পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কি নিৰ্ম্মলা বাঁচিয়া নাই ? নিজের প্রতি ধিক্কারে মনে হইল,—“যদি তাহা হয়, তবেই আমার উপযুক্ত শাস্তি হয়!" আবার বিছানায় মাখ লকাইয়া নরেন অশ্রপাত করিল। কিন্তু তাহার অন্তরাত্মা, কিছতেই নিম্মলার মৃত্যু-কল্পনা করিতে চাহিল না। সে আশা করিতে লাগিল, চিঠির গোল হইয়া থাকিবে, আগামী মেলে নিৰ্ম্মলার দুইখানি চিঠি আসিয়া পেছিবে। ক্ৰমে দাবীলতাবশতঃ তাহার চিন্তা করিবার শক্তিও বিলঞ্জে হইল। আবার সে ঘুমাইয়া পড়িল। ঘন্টাখানেক পরে ঘুম ভাগিয়া শুনিল—দাসী দয়ারে ধাক্কা দিতেছে।–“মহাশয়, আপনার জন্য একখানি টেলিগ্রাম আসিয়াছে।” নরেন বলিল, “নেলি, দয়ার একটু ফাঁক করিয়া ভিতরে ফেলিয়া দাও।”—দাসী তাহাই করিয়া চলিয়া গেল। - নরেন টেলিগ্রাম খলিয়া দেখিল, চারর নিকট হইতে আসিয়াছে। সে জিজ্ঞাসা করিতেছে, আজ সন্ধ্যাবেলা নরেন গিয়া Hotel Cecil-এ তাহার সহিত ডিনার খাইতে পারে কি না। টেলিগ্রাম পড়িয়া নরেন ভাবিল, তবে নিম্নমালা সম্বন্ধে আশঙ্কা নাই। মন্দ সংবাদ কিছ থাকিলে, চার তাহার বাড়ীর চিঠিতে জানিতে পারিত এবং তাহাকে ভোজের উৎসবে নিমন্ত্রণ করত না। : .* নিজের প্রতি বিরাগ আবার তাহার মনে উথলিয়া উঠিল। ভাবিল, “এখন আমার শরীরের উপর অ্যালকোহলের শেয় ফল, অবসাদের প্রভাব বৰ্ত্তমান। এই অবসন্ন অবস্থায় আমার মনে অনুতাপ প্রভৃতি যাহা উদিত হইয়াছে, আমার শোণিত আবার স্বাভাবিক সবলতা প্রাপ্ত হইলে তাহা টিকিবে কি ? হয় ত আবার এ সব ভুলিব, প্রলোভনের আকর্ষণে পড়িব, অধঃপতনের সোপানে অবতরণ করিতে আরম্ভ করব। এখন আমার এরপে অবস্থা; কিন্তু সন্ধ্যাবেলা আবার যে আলসকোটে ছটিব না, তাহা কে বলিতে পারে? নিজের প্রতি আমার আর তিল মাত্র বিশ্বাস নাই, শ্রদ্ধা নাই। আমার আর মন্তি নাই, মন্তি নাই।”—আবার সে কিয়ৎক্ষণের জন্য বিছানায় মুখ লকোইল । চিন্তা করিয়া দেখিল, এই যে চার আমায় ডিনারে নিমন্ত্ৰণ করিয়াছে, এটা বড় পরিত্রাণ। আমি এ নিমন্ত্রণ গ্রহণ করিয়া টেলিগ্রাম করিব। সেখানে গেলে, আজ আলাসকোটে যাইবার পথ বন্ধ হইয়া যাইবে। আজিকার মত অন্ততঃ পরিত্রাণ হইবে। তাহাই লাভ ৷ এই ভাবিয়া নরেন সমান করিতে গেল। নানান্তে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করিয়া চারকে টেলিগ্রাম পাঠাইল । সন্ধ্যাবেলা হোটেল সোঁসলের একটি কক্ষে চার তাহার দাদা ও বউদিদি এবং নিমেলা : খসিয়া ছিলেন। বউদিদি বললেন, “চার, অামার চিঠি তুমি কখন পেলে? মাসেলস । কল গেল ল অনা হত নাম Iম।” চার বলিল, “আমি আপনার চিঠি কাল রাত্রে পেলাম।” "নিৰ্ম্মলা আমাদের সঙ্গে আসছে, তা ঘৃণাক্ষরেও নরেনকে জানাগুনি ত? আগে ত কিছু ঠিক ছিল না। ছাড়বার দই একদিন আগে নিৰ্ম্মলার মা এসে বললেন, ডাক্তার খলছে সমদ্রযাত্রায় নিন্মলার শরীরে খুব উপকার হবে, তা তুমি ওকে সঙ্গে করে নিয়ে গাও। নরেনকে একটা খুব pleasant surprise দেবার জন্যে নিমালাকে বারণ করে দিলাম, তুই নরেনকে কিছু লিখিসনে।’ তোমাকেও তাই লিখলাম, কিছ নরেনকে যেন বোলো না। কেবল কৌশলে তাকে নিয়ে এস।” চার ঘড়ি খলিয়া বলিল, “আর ত দেরী নেই। সাতটা বেজেছে। এখনই নরেন এসে হাজির হবে।” - २4१ * 9- اج