পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বশতঃ তাহার মাতুল কাশীর রাস্তায় তদকথায় তাহাকে দেখতে পাইয়া, অনেক কটে গহস্থাশ্রমে ফিরাইয়া আনিয়াছেন। ধামিক ব্যক্তি বলিয়া এখন হইতে রাম অওতারের একটা খ্যাতি জন্মিয়া গেল। বৈশাখ, ১৩১১ ] সবণ-সিংহ প্রথম পরিচ্ছেদ সে আজ অনেক বৎসরের কথা। ওকালতী পরীক্ষায় উত্তীণ হইয়া আলিপুরে "প্র্যাকটিস" আরম্ভ করিলাম, কিন্তু মক্কেল জটিল না। মাসছয় কাল বার লাইব্রেরীতে বসিয়া অন্যান্য নব্য উকীলগণের সহিত নানাবিধ খোসগল্প করিয়া ক্ৰমে শ্ৰান্ত হইয়া পড়িলাম। ভাবিলাম পশ্চিম যাই। কিন্তু পশ্চিমেই বা যাই কোথায় ? ডিরেক্টারি বাহির করিয়া পশ্চিমের নানা প্ৰথানের উকীলের তালিকা অনুসন্ধান করিতে লাগিলাম। খুজিতে খুজিতে দেখিলাম, বিহারে সাসেরাম নামক একটা মহকুমা আছে, সেখানে বাংগালী উকীল একটিও নাই—আর কোনও বাঙ্গালীই নাই। যাইবার পক্ষে বাধাও কিন্তর,—য়েল নাই। আরা স্টেশনে নামিয়া এক্কা করিয়া তিন চারি দিন যাইতে হয়ী ভাবিলাম, এই ঠিক হইয়াছে। এই পথিবীর বাহির কাশী-সাক্ষাৎ কৈলাস, এইখানে গেলেই আমার পসার হইবে। -পশ্চিমের লোকের বিশ্বাস বাংগালীরা অত্যন্ত বৃদ্ধিমান জাতি। ওদিকটায় বাঙ্গালীর এখনও বেশ খাতির আছে। সুতরাং মাসখানেকের মধ্যেই । সাসেরাম পেশছিয়া প্র্যাকটিস আরম্ভ করিলাম। সাসেরামে একজন উন্দওয়ালা উকীল ছিলেন,—তাঁহার নাম মন্সী জোয়ালাপ্রসাদ। তিনিই সেখানকার প্রধান উকীল। আমাকে দেখিয়া কিন্তু বন্ধ সন্তুট হইলেন না। যাহাকে তাহাকে বলিয়া বেড়াইতে লাগিলেন—“আরে উও তো বচ্চা হায়, কাননকা হাল ক্যা জানতা হায় ?”—প্রথম প্রথম একটা মোকদ্দমায় আমি তাঁহার বিপক্ষ পক্ষের উকীল নিযুক্ত ছিলাম। মোকদ্দমা শেষে বক্ততার দিন আইনের তক’ করিবার জন্য অপরাধের মধ্যে আমি খানকতক মোটা মোটা পতক লইয়া গিয়াছিলাম। জোয়ালাপ্রসাদ কোনও আইনের পস্তকের ধার ধারতেন না। প্রকাশ্য আদালতে হাকিমকে বলিলেন— “হজর—দেখিয়ে তো তমাশা। কলকত্তা সে এক উকীল আয়েহে’—ন মোচ ন দাঢ়ী—ঔর বহস কে লিয়ে টোকড়ি ভরকে কিতাব লে আয়েহে। হজরকো কানন শিখলানে মাগতেহে!—যেয়সে কি হজরকো কানন মালম নেহি হায়!" হাকিম একট হাস্য করিয়া উকীল সাহেবকে বসিতে অনুরোধ করিয়াছিলেন। আমার প্রতি জোয়ালাপ্রসাদের এই বিদ্বেষের কারণ ক্ৰমে বঝিতে পারলাম। তাঁহার জ্যেষ্ঠ পুত্রটি পাটনা কলেজে আইন অধ্যয়ন করিতেছিল। সেই ব্যক্তিই ভবিষ্যতে সাসেরামের একমাত্র ইংরাজি জানা উকীল হয়, ইহাই মন্সী জোয়ালাপ্রসাদের বাসনা ছিল। তাই আমাকে দেখিয়া তাঁহার এত আক্লোশ। অলপদিনের মধ্যেই আমার পসার হইতে আরম্ভ হইল। একটা বন্ধে কলিকাতায় গিয়া আমার দীকে লইয়া আসিলাম। সদর রাস্তার উপর আমার দ্বিতল গহখানি। উপরের কক্ষে চিকে ঢাকা জানালাটির কাছে বসিয়া কৌতুকপণ নেত্রেীই নতেন প্রদেশের নতনতর জীবন প্রবাহ দেখিতে আমার স্ত্রী ভালবাসতেন। একদিন রাজপথে কতকগুলি বালক বালিকা সমবেত হইয়া.নত্য করিতে করিতে এই গীতটি বারবার গাহিতে লাগিল ঃ— - - 1१७१ مے۔ ۔ ۔