পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালো গণেটের কোট পরিয়া, সোণার চেন ঝালাইয়া, বানিশ করা জনতা পায়ে দিয়া, টেরি কাটিয়া, সগন্ধি মাখিয়া, রপা-বাঁধান ছড়ি হাতে করিয়া তিনি একদিন আমাদের বাড়ীতে আসিয়া উপস্থিত। আমাকে দেখিলেন, আমার নাম জিজ্ঞাসা করিলেন, কি লেখা পড়া করি জিজ্ঞাসা করিলেন;–আমার লজ্জাও নাই, সয়মও নাই, বিধাও নাই, সঙ্কোচও মাই-মাখ মাটির দিকে না নামাইয়া তাঁহার পানে নিভীক নেত্রপাত করিয়া পাট কথায় চটপট সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিলাম। তিনি চলিয়া গেলে বাড়ীর লোকের কাছে আমাকে ভৎসনা শুনিতে হইল। সবাই বলিল—“তোর কি ভয়, লজ্জা কিছুই নেই ? লেখা পড়া শিখেছিস বলেই কি আমন বাহাদরী না করলেই নয়?” আমি ভাল মন্দ কিছই বললাম না। কিছ দিন পরে সংবাদ আসিল, পাত্র বিবাহ করিতে সম্মত হইয়াছেন। আমরা যাহা দিব তাহাতেই রাজি। ফল-কথা আমাকে বিবাহ না করিয়া ছাড়িবেন না। ভাবিলাম, তা না ছাড়ন। বিবাহ যখন আমাকে করিতেই হইবে, তখন আর কথা কি ? রামে মারিলেও মরিব, রাবণে মারিলেও মরিব । শুভদিনে শুভক্ষণে বিবাহ হইয়া গেল। পরদিন বশরেবাড়ী যাত্রা করিলাম। শ্রীরামপুরের নিকট আমার বশরবাড়ী। আমার স্বামী একমাসের ছটি লইয়া বাড়ী আসিয়াছিলেন। আমি নববধ—নববধরে যেরপ লজা সরম থাকা আবশ্যক, আমার সেরাপ নাই দেখিয়া কেহ কেহ নিন্দা করিল। বাশড়ী বলিলেন--"আহা, তা হোক --ছেলেমানষে—বধি হলেই সব হবে এখন।” আমার সম্বন্ধে কে কি বলিল কে কি ন। বলিল তাহা আমি গ্রাহ্য করিতাম না; নিজের পড়াশনা লইয়াই থাকিতাম। পড়াশনার জন্যও কিছু কিছু বিদ্রুপ সহিতে হইয়াছিল। সপ্তাহকাল ছিলাম। স্বামী আমার মন ভুলাইবার জন্য প্রতিরাত্রেই কিছ-না-কিছ মতন জিনিষ উপহার দিতেন। নিম্প হস্য তৃণং জগৎ। আমি লইতাম—কিন্তু মনে মনে হাসিতাম। আমি বলবিয়ছিলাম, পথিবী অসার, ইহলোকের সখ দুঃখ কিছুই সত্য নহে—আমি দুইটা ফলের তোড়া অথবা দই শিশি গন্ধ লইয়া কি করিব ? তব লইতাম;—স্বামীর মনে ব্যথা কট দিবার প্রয়োজন কি ? স্বামী আমাকে আদরে সোহাগে ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিলেন। ঠিক ভাল লাগিত না বলিতে পারি না। জনকজননীর জীবিত কালে আদর সোহাগ আমার প্রচরে পরিমাণেই ছিল, দই বৎসর যাবৎ আমি তাহা হইতে বঞ্চিত হইয়াছিলাম। সবামীর . আদর শকিহন্দযে নববর্ষার জলবিন্দর মত বোধ হইত। কিন্তু বড় ভয় করিত। নিজনে ঈশ্বরের নিকট প্রাথনা করিতাম, “হে দয়াময় প্রভু, যেন সংসারের মায়াকুহকে ভুলিয়া যাই না, রক্ষা করিও।”—বধজনোচিত লজার অভাবে অন্যের কাছে নিন্দাভাজন হইতাম বটে, কিন্তু স্বামী তাহাতে সন্তুষ্ট ছিলেন বঝিতে পারিতাম। একে তিনি একটা বেশী বয়সে বিবাহ করিয়াছেন,—তাহার উপর আবার কাঁচিয়া ছেলেমানষে সাজিয়া ষে কচি খাকীটির মত লজ্জা ভাঙ্গাইতে হইল না, ইহাতে তিনি আমার প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন। সাতদিন শবশুরবাড়ীতে থাকিয়া আমি পিত্রালয়ে ফিরিলাম। স্বামী আমার সঙ্গে “যোড়ে" আসিলেন। বাড়ীর লোকে তাঁহাকে লইয়া কত আমোদ করিল। তাঁহার ছয়টি ক্রমে ফরাইয়া আসিল, তিনি দেশে ফিরিলেন। যাত্রা করিবার সময় দেখিলাম, তাঁহার বিবাহের পর প্রায় তিন বৎসর কাল আমি বরাহনগরে রহিলাম। পজো ও বড়দিনের চক্ষু ছলছল করিতেছে। আমাকে বলিয়া গেলেন—“চিঠি লিখো।” : ছটিতে স্বামী আসিতেন। আমাকে লইয়া যাইবার জন্য কয়েকবার বন্দোবসত করিয়া- . ছিলেন, কিন্তু একটা না একটা বিঘ্যবশতঃ হয় নাই; একবার সব ঠিকঠাক;—শেষ মহমত্তে পত্র আসিল সাহেব তাঁহাকে ছয়টি দিল না। আর একবার যাইবার সময় আমার পীড়া উপস্থিত হইল। আরও একবার ঐ রকম কি একটা ব্যাঘাত হয়। ই তিন বদর ইট শিৰ জলতু কম লি প্রথম দাদার বিবাহ *