পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিমানী বলিল—“মণি, আমি মনে করিয়াছিলাম, আমার নারীজন্ম বিফল হইবে । কিন্তু এখন তাহা কতকটা সফল করিতে পারিলাম মনে হইতেছে! তুমি যদি ব্যাঘাত না দাও তবেই হয়।” মণিভূষণ বলিল—“সে কি হিমা। আমি ব্যাঘাত দিব ?” হিমানী জড়ান জড়ান এলান এলান কথায় ধীরে ধীরে বলিল—“দেখ, আমার শরীরের খাহা সার পদার্থ-রক্ত—তাহা আমি নবদগৰ্শকে দিলাম। উহার আত্মা লইয়া যদি আমার আত্মাটাও উহাকে দিতে পারতাম, তাহা হইলে সম্পর্ণেভাবে ওই তোমার হিমানী হইতে পারিত।” মণিভূষণ নীরবে দই বিন্দ আশ্র মোচন করিল। হিমানী বলিল—“মণি, আমার কি নেশা হইয়াছে ? আমি যেন কত কি দেখিতেছি, শনিতেছি। ভার আশ্চৰ্য্য। ভারি চমৎকার ; যেন ঈশ্বর আমাকে লইতে পাঠাইয়াছেন, দেবদাতেরা আসিয়াছে। আমি ত যাইব না, নবদগণ যাউক ৷” মণিভূষণ বলিল—“হিমা, তুমি অমন করিতেছ কেন ? অার একট দধে দিব ?” হিমানী আবার দগধ পান করিল। আবার একটু সস্থে হইয়া বলিল--"কতকগলো কি সবগ্ন দেখিতেছিলাম, কিন্তু বড় চমৎকার সবগন। দেখ মণি আমি যেন নবদগণ হইয়া জমিয়াছিলাম, আর তোমার সঙ্গে আমার বিবাহ হইতেছিল। আমি যদি নবদগী হইয় জন্মাই, তবে তুমি কি আমায় এমনি ভালবাসিবে ?” মণিভূষণ বাপাকুলসবরে বলিল—“হাঁ হিমা, এমনিই ভালবাসিব।" হিমানী বলিল—“তবে কাল প্রাতে আমার আত্মা নবদ্গার সঙ্গে বিনিময় করিব।” এই সময় নিশীথ নিস্তবধতা ভঙ্গ করিয়া দরে কোন একজন হিন্দপথানী গলা কাঁপাইয়া গাহিয়া উঠিল ৪— সুখসাগরমে আয়কে ন যাইও রে পেয়াসা। হিমানীর কাণে এই গান পেপছিল, সে জাগিয়া উঠিল। জ্যোৎস্নার আলপালোকে মণিভূষণের মলান মুখখানির পানে চাহিল। মণিভূষণ তখন হিমানীকে নিদ্রাতুর, দেখিয়া যাইবার উদ্যোগ করিতেছে। হিমানী ডাকিল—“মণি”। মণিভূষণ এই সোহাগের সবরে গলিয়া উত্তর করিল—“কি হিমা ?” হিমানী বলিল—“মনে পড়ে ?” মণি হিমানীর মুখের পানে চাহিল। হিমানী বলিল—“সেই একদিন কলিকাতায় . যে দিন তুমি আমাকে ফেলিয়া আসিয়াছিলে ?” : £o সেই হিন্দুস্থানী তখনও গলা কাঁপাইয়া পুনঃ পুনঃ গাহিতেছে সখেসাগরমে আয়কে ন যাইও রে পেয়াসা। মণিভূষণের মনে পড়িল। সঙ্গে সঙ্গে একটি সগভীর দীর্ঘনিঃশ্বাস পড়িল। হিমানী —“আমার বড় ঘুম পাইতেছে; সে দিন যাইবার সময় যাহা দিয়াছিলে, তাই দিয়া যাও।” মণিভূষণ হিমানীর বিবৰ্ণ শীতল ওঠাধরে একটি প্রগাঢ় চমবন অঙ্কিত করিল। হিমানী বলিল—“সেবারে দইজনেই মনে করিয়াছিলাম, এই দেখা শেষ দেখা। কিন্তু আবার দেখা ত হইল। সে দিনের বিদায়-চম্বনের যাহা গণ ছিল, এটিতেও যেন তাহাই থাকে। আবার যেন দেখা হয়। আমার ঘুম পাইতেছে, এখন তুমি যাও।” মণিভূষণ বাহির হইয়া গেল। হিমানীকে একাকী রাখিয়া আসিয়া তাহার মনে নানারপ আশঙ্কা হইতে লাগিল। ভাবিয়া চিন্তিয়া সে তাহার শালাজকে হিমানীর শয়নকক্ষে পাঠাইয়া দিল। তিনি গিয়া দেখিলেন, হিমানীর বিছানা রক্তে ভাসিয়া গিয়াছে, বকে হাত দিয়া দেখিলেন, হৃৎ-স্পন্দনও থামিয়াছে। নিঃশ্বাসও বহিতেছে না। リグ砂入砂え 6oiR60i blogspot.com