পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“বাঙ্গালী বিটিয়া, কলকত্তা মে বেচে তামাকুল টিকিয়া।” আমার সন্ত্রী তখনও হিন্দী শিখেন নাই। জিজ্ঞাসা করিলেন, “ও কি বলছে গো ?” আমি বললাম, ‘ওরা যা বলছে তার ভাবাথ এই—হে বাংগালীর মেয়ে,-আমাদের দেশে এসে তোমরা ভারি নবাব হয়েছ, চিকের আড়ালে দোতলায় বসে আছ—কিন্তু কলকাতায় তো তোমরা তামাক টিকেও বিক্রি কর শুনেছি।” আমার মন্ত্রী শনিয়া গালে হাত দিয়া বলিলেন, “ওমা কি হবে!" গ্রীষ্মকাল আসিল। আমার বাড়ীর চারিদিকের তালগাছগুলিতে পাসীরা তাড়ির জন্য “লাবনি” বাঁধয়াছে। প্রত্যহ প্রভাতে চারিদিক হইতে পাসীদের চীৎকার শুনা যায় —“তার চিঢ়ো"--অর্থাৎ—“আমি তালগাছে চড়িতেছি—কুলবধগণ, তোমরা উঠান হইতে পলায়ন করিয়া ঘরের মধ্যে লুকাইয়া থাক।” গ্রীমের ছটিতে মন্সী জোয়ালাপ্রসাদের পয়টি পাটনা হইতে আসিল। সহরে ইংরাজি জানা লোকের সংখ্যা অংপ বলিয়া আমার সহিত তাহার বন্ধ ভাব জন্মিল। তাহার নাম সুন্দরলাল। আমি তাহার পিতৃবৈরি হইলেও আমার কাছে সে সর্বদা আসিত। মাঝে মাঝে আমরা একত্র বেড়াইতে যাইতাম । এখনকার বাঙ্গালীদের যেমন "সাহেব” হইবার উচ্চাভিলাষ—সুন্দরলালের দেখলাম সেইরাপ বাংগালী হইবার ইচ্ছা অত্যন্ত বলবতী। পিতার অগোচরে সে মাঝে মাঝে আমার গহে সাধ্যভোজনের নিমন্ত্রণও রক্ষা করিতে লাগিল । লোকটিকে আমার বড় ভাল লাগিত ক্ৰমে দেখিলাম, সে যে শুধু ইংরাজি-শিক্ষালাভ করিয়াছে তাহা নহে একটি আনুষঙ্গিক ব্যাধিও তাহার উৎপন্ন হইয়াছে। সে ব্যাধিটি দাম্পত্য-বিষয়ক। সনাতন প্রথা অনুসারে পিতৃনির্বাচিত কন্যাকে সে আর বিবাহ করিতে প্রস্তুত নহে। বলিল, এই কারণে পিতা তাহার উপর বিরক্ত। আরও কয়েক দিনে বন্ধত্ব একটা ঘনিষ্ঠভাব ধারণ করিল। এক দিন চন্দ্রলোকিত সন্ধ্যায় নদীতীরে আমরা দুইজনে বেড়াইতেছিলাম। সন্দেরলাল সে দিন আমাকে বলিল —সে একটি মেয়েকে ভালবাসে। শনিয়া আমি আশ্চৰ্য্য হইয়া গেলাম। মনে করিতাম, এই ব্যাধি উপন্যাস-প্লাবিত বঙ্গদেশের বাহিরে এখনও বুঝি প্রবেশ করে নাই। জিজ্ঞাসা করিলাম, “তাহার নাম কি ?” ”? কত বড়“ יון דקליי “তাহার বয়স চতুদশ বৎসর।" দেখিলাম—তবে ত ইহা একটি রীতিমত রোমান্সের কান্ড ! বন্ধকে আবার জিজ্ঞাসা করিলাম, “মেয়েটি কোথায় ?” “আমাদের গ্রামে।” আমি জানিতাম মুন্সী জোয়ালাপ্রসাদের বাড়ী সদর হইতে ছয় মাইল দরে পাটোলি । গ্রামে। রহস্য করিয়া বলিলাম, “তাই এত ঘন ঘন বাড়ী যাওয়া হয় বুঝি ?” সুন্দরলাল বলিল, “কোথায় ঘন ঘন যাই ? আসিয়াই একবার গিয়াছিলাম, আর সেদিন আর একবার গিয়াছিলাম মাত্র। প্রথমবার শুধ দেখা পাইয়াছিলাম, তাহার সহিত কথা কাঁহবার সুযোগ পাই নাই। তাই দিবতীয়বার গিয়াছিলাম।” হাসিয়া বলিলাম, “এখানে তবে মরিতেছ কেন ? আমি হইলে ত ছটির কয়ট মাস সেইখানেই থাকিয়া যাইতাম !” সন্দেরলাল বলিল “আকাঙ্ক্ষার যদি অনুসরণ করিতাম, তবে আমিও তাহাই করিতাম । সঙ্গে কথা কহিবার সুযোগ অন্বেষণ করিয়া বেড়াইব । তাহা হইলে নিজেকে সংযত ২৩৬