পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিয়ৎক্ষণ পরে একটা ভূত্য রপোর বাসনে কিছ: মিস্টান্ন এবং কিছু সুগন্ধি সিখি আনিয়া হাজির করিল। কিষাণপ্রসাদ বলিল, “আপনি পরিশ্রান্ত হইয়া আসিয়াছেন—তাই এক পেয়ালা সিদ্ধির বন্দোবস্ত করিয়াছি। আমরা কাশীবাসীরা সিদ্ধির বড় ভক্ত। ক্লান্তি দরে করিতে সিদ্ধির মত পানীয় আর নাই।” রাম অওতার অনুরোধ রুমে মিস্টান্ন এবং সিদ্ধিটকু শেষ করিয়া ফেলল। পকেট হইতে ঘড়ি খলিয়া দেখিল, রাত্রি ৮টা বাজে। ঘড়ি দেখিতে দেখিতে তাহার চোখ দুইটি যেমন ঘমে জড়াইয়া আসিতে লাগিল। কাহাইয়ালাল বলিল, “আপনি গীতবাদ্য জানেন কি ?--আমাদের বাড়ীর মহিলারা অত্যন্ত গীতবাদ্য প্রিয়।” রাম অওতার বলিল, “গীত ? গীত ?—জানি বইকি? শনিবে একটা ?” তখন নেশায় তাহার মস্তিক চম চম করিয়া উঠিয়াছে। মনে হইতে লাগিল—যেন চতুদিকে বহুসংখ্যক আলোকমালা জলিয়া উঠিয়াছে: বহল লোক যেন তাহাকে চতুদিকে ঘিরিয়া সারেং, বেহালা, বীণ হাতে করিয়া আসিয়া দাঁড়াইয়াছে; ক্ৰমে তাহারা যেন সকলে তালে তালে নত্য করতে লাগিল। রাম অওতার উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিল—“গীত ? শনিবে একটা ?” বলিয়া, চক্ষ মুদ্রিত করিয়া আরম্ভ করিল— - বতা দে সখি, কৈান গলি গয়ে মেরে শ্যাম । গোকুল ঢুড়ি বিন্দ্রবিন ঢ—ৈ আর কথা মুখ দিয়া বাহির হইল না। স-ঢ-ঢ-কয়েকবার বলিয়া সেই ফরাস বিছানার উপর সে পড়িয়া গেল। তাহার মুখ দিয়া লালা নিঃসত হইতে লাগিল। কিয়ৎক্ষণ পরে মহাদেও মিশ্র আসিয়া প্রবেশ করিল। বলিল, “কি রে কাহাইয়া, ঔষধ ধরিয়াছে ?” মহাদেও বলিল, “দেখ, ত কি আছে।” কাহ্নাইয়ালাল তখন অচেতন রাম অওতারের দেহ হইতে তাহার ঘড়ি, চেন, হীরার আংটী, নগদ দই শত টাকা, রৌপ্যনিমিত পাণের ডিবা প্রভৃতি বাহির করিয়া লইল । মহাদেও টাকাগলা গণিতে গণিতে বলিল, “পোষাক খোল, দামী পোষাক।” গরজীর আদেশমত কাহাইয়ালাল সেই টপি, জুতা, রেশমী পোষাক সমস্ত খলিয়া লইয়া তাহাকে একখানা ছিন্নবস্ত্র পরাইতে লাগিল। মহাদেও বলিল, “না—না। উহাকে সন্ন্যাসী বানাইয়া ছাড়িয়া দে । কাল সকালে যখন নেশা ছটিয়া জাগিয়া উঠিবে, তখন খাইবে কি ? একটা গেরুয়া কৌপীন পরাইয়া দে । সমস্ত গায়ে ভস্ম মাখাইয়া দে ! একটা চিমটা দে। একটা ঝুলিও সঙ্গে দিয়া দে । কাশীতে সন্ন্যাসীবেশী লোক কখনও ক্ষুধায় মরে না।” কাহাইয়ালাল সমস্তই ঐরাপ করিল। মহাদেও পকেট হইতে গোটাকতক পয়সা বাহির করিয়া বলিল—“দে—এই পয়সা কটাও ঝুলিতে দিয়া দে। এখন ঘণ্টাদই এইখানেই পড়িয়া থাকুক। তাহার পরে অন্ধকার গলি দিয়া দিয়া লইয়া গিয়া, মান-মন্দিরের দেউড়িতে শোয়াইয়া দিয়া আসিস। সমস্ত রাব্রি ঠাণ্ডায় ঘসাইবে ভাল। নেশাও রাত্রি পোহাইতে পোহাইতে ছটিয়া যাইবে।” কয়েক দিবস পরে গাজীপুরের সকলেই শুনিল, রাম অওতার লাল ধনসম্পদ - ত্যাগপবেক সংসারবিরাগী হইয়া কাশীতে গিয়া ੋকরিয়াছিল; ே २७१.