পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় আমাদের উভয়ের গরলাভ। লেন। বলিলেন, সেখানে একজন গুপ্তবিদ্যায় পারদশী পরম জ্ঞানীপুরুষের দশন পাইয়াছেন, সেখানে উপদেশাথে গমন করেন। দাদা যাহাই শিখন, ভবিষ্যতে একদিন আমিও তাঁহার সেই বিদ্যার অধিকারিণী হইব, এই আশায় উৎফুল্ল হইতাম। দাদা সেখানে কি শিখিয়াছিলেন না শিখিয়াছিলেন সে পরিচয়লাভ আর আমার অদূটে ঘটে লাই, কিন্তু প্রত্যক্ষ দেখিলাম, তাঁহার উপদেষ্টা স্বীয় পঞ্চদশবর্ষীয়া ভগ্নীটিকে দাদার গলায় বধিয়া দিলেন;–দাদা বিবাহ করিলেন। আত্মীয়-স্বজন ইহাতে সকলেই সখী। দাদার বয়স তখন প্রায় বিংশব্য’। দাদা বললেন–“মহাত্মাগণ এত দিনে আমার বিবাহে অনুমতি দিয়াছেন।” যাহা হউক, বিবাহ করিয়া শাসচিচ্চায় দাদার আগ্রহ বাড়িল বই কমিল না। যোগশাস্ত্র সম্বন্ধে নিত্য নতন গ্রন্থাদি বোম্বাই ও কাশী হইতে আসিতে লাগিল। আমি ক্ৰমে উপযুক্ত হইতেছি বিবেচনা করিয়া দাদা আমাকেও যোগের দুই চারিটি জিনিষ শিখাইতে লাগিলেন। লেখা পড়া আমি যত শীঘ্ৰ শিখিয়ছিলাম, এগুলি কিন্তু তত শীঘ্ৰ আয়ত্ত করিতে পারিলাম না। একদিন দাদা রাগ করিয়া বলিলেন – "তোর কম নয়,—তোর মন চঞ্চল হয়েছে।” আমার মুখ শুকাইয়া গেল। ধরা পড়িলাম। বাসতবিকই ইদানীং আমার মনে চাঞ্চল্য আসিয়াছিল। মাঝে মাঝে একখানি হাসিমাখা, স্নেহভরা মখ মনে পড়িয়া দেহমন অবশ করিয়া দিত। সে দিন সমস্ত রাত্রি জাগিয়া কাঁদিলাম আর প্রার্থনা করিলাম—হা জগদীশ, এত শিখিলাম, এত সাধনা করিলাম, আমার সব ব্যথা হইবে ? ফিরিতে হইবে জানিলে, এ পথে কে পদাপণ করিত ! আমি কি এখন সব ছাড়িয়া বেশবিন্যাস করিয়া, নাটক পড়িয়া, স্বামীকে প্রণয়-পত্র লিখিয়া দিন কাটাইতে পারিব ? বাসদেব ! কুরক্ষেত্রে তুমি পাণ্ডবদিগকে জয়শ্রী দান করিয়াছিলে, আমার এই মানসক্ষেত্রে আসিয়া বরাভয় মত্তিতে দশন দাও—আমি মোহরাপ দৰ্য্যোধনকে সংহার করি। তুমি জগতের স্বামী—তুমি আমারও স্বামী;-—তোমার ভাবনা ছাড়া আর কাহারও ভাবনা আমার মনে যেন প্রবেশ করিতে না" পারে। ইহার পর দ্বিগণ উৎসাহের সহিত যোগচচ্চায় মনোনিবেশ করিলাম। অজপাসাধন, ষট চক্ৰ, নাদ ও মদ্রার একটা মোটামুটি ধারণা জন্মিল। কিন্তু মনে সেই গুপ্ত চাঞ্চল্য সক্ষপণেরপে দরে করিতে কৃতকাৰ্যর্ণ হইলাম না। সে ভাবনাকে যত বলিতাম--তাসিও না, তত সে আসিয়া মনের দয়ারে মাথা কুটাকুটি করিত। তথাপি আমি কিছু কিছ: শিখিলাম। এই সময় একদিন গুপ্তবিদ্যায় পারদর্শ “ দাদার সেই বন্ধু—আপাততঃ শ্যালক-স্বীয় গর দেবের সঙ্গে আসিয়া দশন দিলেন। গরদেব উন্নত ললাট গৌরবণ বন্ধ পরিষ, সববাঙ্গ হইতে যেন একটা ব্রহ্মচয্যের জ্যোতিঃ বিকীর্ণ হইতেছে। বয়ঃক্রম পঞ্চাশং বৎসরের কম হইবে না । চক্ষে ও ওঠোধরে প্রশান্ত হাস্যরেখা দেদীপ্যমান ! তাঁহার সঙ্গে দই তিন দিন শাসালাপ করিয়া দাদা আমাকে বলিলেন—“হরি, আমরা ই’হার নিকট দীক্ষাগ্রহণ করি আয়; সৰবশাস্ত্রবিশারদ মহামহোপাধ্যায় সাক্ষাদশী পন্ডিত, —এমন গরালাভ সকলের আদলেট ঘটে না।” উপযুক্ত দিনে আমরা ভাই বোনে তাঁহার নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিলাম। এতদিন আমি ইস্টদেবতাবিহীন ছিলাম; ইস্টদেবতা পাইয়া এইবার সাধনার সুবিধা হইল। ত্রিসন্ধা ইন্টমন্ত্র জপ করিতে লাগিলাম। পাজার ধম দেখে কে! কিছুদিন পরে গরদেব কলিকাতায় গেলেন। দাদা তাঁহার সঙ্গে গেলেন। তাঁহার হাতে পায়ে ধরিয়া সম্মত করিয়া বহনব্যয়ে সাহেব-বাড়ীতে তাঁহার ছবি তোলান হইল। সেই ছবি বহনব্যয়ে বাঁধাইয়া দাদা 8',