পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অমায়িকভাবে বলিলাম, “না, উইল করিয়া গিয়াছেন। আমিই সে উইল লিখিয়াছি।” জোয়ালাপ্রসাদ বলিলেন, “তা ভাল। বাড়ীটি আর দুই-দশ টাকা যাহা বড়ার ছিল, তাহা উইল করিয়াছেন বোধ হয়। তাহা বন্ধির কাৰ্য্যই হইয়াছে। ঐ যে পান্নার পিতা, সে বড়ার বিবাহিতা স্মীর সন্তান ছিল না বলিয়া একটা গজব আছে কিনা। উইল না করিলে সম্ভবতঃ ও বাড়ীটি বড়ার ভ্রাতুষ্পুত্র আসিয়া দখল কল্পিত। ওকালতী করিতে কাঁৱতে বড়া হইয়া গেলাম, সবই বুঝিতে পারি।”—বলিয়া তিনি একটু কাঠহাসি iসে ੋੜ মুখ দেখিয়া আমি বেশ বঝিতে পারলাম, আসল কথাটাই তাঁহার মনে তোলাপাড়া করিতেছে, অথচ প্রকাশ করিবার সাহস হইতেছে না। নানা অসম্মবন্ধ কথা পাড়িয়া, নিতান্ত অসংলগ্নভাবে, অবশেষে কথাটা বলিয়া ফেলি, লেন। পান্নার সহিত সন্দেরলালের বিবাহের প্রস্তাব করিলেন। আমি মনে মনে ধলিলা, “হে বণ-কেশরী—ধন্য তোমার মহিমা ” জোয়ালাপুসাদকে বলিলাম, “মেয়েটির ঐ যে কুলগত দোষ আছে—তাহাতে আপনার জাতি-ভাই কোনও আপত্তি করিবে না ত ?” জোয়ালাপ্রসাদ বলিলেন, “করিবে । আমি বিলক্ষণ জানি—তাহাঁরা আমাকে একঘরে করিবে। কিন্তু আমরা শিক্ষিত ব্যক্তিরা যদি নিবোধ সমাজ-শাসনের এত ভয় করিয়৷ চলি, তাহা হইলে দেশের কুসংস্কারপন্ন রীতিনীতিগুলি কি কখনও সংশোধিত হইবে বলিয়া মনে করেন নবীনবাব ?” অনেক কস্টে হাস সংবরণ করিয়া গভীরভাবে তামি মাথাটি নাড়িতে লাগিলাম। বলিলাম, “ঠিক ঠিক—উকীল সাহেব। আপনি আপনার বিদ্যাবত্তার উপযুক্ত কথাই "ীপ্রসাদ বললে ইরজি পড়ি নাই বট-কিন্তু সমাজ ও খ সম্বন আমার মতাদি ইংরাজি-শিক্ষিতাঁদগের মতই।” আমি পববৎ গভীরভাবে বলিলাম, “তা বটেই ত ! তা বটেই ত!” জোয়ালাপ্রসাদ বোধ হয় মনে করিলেন তাঁহার এ ভণ্ডামিটকু আমি ধরিতে পারি নাই। তাই উৎসাহিত হইয়া বলিলেন “আচ্ছা নবীনবাব, আপনি ত সন্দেরলালের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্বপপিন করিয়াছেন। একটা কথা আপনাকে জিজ্ঞাসা করি। আমি সম্প্রতি শুনিলাম—সুন্দরলাল পান্নাকে বিবাহ করিবার জন্য পাগল। তাহা সত্য কি ?” জোয়ালাপ্রসাদ উৎসাহের সহিত বলিলেন, “তবে আমার মনের সকল দ্বিধাই এখন কাটিয়া গেল। হউক পান্না কু-জাতি—হউক সে অর্থহীনা-আমার পর যাহাকে হাদয় সমপণ করিয়াছে—আমি তাহকে পত্রবধ করিব। আমার পরের সখ বড়, না আমার জাতি বড়, নবীনবাব ?” হাস্যের এত প্রচণ্ড শক্তি রোধ করিবার ক্ষমতা আমার আছে পথে তাহা জনিতাম না। পঞ্চাবৎ শান্তভাবে বলিলাম, “অবশ্য আপনার পরের সখেই বড়, উকীল সাহেব ' জোয়ালাপ্রসাদ বলিলেন, “তবে আপনার মত আছে ?” আমি কিয়ংক্ষণ চিন্তা করবার ভাণ করিলাম। জোয়ালাপ্রসাদের মুখ কালিমাময় হইয়া আসিতে লাগিল। তাহার মনে হইল, তবে বঝি বা আমি অমত করি। আমাকে নিরক্তর দেখিয়া জোয়ালাপ্রসাদ বললেন, “সন্দেরলাল যখন আপনার প্রিয় বন্ধ তখন অবশ্যই তাহার শুভ ইচ্ছা আপনি করিবেন।” শেষে আমি বললাম—“আমার মত আছে।” শনিয়া বৰ্ণলোভী বন্ধ আনন্দে যেন অধীর হুইয়া উঠিলেন। প্রথমে বর্ণসিংহের অস্তিত্ব বিষয়ে অজ্ঞতার ভাণটুকু দেখাইতে যেরূপ কৃতকায হইয়াছিলেন, এখন এই অপরিমিত আনন্দোচ্ছনসটুকু গোপন করিতে সেরাপ কৃতকাৰ্য্য হইতে পারলেন না। অন্য తహ్ర్ ९8x