলে আমি মহাশয়ের সহিত গিয়া সাক্ষাৎ করি। যদি কুমারীর একখানি ফোটোগ্রাফ থাকে ত পাঠাইয়া বাধিত করিবেন। —ইতি *. লালা রাম অওতার লাল, ’ মহল্লা গোরাবাজার, সহরাগাজিপর। পত্র শনিয়া মহাদেও মিশ্র হাসিতে লাগিল। বলিল, “এ ত বড় তামাসা । সে মেয়ের । ত কবে বিবাহ হইয়া গিয়াছে।” “বলিতেছে যে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেখিলাম। সে কি ?” - মহাদেও বলিল, “জান না ? লালা মুরলীধর অখবারে লটিস, ছাপাইয়া দিয়াছিল কিনা। উহারা বরমসমাজী লোক,—উহাদের সঙ্গে ত ভাল কায়েথ কিরিয়া করম করিবে না। তাই লটিস ছাপাইয়া দিয়াছিল।” “আমি ত শনিয়াছি যে কায়েথের সঙ্গেই বিরাহ হইয়াছে।” “হাঁ হাঁ—কায়েথ বটে কিন্তু বিলাতে গিয়া বালিস্টর হইয়া আসিয়াছিল –কায়েথ বটে, বড় ঘরানাও বটে। লটিস পড়িয়া সে সময় আরও অনেক লোক আসিয়াছিল, কিন্তু মালা মুরলীধর বলিল, আমি যখন বালি্টরি পাস করা জামাই পাইতেছি তখন আর কাহাকেও দিব না। এই বাড়ীতেই ত বিবাহ হইল। সে আজ তিন বৎসরের কথা ।” কাহাইয়ালাল ঘাড়টি নাড়িয়া বলিল, “ঠিক ঠিক।” কিয়ৎক্ষণ চিন্তা করিয়া বলিল, “ঐ যে লিখিয়াছে ফোটাগিরাপ পাঠাইতে, সে কি ?” মিশ্র বলিল, “জান না ? ঐ যে তসবীর হয়; একটা বাক্স থাকে, তাতে একটা সিসা লাগানো থাকে; মানুষকে সমখে দাঁড় করাইয়া দেয় আর ভিতরে তসবীর উঠে; তাহাকেই ফোটনগরiপ বলে।” কাহাইয়ালাল শনিয়া বলিল, “ওঃ হে ঠিক ঠিক। এইবার মালম হইয়াছে। তবে একটা ভাল শিকার জটিয়াছে। উহাকে চিঠি লিখিয়া আনান হউক।” । মহাদেও মিশ্র বলিল, “তাহার কাছে আর কি মিলিবে ? দুই চার দশ টাকা মিলিবে কি না সন্দেহ ।” কাহাইয়ালাল বলিল, “না। সে যখন সাদি করিবে বলিয়া আসিবে, তখন নিশ্চয়ই সোণার ঘড়ি চেন আংটি লাগাইয়া আসিবে। নিজের না থাকিলে অন্যের চাহিয়া লইয়া ২৩১