পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কথা পাবেই নলিনীবার অবগত ছিলেন, এবং সেইজন্যই বিশেষতঃ, এবার এলাহাবাদ যাইবার জন্য তাঁহার এত অধিক আগ্রহ। দিনাজপরের মেজদির উপর তাঁহার বিলক্ষণ রাগ আছে—তাই তাঁহার সাঁহত এখন একবার সাক্ষাতের জন্য তিনি বড় ব্যস্ত। কিন্তু সে ব্যাপারটি কি, বঝোইতে হইলে, মেজদির একট পরিচয় এবং নলিনীর বিবাহ-বাসরের একট, ইতিহাস বিবত করা আবশ্যক। মেজদির স্বামী মহা সাহেব লোক—তিনি দিনাজপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। মেজদির নামটি উল্লেখ করিলেই সকলেই তাঁহাকে অনায়াসে চিনিতে পরিবেন। শ্রীমতী কুঞ্জবালা দেবীর স্বাক্ষরিত ওজস্বিনী স্বদেশী কবিতাগলি বৰ্ত্তমান-সময়ের মাসিক পত্রাদিতে কে না পাঠ করিয়াছেন ? সৌভাগ্যবশতঃ ফলার সাহেব বাঙ্গালা জানেন না, জানিলে এতদিন কুঞ্জরালার স্বামীর চাকুরিটি লইয়া টানাটানি হইত। কুঞ্জবালা বিদষী, সতরাং বলাই বাহুল্য তাঁহার রসনাটি ক্ষুরধার। তিনি ইংরাজিতে শিক্ষিতা, সতরাং তাঁহার আইডিয়াল’ সাববিষয়ে সাধারণ বংগললনা হইতে বিভিন্ন। দষ্টান্ত স্বরুপ বলা যাইতে পারে, একবার তাঁহার এক দেবর এক শিশি সুগন্ধি কিনিয়া আনিয়াছিল। দেখিয়া কুঞ্জবালা জিজ্ঞাসা করিলেন—“ও কার জন্যে এনেছিস ?” “নিজে মাখব।” “দর—ও জিনিস ত কেবল স্ত্রীলোকে আর বাবতে মাখে;—পরষমানুষ কখনও সুগন্ধি ব্যবহার করে ?” বালক দেবরাট, বউদিদির তীক্ষ বিদ্রপ বঝিতে না পারিয়া ভালমানষের মত বলিয়াছিল, “কেন ? বাবরা কি পরষ নয় ?” নলিনীবাবর যখন বিবাহ হয়, তখন তাঁহার মাত্তিটি দিব্য গোলগাল নন্দদলালি ধরণের ছিল । গাল দুইটি টেবো টেবো, হাত দুখানি নবনীতোপম, প্রকোষ্ঠদেশের কোমল অথিগুলি কোমলতর মাংসে সম্পর্ণেভাবে প্রচ্ছন্ন। শীলতার অনুমোদিত না হইলেও, বিবাহ-বাসরে কুঞ্জবালা নলিনীর দেহখানির প্রতি বিদ্যুপের তীক্ষ বাণ নিক্ষেপ করিবার প্রলোভন সম্বরণ করিতে পারেন নাই। রবীন্দ্রবাবর কাব্য কিছু কিছু পরিবত্তন করিয়া তিনি বলিয়াছিলেন – নলিনীর মত চেহারা তাহার নলিনী যাহার নাম কোমল কোমল কোমল অতি যেমন কোমল নাম । যেমন কোমল, তেমনি বিকল, তেমনি আলস্য ধামনলিনীর মত চেহারা তাহার নলিনী যাহার নাম। একটি শেলষবাক্য মনুষ্যকে যেমন সচেতন করে, দশটি উপদেশবচনেও সেরাপ হয় না। সেই শেলষবাক্য যদি সন্দরামখনিঃসত হয় এবং সেই সন্দরী যদি, সম্পকে শ্যালিকা হন, তাহা হইলে একটি শেলষবাক্যের ফল শতগণ সাংঘাতিক হইয়া উঠে। বিবাহের পর নলিনীবাব কলিকাতায় ফিরিয়া আসিলেন, তাঁহার শবশরে মহাশয়ও সপরিবারে কম থান এলাহাবাদে চলিয়া গেলেন। কিন্তু বিদষী শ্যালিকার ব্যঙ্গ নলিনী কিছুতেই বিস্মত হইতে পারলেন না। একদা সন্ধ্যায় পোস্ট আফিস হইতে বাসায় ফিরিয়া, ঈজিচেয়ারে পড়িয়া, নলিনীবাব ধমপান করিতেছিলেন, এমন সময় সহসা তাঁহার মনে একটা মৎলবের উদয় হইল —কেন, তিনি ত চেণ্টা করিলেই এ কলক মোচন করিতে পারেন—শরীর পরিষোচিত দঢ় করিতে পারেন। পরদিন বাজার হইতে তিনি স্যান্ডোর ডাবেলাদি ক্লয় করিয়া আনিয়া, বাড়ীতে রীতিমত ব্যায়াম অভ্যাস 5 যত্নবান হইলেন। নিজ দৈনিক খাদ্য२४