পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শোভাবদ্ধি করিল। উৎকৃষ্ট হেনার আতর লইয়া রামালে মাখাইল, নিজের গল্ফে ও ভ্ৰযে়াগলেও কিঞ্চিৎ লাগাইয়া দিল। কয়দিন কাশীতে থাকিতে হইবে তাহার স্থিরতা নাই —খরচপত্র একটু ভাল করিয়াই করিতে হইবে—তাই দুইশত টাকাও নিজের সঙ্গে লইল । সোণার ঘড়ি, সোণার চেন এবং হীরকের অঙ্গরীয় পরিধান করিয়া, স্টেশন অভিমুখে রওনা হইল। রেলগাড়ীতে তাহার মনে হইতে লাগিল, যাবতীটির সঙ্গে সাক্ষাৎ হইলে তাহার সঙ্গে কি প্রকার সম্ভাষণ করিতে হইবে। ইংরাজি ধরণে এক প্রকার কোর্টশিপ হয়, তাহা সে অবগত ছিল মাত্র, কিন্তু তাহার প্রণালীর বিষয় কিছই জানিত না। ইংরাজি উপন্যাসাদি সে কখনও পাঠ করে নাই। তবে “লাল-হীরাকী কথা”, “লয়লা-মজন", "গল-ই-বকাওলি" প্রভৃতি তাহার পড়া ছিল। ভাবিল, তত্তং গ্রন্থে বর্ণিত প্রথা অবলম্বন করিলে বোধ হয় অসঙ্গত হইবে না। কেবল প্রথম প্রথম একট আত্মসংযম দেখানই ভাল। প্রথমে আদরের “তু” না বলিয়া সম্মানের “আপ" বলাই সমীচীন হইবে,—কারণ এসকল মহিলা শিক্ষিতা এবং সভ্যতাপ্রাপ্তা কিনা! কথাটা হইতেছে,—এরপে কোনও সম্ভাষণ না করা হয় যাহাতে সে বিরক্ত হয়। দুই চারিদিন যাতায়াতের পর, একদিন নিজনে “পিয়ারী” বলিয়া সম্ভাষণ করিলে বোধ হয় অন্যায় হইবে না। রাম অওতার মনে মনে এইরুপ পর্যালোচনা ও ভবিষ্য-সুখ কল্পনা করিতেছে ক্ৰমে গাড়ী আসিয়া রাজঘাট স্টেশনে পে’ছিল। রাম আওতার নামিয়া ইতস্ততঃ দটিনিক্ষেপ করিতেছে, এমন সময় একটি যবেক তাহার নিকট আসিয়া দাঁড়াইল। যুবকটির উত্তরীয় ও পঞ্জাবী কামিজ আবিরের রঙে রাঞ্জত । খবকাট আসিয়া বলিল, “আপনার নাম কি লালা রাম অওতার লাল ?" “হাঁ আপনার নাম কি ?” “কিষণপ্রসাদ। আমি লালা মরলীধর লালের ভ্রাতুপত্র। আমি আপনাকে লইতে আসিয়াছি।”—বলিয়া সমাদর করিয়া সে রাম অওতারকে বাহিরে লইয়া গেল। সেখানে একখানা গাড়ী দাঁড়াইয়াছিল। গাড়ীতে উঠিয়া কিষণগ্রসাদ বলিল, জানালাগলা বধ করিয়া দিব কি ? আজ বৈশাখী পণিমা বলিয়া কাশীতে ছোট দোল। দেখুন না আমার এই পোষাকে আসিবার সময় দটেলোকে পিচকারী দিয়া দিয়াছে।” রাম অওতার ব্যস্ত হইয়া বলিল, “বন্ধ করিয়া দিন-বন্ধ করিয়া দিন।” তাহার ভয় হইল পাছে তাহার রেশমী পোষাক কেহ পিচকারী দিয়া নট করিয়া দেয়। দইজনে কথোপকথন করিতে লাগিল। ক্ৰমে গাড়ী গন্তব্য স্থানে গিয়া পেশছিল। অবতরণ করিয়া রাম অওতার দেখিল, একটি প্রস্তর নিমিত অট্টালিকা। ইতস্ততঃ দণ্টিপাত না করিয়াই কিষণপ্রসাদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ ভিতরে প্রবেশ করিল। প্রথমটা অত্যন্ত অন্ধকার। তাহার পর একটা সিড়ি দেখা গেল, সেখানে বাতি জনলিতেছে। সিড়ি বহিয়া উপরে উঠিয়া, রাম অওতার একটি বহৎ কক্ষে নীত হইল । সে প্রথমে ভাবিয়াছিল, ইহারা যখন নব্যতন্ত্রের লোক, তখন গহসজাদি সাহেবী ধরনের হইবে। দেখিল তাহা নহে। কক্ষটির মধ্যস্থলে ফরাস বিছানা পাতা রহিয়াছে। তাহার উপর কয়েকটি তাকিয়া রক্ষিত। মধ্যস্থলে বসিয়া একটি স্থলকায় বলিষ্ঠ গৌররণ পর্ষ আলবোলায় ধামপানে প্রবত্ত। কিষ্ণুণপ্রসাদ ওরঙ্কু কাহাইয়ালাল পেপছিয়া বলিল, “চাচাজী-এই লাল রাম অওতার লাল আসিয়াছেন”—“চাচাজী” আর কেহই নয়-স্বয়ং মহাদেও মিশ্র। মহাদেও অভ্যর্থনা করিয়া রাম অওতারকে বসাইল। নানাপ্রকার কথোপকথনে কিয়ৎক্ষণ অতিবাহিত করিয়া, কাহাইয়ালালকে ডাকিয় বলিল, “কিষণ—তবে আমি বাড়ীর ভিতর যাইয়া উহাদের প্রস্তুত হইতে বলি। তুমি ততক্ষণ ইহাকে জলযোগ করাও।” ইহা বলিয়া মহাদেও মিশ্র বাহির হইয়া গেল। কাহাইয়ালাল সেখানে বসিয়া রহিল । ং৩৩