পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সকল চিত্তবত্তি অপেক্ষা, প্রবল আনন্দ গোপন করাই বোধ হয় মানষের পক্ষে সবাপেক্ষা কঠিন। - পান্না-সন্দরলালের বিবাহ হইয়া গিয়াছে। উইলের প্রোবেট লইয়াছি। পান্নার হাজার টাকা, তাহার নামে কোম্পানির কাগজ কিনিয়া দিব বলিয়া রাখিয়া দিয়াছি। সিংহটি জোয়ালাপ্রসাদ লইয়া গিয়াছেন। বিবাহের সপ্তাহখানেক পরে, আবার নিশীথের শান্তিভঙ্গ করিয়া আমার সদর দরজায় শব্দ উত্থিত হইল—“বাব-এ লোবিন বাব!” - বাহিরে আসিয়া দেখিলাম, লন্ঠনহস্তে একটা ভূত্য দাঁড়াইয়া আছে। তাহার পশ্চাতে . পান্না ও সন্দেরলাল। আশচষ্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “কি হে ? ব্যাপার কি ?” “ভিতরে চল—বলিতেছি।” ভূতাকে বিদায় দিয়া সন্দেরলাল পান্নাকে লইয়া আমার অঙ্গনে প্রবেশ করিল। বলিল, “বাবা আমাদিগকে তাড়াইয়া দিয়াছেন।” “সে সোণার সিংহটা সমস্ত সোণার নহে। খাব পাতলা সোণার পাতে উপরটা মোড়া ছিল। ভিতরটা সমস্ত তামা। বাবা পবেই বলিয়ছিলেন, উহা গলাইয়া বিক্রয় করিয়া কোম্পানির কাগজ কিনিয়া রাখবেন: নহিলে ডাকাইতে কোনদিন সিংহটা লইয়া যাইবে। আজ সন্ধ্যা হইতে গলানো হইতেছিল। দুইশত টাকার আন্দাজ সোণ বাহির হইয়াছে —বাকী সমসত তামা; বাবা ক্ৰোধে ক্ষিপ্তের মত হইয়াছেন। দর দরে করিয়া আমাদিগকে বাড়ী হইতে তাড়াইয়া দিলেন।" আমার সন্ত্রী অন্ধকারে বারান্দায় দাঁড়াইয়া সমস্ত শুনিতেছিলেন। তাড়াতাড়ি আসিয়া পান্নার হাত ধরিয়া তাহাকে নিজকক্ষে লইয়া গেলেন। আমি সন্দেরলালকে লইয়া একটি কক্ষে বসিলাম । জ্যৈষ্ঠ, ১৩১১ ] মুক্তি প্রথম পরিচ্ছেদ লন্ডনে একটি বিদ্যুৎ-আলোকিত কক্ষে একজন বঙ্গীয় যবেক একাকী বসিয়া ছিল। কক্ষটি অনতিপ্রশস্ত। মধ্যপথলে একটি টেবিল, তাহা গৈরিকবণের “বেজ” কাপড়ে আবত। চারিপাশে চারিখানি চেয়ার রহিয়াছে। কিছু দরে জানালার কাছে একটি সোফা। দেওয়ালের কাছে একথানে একটি পস্তকের আলমারি, তাহার মধ্যে ডাক্তারি শাসের অনেকগুলি পাতক সারবন্ধ রহিয়াছে। আলমারির মাথায় খানকতক “ডেলি নিউজ" সংবাদপত্র এবং কয়েকখানা সচিত্র মাসিকপত্র গোছান আছে। অপর পাশের দেওয়ালে অগ্নিকুড়ের কয়লাগুলি ধিকি ধিক জলিতেছে। কুণ্ডের কিঞ্চিৎ উদ্ধের ম্যাটেল-প্লেস-—তাহার মধ্যভাগে একটি ঘড়ি। দই পাশেব কয়েকখানি ফোটোগ্রাফ ও টকিটাকি সৌখীন দ্রব্য সাজান আছে। ফোটোগ্রাফের মাত্তিগুলি অধিকাংশই সেইদেশীয়। বাকীগুলির একখানিতে একটি বৎগীয় যাবতীর মুখ রহিয়াছে। যবেকটির নাম চারুচন্দ্র চৌধুরী। সে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম-বি পরীক্ষায় সম্প্রতি উত্তীণ হইয়া লন্ডনে আসিয়াছে; আই-এম-এস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হইতেছে। এই বাড়ীটি লন্ডনের কেনসিংটন নামক অংশে অবস্থিত। চার পর্বে অনেকবার এই १8२