পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চক্ষের দই ফোঁটা জল রমালে মছিয়া, বাক্স-তোরঙ্গ গোছাইতে উপরে উঠিয়া গেলাম । I ভাদ্র ১৩১১ } পনমষিক প্রথম পরিচ্ছেদ গ্রীষ্মকাল। বারীন্দ্রনাথের সাধ্যভোজন শেষ হইয়া গিয়াছে—আটটা বাজিয়াছে--কিন্তু এখনও লন্ডনে সপেস্ট দিবালোক। জন মাসে রাত্রি নয়টার পরে অন্ধকার হয় না। বারীন্দ্রনাথ বেজওয়াটারে থাকিত, আইন পড়িত—অন্ততঃ আইন পড়িবার জন্যই তাহার খড়া মহাশয় তাহাকে বিলাতে পাঠাইয়াছিলেন। সে দুই বৎসর অসিয়াছে— কিন্তু এখনও কোনও পুস্তকাদি ক্ৰয় করিবার কিবা আইনের বক্তৃতা শনিবার সুবিধা করিয়া উঠিতে পারে নাই। সম্প্রতি সে একটি ভীষণ প্রতিজ্ঞা করিয়াছে। এবার দেশ হইতে টাকা আসিলেই সে দুই একখানি আইনের বহি ক্লয় করিবে এবং গ্রীমের বন্ধের পর টম আরম্ভ হইলেই রীতিমত লেকচর শনিতে যাইবে। অধিক কি, সে আজ দই সপ্তাহে কোনও থিয়েটারে যায় নাই এবং গত রবিবার মিস ম্যানিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়া আসয়াছে। ল্যাণ্ডলেডি আসিয়া টেবিল পরিকার করিতে লাগিল। সিগারেট মুখে বারীন্দ্র বলিল—“মিসেস ব্রাউন।” - “কি মহাশয় ?” “আমাকে দশ শিলিং ধার দিতে পায় ?” - এপ্রন-বস্ত্ৰে হাত মুছিতে মাছিতে মিসেস ব্রাউন বলিল, “দশ শিলিং ? মিস্টার চাটাডিজ, আমি বড় দুঃখিত হইলাম। আমার কাছে ত নাই। তিন সপ্তাহ আপনার বিল বাকী গড়িয়া গিয়াছে--সেই জন্য আমাকে অনেক কটে চালাইতে হইতেছে। দধওয়ালা দাম লইতে আসিয়াছিল, তিনবার ফিরাইয়া দিয়াছি। মাংসাবক্লেতাকে—” বারীন্দু বাধা বলিল, “মিসেস ব্রাউন।” “ও সব আমাকে বলিয়া কোন ফল আছে কি ? দেখ, আগামী সপ্তাহে দেশ হইতে আমার টাকা আসিবে। কুড়ি পাউণ্ড আসিবে, এক আধ টাকা নয়। তোমার বিশ্বাস না হয়, এই দেখ আমার বাড়ীর চিঠি।” x - বলিয়া, পকেট হইতে একখানা বাঙ্গালা চিঠি বাহির করিয়া বারীন্দ্র সগবে মিসেস ব্রাউনের সম্মখে ফেলিয়া দিল। তাহার পর মুখ টিপিয়া টিপিয়া হাসিতে লাগিল। মিসেস ব্রাউন পত্ৰখানা লইয়া আলোকের নিকট ধরিয়া উলটিয়া পালটিয়া দই মিনিট কাল নিরীক্ষণ করিল। শেষে বলিল, "এ কোন ভাষা মহাশয় ?” “কোন ভাষা কি ? বাঙ্গলা—বাঙ্গলা—পড়িতে পারিতেছ না ?” “বাঙ্গলা : Dear me !—তা, আমি কি বাঙ্গলা জানি মহাশয় ?” “বাঙ্গলা জান না ?” “না মিস্টার চাটাডিজ"।” “I see—আমি মনে করিতাম তুমি বাঙ্গলা জান বঝি। আচ্ছা, সেই স্থানটা তোমায় অনুবাদ করিয়া শনাইতেছি।” বলিয়া, বারীন্দ্র উঠিয়া ল্যাণ্ডলেডির নিকট গেল। পত্ৰখানি হাতে লইয়া ইতস্ততঃ দুটি করিয়া বলিল, এই রী কিছ-এনাল অসন্ত ন পলিছে।